ঢাকা ০৪:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪০২, দুর্ঘটনার শীর্ষে মোটরসাইকেল মতিঝিলে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে গুলি করে ১৭ হাজার ডলার ছিনতাই বাজেট অধিবেশন ৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে, চারদিন দুই বেলা বসবে সংসদ সন্তানহারা পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা: প্রশাসনিক তৎপরতায় দায় স্বীকারে বাধ্য আদ-দ্বীন রামিসা হত্যা মামলার রায়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান বজ্রপাত দেশের বিভিন্ন জেলায় ১১ জনের প্রাণহানি এটি বাংলাদেশের ও গণতন্ত্রের জয় সভাপতি নির্বাচিত হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যস্ত হওয়ার কিছু নেই, জাতিসংঘের সভাপতি পদে জয়ী হয়ে আশ্বস্ত করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বক্তব্যের জেরে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার বিরুদ্ধে মামলা আদ-দ্বীনে  ৬ নবজাতকের মৃত্যু: হাসপাতালের অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি

শিশুশ্রম বন্ধে কমিউনিটি-ভিত্তিক শিশুসুরক্ষা ব্যবস্থার আহ্বান

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:১৭:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ২৩৩ বার পড়া হয়েছে

শিশুশ্রম বন্ধে কমিউনিটি-ভিত্তিক শিশুসুরক্ষা ব্যবস্থার আহ্বান

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শিশুশ্রম বন্ধে টেকসই সমাধান হিসেবে কমিউনিটি-ভিত্তিক শিশুসুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা। তারা মনে করেন, বিশেষ করে নগর এলাকায় শিশুশ্রম মোকাবিলায় সমন্বিত ও বহুমুখী খাতভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষায় শিশুদের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর জন্য নগরভিত্তিক জীবিকায়নের সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে শিশুশ্রম নিরসন সম্ভব।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এডুকো বাংলাদেশের সহযোগিতায় ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) আয়োজিত এক অভিজ্ঞতা বিনিময় অনুষ্ঠানে এসব মতামত তুলে ধরা হয়। ‘অধিকার’ প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি তুলে ধরতে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন ইএসডিও’র নির্বাহী পরিচালক ড. মো. শহীদ-উজ-জামান।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে জানানো হয়, ঢাকা শহরে শিশুশ্রম নিরসনে গৃহীত উদ্যোগগুলোকে আরও কার্যকর করতে অধিকার প্রকল্প কাজ করছে। প্রকল্পের আওতাভুক্ত শিশুদের মধ্যে ৫৩ শতাংশকে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম থেকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কারিগরি প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্যে শতভাগ যুবক এবং ৮৫ শতাংশ অভিভাবক সম্মানজনক কর্মসংস্থানে যুক্ত হয়ে পরিবারের জীবিকায় অবদান রাখছেন। নিয়মিত পুষ্টিকর স্কুল টিফিন চালুর ফলে কর্মরত শিশুদের গড় উপস্থিতি ৯০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

এ ছাড়া শিশুদের ব্যবহারিক আইসিটি দক্ষতা ও অনলাইন নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন করা হয়েছে, যা তাদের ডিজিটাল ক্ষমতায়ন ও নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারে সহায়তা করছে। শিশুশ্রমিকদের জীবন দক্ষতা শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য, আত্মবিশ্বাস ও সহনশীলতা জোরদারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অভিভাবক ও নিয়োগকর্তাসহ প্রায় ৩০ হাজার কমিউনিটি সদস্যকে শিশুশ্রম, শিক্ষা অধিকার ও শিশু সুরক্ষা বিষয়ে সচেতন করা হয়েছে।

শিশুশ্রম বন্ধে কমিউনিটি-ভিত্তিক শিশুসুরক্ষা ব্যবস্থার আহ্বান
শিশুশ্রম বন্ধে কমিউনিটি-ভিত্তিক শিশুসুরক্ষা ব্যবস্থার আহ্বান

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, শিশুশ্রম জাতীয় উন্নয়নের অন্তরায়। তাই সুশিক্ষা ও কর্মমুখী কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, শিশুশ্রম নিরসন কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়; এজন্য সরকার, স্থানীয় সরকার, সুশীল সমাজ, বেসরকারি খাত ও কমিউনিটির সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রুহুল আমিন বলেন, বাস্তবভিত্তিক কৌশল ও কারিগরি শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে শিশুশ্রম প্রতিরোধ সম্ভব। বর্তমানে দেশে অন্তত ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করছে, যা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

সভাপতির বক্তব্যে ড. মো. শহীদ-উজ-জামান বলেন, শিশুশ্রম প্রতিরোধ ও পুনর্বাসনে টেকসই কর্মপরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে। নগর উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে আবাসন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সমন্বিত কৌশল যুক্ত করে শিশুশ্রম নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে শিশু ও অভিভাবকরা অধিকার পাঠশালার ভূমিকার প্রশংসা করে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

শিশুশ্রম বন্ধে কমিউনিটি-ভিত্তিক শিশুসুরক্ষা ব্যবস্থার আহ্বান

আপডেট সময় : ০৮:১৭:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

শিশুশ্রম বন্ধে টেকসই সমাধান হিসেবে কমিউনিটি-ভিত্তিক শিশুসুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা। তারা মনে করেন, বিশেষ করে নগর এলাকায় শিশুশ্রম মোকাবিলায় সমন্বিত ও বহুমুখী খাতভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষায় শিশুদের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর জন্য নগরভিত্তিক জীবিকায়নের সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে শিশুশ্রম নিরসন সম্ভব।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এডুকো বাংলাদেশের সহযোগিতায় ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) আয়োজিত এক অভিজ্ঞতা বিনিময় অনুষ্ঠানে এসব মতামত তুলে ধরা হয়। ‘অধিকার’ প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি তুলে ধরতে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন ইএসডিও’র নির্বাহী পরিচালক ড. মো. শহীদ-উজ-জামান।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে জানানো হয়, ঢাকা শহরে শিশুশ্রম নিরসনে গৃহীত উদ্যোগগুলোকে আরও কার্যকর করতে অধিকার প্রকল্প কাজ করছে। প্রকল্পের আওতাভুক্ত শিশুদের মধ্যে ৫৩ শতাংশকে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম থেকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কারিগরি প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্যে শতভাগ যুবক এবং ৮৫ শতাংশ অভিভাবক সম্মানজনক কর্মসংস্থানে যুক্ত হয়ে পরিবারের জীবিকায় অবদান রাখছেন। নিয়মিত পুষ্টিকর স্কুল টিফিন চালুর ফলে কর্মরত শিশুদের গড় উপস্থিতি ৯০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

এ ছাড়া শিশুদের ব্যবহারিক আইসিটি দক্ষতা ও অনলাইন নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন করা হয়েছে, যা তাদের ডিজিটাল ক্ষমতায়ন ও নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারে সহায়তা করছে। শিশুশ্রমিকদের জীবন দক্ষতা শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য, আত্মবিশ্বাস ও সহনশীলতা জোরদারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অভিভাবক ও নিয়োগকর্তাসহ প্রায় ৩০ হাজার কমিউনিটি সদস্যকে শিশুশ্রম, শিক্ষা অধিকার ও শিশু সুরক্ষা বিষয়ে সচেতন করা হয়েছে।

শিশুশ্রম বন্ধে কমিউনিটি-ভিত্তিক শিশুসুরক্ষা ব্যবস্থার আহ্বান
শিশুশ্রম বন্ধে কমিউনিটি-ভিত্তিক শিশুসুরক্ষা ব্যবস্থার আহ্বান

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, শিশুশ্রম জাতীয় উন্নয়নের অন্তরায়। তাই সুশিক্ষা ও কর্মমুখী কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, শিশুশ্রম নিরসন কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়; এজন্য সরকার, স্থানীয় সরকার, সুশীল সমাজ, বেসরকারি খাত ও কমিউনিটির সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রুহুল আমিন বলেন, বাস্তবভিত্তিক কৌশল ও কারিগরি শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে শিশুশ্রম প্রতিরোধ সম্ভব। বর্তমানে দেশে অন্তত ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করছে, যা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

সভাপতির বক্তব্যে ড. মো. শহীদ-উজ-জামান বলেন, শিশুশ্রম প্রতিরোধ ও পুনর্বাসনে টেকসই কর্মপরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে। নগর উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে আবাসন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সমন্বিত কৌশল যুক্ত করে শিশুশ্রম নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে শিশু ও অভিভাবকরা অধিকার পাঠশালার ভূমিকার প্রশংসা করে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।