শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী মামলার রায় পাঠ চলছে
- আপডেট সময় : ০২:২৯:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ৩৩ বার পড়া হয়েছে
ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল ৬টি অধ্যায়ের ৪৫৩ পৃষ্ঠার এই রায় পড়া চলছে। ট্রাইব্যুনালের বাকি সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা মামলার রায় পড়ছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় শুরু হওয়া কার্যক্রমে ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ের ছয়টি অংশ ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
রায়ের শেষ অংশ পাঠ শুরু করেছেন ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার। এতে শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির পক্ষে ও বিপক্ষে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক তুলে ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি সম্প্রতি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে অভিযুক্ত শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্যগুলোরও বিশদ বিবরণ উল্লেখ করা হয়।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং পরবর্তীতে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালিয়ে হত্যার ঘটনাসমূহ রায়ের এই অংশে গুরুত্বসহকারে উপস্থাপন করেছে ট্রাইব্যুনাল।
শেখ হাসিনার প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেই মানবতাবিরোধী অপরাধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেছে ট্রাইব্যুনাল। সোমবার দুপুরে বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার, বিচারপতি মহম্মদ শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মহম্মদ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের এই রায় ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দেশজুড়ে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে।
৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ের আংশিক পড়ে শোনানো হয়, যা সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে। রাজধানীর ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বড় পর্দায় রায় প্রত্যক্ষ করেন হাজারো মানুষ। রায় ঘোষনার সময় মামলার আসামী রাজস্বাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।

প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম জানান, ট্রাইব্যুনালের অনুমতিপ্রাপ্ত অংশ বাংলাদেশ টেলিভিশন সম্প্রচার করছে, এবং অন্যান্য গণমাধ্যমও সেই সিগন্যাল ব্যবহার করতে পারছে। রায়কে কেন্দ্র করে আগের রাত থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন জেলায়। ঢাকা, গোপালগঞ্জসহ চার জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
শনিবার রাত থেকে দেশের নানা এলাকায় গাড়ি, বাস, অ্যাম্বুল্যান্সে অগ্নিসংযোগ ও একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মানিকগঞ্জে একটি স্কুলবাসে আগুন দিয়ে চালককে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকায় দুষ্কৃতীদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দিয়েছে মহানগর পুলিশ।
অন্তর্বর্তী সরকারের নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ রায়কে বেআইনি আদালতের অবৈধ বিচার’ আখ্যা দিয়ে ১৬ ও ১৭ নভেম্বর কমপ্লিট শাটডাউনের ডাক দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দলটির নেতাকর্মীরা হুমকি ও প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আতঙ্কের কারণ নেই।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেন, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনার গণহত্যার রায়কে ঘিরে একটি মহল নৈরাজ্যের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীসহ আট দলের জোট জানিয়েছে, তারা মাঠে থাকবে এবং কোনো নাশকতা হতে দেবে না। দেশজুড়ে বাড়তি নিরাপত্তার মধ্যেই ঐতিহাসিক এই রায় ঘিরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।



















