২০ দিনে দেশে এলো ২১৭ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স, অর্থনীতিতে স্বস্তির বার্তা
- আপডেট সময় : ০৭:০৭:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১০৬ বার পড়া হয়েছে
চলতি ডিসেম্বর মাসের প্রথম ২০ দিনেই দেশে এসেছে ২১৭ কোটি ২১ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, এ সময়ে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে প্রায় ১০ কোটি ৮৬ লাখ ডলার, যা প্রবাসী আয়ে ধারাবাহিক ইতিবাচক প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ১ থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১৭ কোটি ২১ লাখ ৩০ হাজার ডলার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি এসেছে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে–১৫৮ কোটি ১৩ লাখ ৮০ হাজার ডলার।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩৭ কোটি ১৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার, বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ২১ কোটি ৫২ লাখ ১০ হাজার ডলার এবং বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪২ লাখ ডলার।
সাপ্তাহিক হিসাবে দেখা যায়, ১৪ থেকে ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে এসেছে ৬৬ কোটি ৪৬ লাখ ৬০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স। এর আগের সপ্তাহে, অর্থাৎ ৭ থেকে ১৩ ডিসেম্বর সময়ে এসেছে ৮৭ কোটি ৫০ লাখ ৯০ হাজার ডলার।
আর মাসের প্রথম ছয় দিনেই প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ৬৩ কোটি ২৩ লাখ ৮০ হাজার ডলার, যা ডিসেম্বরের শুরুতেই শক্ত অবস্থান তৈরি করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী রয়েছে। এর আগে গত নভেম্বর মাসে দেশে এসেছে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স, যা চলতি ২০২৪–২৫ অর্থবছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মাসিক প্রবাসী আয়।
অক্টোবর মাসে এই অঙ্ক ছিল ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার। পাশাপাশি আগস্ট ও জুলাই মাসে দেশে এসেছে যথাক্রমে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার এবং ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।
সব মিলিয়ে ২০২৪–২৫ অর্থবছরজুড়ে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি দেশের ইতিহাসে কোনো একক অর্থবছরে প্রবাসী আয় হিসেবে সর্বোচ্চ রেকর্ড।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি, প্রণোদনা অব্যাহত রাখা এবং বৈদেশিক শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের উন্নতির ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী হচ্ছে।
এ ধারা অব্যাহত থাকলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, বিনিময় হার ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



















