মনোনয়ন না পেয়ে রেলপথে আগুন, থমকে গেল রেল, বিপর্যস্ত জনজীবন
- আপডেট সময় : ১১:৪৫:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২৭ বার পড়া হয়েছে
মনোনয়ন না পাওয়ার ক্ষোভে রেললাইনে আগুন এ যেন এখন রাজনীতির নতুন স্বাভাবিকতা। ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে রেলপথে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ফের বন্ধ হয়ে গেছে ময়মনসিংহ-ঢাকা রুটের ট্রেন চলাচল। রাজনৈতিক ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও মনোনয়ন কেন্দ্রিক অভ্যন্তরীণ কোন্দলের আগুনে পুড়ছে রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো, আর চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল সোয়া ৯টা থেকে নিরাপত্তাজনিত কারণে এই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। গফরগাঁও রেলওয়ে ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মো. গোলাম কিবরিয়া জানান, ভোরের দিকে বিক্ষুব্ধ লোকজন রেললাইনের ওপর টায়ার জ্বালিয়ে আগুন দেয়। পরে বিষয়টি নজরে এলে ট্রেন চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
এর আগে মাত্র রাত ১টা ২০ মিনিটে রেললাইন সচল হওয়ায় ৯ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক হয়েছিল ট্রেন চলাচল। কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষোভের আগুনে আবারও অচল হয়ে পড়ে গুরুত্বপূর্ণ এই রেলপথ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত পত্রে ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চুর প্রার্থিতা নিশ্চিত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
মনোনয়ন প্রত্যাশী দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান ও তার ভাতিজা দলের সদস্য মুশফিকুর রহমানের অনুসারীরা এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সহিংস কর্মসূচিতে নামেন।
বিকেলে পৌর শহরের বিভিন্ন সড়কে টায়ার জ্বালানো হয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা গফরগাঁও রেলস্টেশনে ঢুকে স্টেশন মাস্টারকে বের করে দিয়ে কক্ষ তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরে রেললাইনের ওপর টায়ার ও গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন ধরিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করা হয়।
এর ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে একের পর এক ট্রেন আটকে পড়ে। তিস্তা এক্সপ্রেস, দেওয়ানগঞ্জ ও জামালপুর কমিউটার, যমুনা, মহুয়া, অগ্নিবীণা ও জামালপুর এক্সপ্রেসসহ একাধিক ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে থমকে যায়। শত শত যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন-কারও কর্মস্থলে পৌঁছানো অনিশ্চিত হয়, কারও চিকিৎসা, কারও পরীক্ষা।
রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ মনোনয়ন দ্বন্দ্বের মাশুল কেন সাধারণ মানুষ দেবে-এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে গফরগাঁও থেকে ঢাকাগামী যাত্রীদের মুখে মুখে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস, জননিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলে রাজনৈতিক ফায়দা লুটের এই সংস্কৃতি বন্ধ না হলে এর দায় রাজনীতিবিদদেরই নিতে হবে, এমনটাই বলছেন সচেতন মহল।
মনোনয়ন নিয়ে ক্ষমতার লড়াইয়ে জনগণ যেন জিম্মি-গফরগাঁওয়ের রেললাইনে আগুন তারই নির্মম প্রমাণ।



















