ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলে ধস–ক্ষয়ক্ষতি, হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেন ৬২ জন
- আপডেট সময় : ০২:৫৭:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর ২০২৫ ১০৬ বার পড়া হয়েছে
নরসিংদী সদরের চিনিশপুর ইউনিয়নের গাবতলী এলাকার এই বাড়িতে ভূমিকম্পের সময় ছাদ ধসে দুই শিশুসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেনছবি: সংগৃহীত
ছুটির দিন শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুভূত হয় ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প। উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী, রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরে। কেন্দ্রে নিকটবর্তী এলাকায় বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি আতঙ্কে দৌড়াতে গিয়ে আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন অন্তত ৬২ জন।
উৎপত্তিস্থলসংলগ্ন নরসিংদীর চিনিশপুর ইউনিয়নের গাবতলী এলাকায় ভূমিকম্পের সময় একটি একতলা ভবনের ছাদের অংশ ধসে শিশুসহ তিনজন গুরুতর আহত হন। আহতরা হলেন—বাড়ির বাসিন্দা মো. দেলোয়ার (৩৭), তাঁর মেয়ে তাসফিয়া (১৭) ও ছেলে ওমর (৯)। ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে পার্শ্ববর্তী একটি বহুতল ভবনের ছাদ থেকে নির্মাণসামগ্রী ছিটকে পড়ে ওই একতলা ভবনের ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এসময় দেলোয়ার ও তাঁর সন্তানরা ঘর থেকে বের হতে গেলে তাঁদের মাথার ওপর পড়ে নির্মাণসামগ্রী ও ধসে যাওয়া ছাদের টুকরো। স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তিনজনকেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. ফরিদা গুলশানারা কবির জানান, আহত তিনজনের মধ্যে বাবা ও ছেলের অবস্থা বেশি গুরুতর। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ভূমিকম্পের সময় দৌড়াদৌড়িতে আহত, অজ্ঞান হওয়া এবং প্যানিক অ্যাটাকে আক্রান্ত মোট ৪৬ জন চিকিৎসা নিতে এসে জরুরি বিভাগে সেবা নিয়েছেন।

এদিকে ১০০ শয্যার নরসিংদী জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এ এন এম মিজানুর রহমান জানান, ভূমিকম্পের সময় তাড়াহুড়ো করে নেমে যাওয়ার সময় পড়ে গিয়ে ও ধাক্কায় আহত ১৩ জন সেখানে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের কারও অবস্থা উদ্বেগজনক নয়।
ভূমিকম্পে উৎপত্তিস্থল এলাকার বিভিন্ন স্থানে সড়ক থেবে যাওয়া, বাড়ির মেঝে ও দেয়ালে ফাটল ধরার খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এলাকার বাসিন্দারা তাঁদের বাড়ির ফ্লোর ও দেয়ালে ফাটলের ছবি পোস্ট করে আতঙ্কের পরিস্থিতি বর্ণনা করেছেন। কেউ কেউ জানিয়েছেন, ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র কেঁপে পড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গেছে।
পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌরসভার ঈদগাহ রোডের মারকাসুল সুন্নাহ তাহফিজুল কুরআন মাদ্রাসার পরিচালক সালাউদ্দিন আনসারী বলেন, তাঁদের ছয়তলা ভবনের চার-পাঁচটি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা সবাই আতঙ্কে ভবন থেকে নিচে নেমে আসে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেন ৬২ জন, এলাকার একটি সড়কে ফাটল দেখাে দেয় : ছবি সংগ্রহ
নরসিংদী শহরের মধ্য কান্দাপাড়া এলাকার বাসিন্দা পূনম সাহা বলেন, “এভাবে ভবন দুলতে আগে কখনো দেখিনি। পরিবারের সবাই ভয়ে নিচে নেমে যাই।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এটিকে ৫ দশমিক ৫ মাত্রার বলে উল্লেখ করেছে। ভূমিকম্পটি কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হলেও হঠাৎ তীব্র ঝাঁকুনিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই নিরাপত্তার খোঁজে দৌড়ে খোলা জায়গায় বের হয়ে যান।
তাৎক্ষণিক এ কম্পনে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও উৎপত্তিস্থল এলাকায় ভবন ফাটল, সড়ক ক্ষতি এবং আতঙ্কজনিত আঘাতের ঘটনা ব্যাপকভাবে ঘটেছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের প্রস্তুতি চলছে।


















