ঢাকা ১১:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশ নিয়ম-ভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সমর্থন করে: তৌহিদ হোসেন প্রত্যেকটি অন্যায়ের বিচার চাইলে গণতান্ত্রিক সরকার অপরিহার্য, তারেক রহমান গোপালগঞ্জ-৩: প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হিন্দু মহাজোটের গোবিন্দ প্রামানিক কাঁদছে জলহারা প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র, বুকে তার ধু ধু বালুচর ৫৬ পর্যবেক্ষক মোতায়েন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে  এখনই অতি সতর্কতার প্রয়োজন নেই: ইইউ ইরান ভেনেজুয়েলা নয়: ট্রাম্পের জন্য সহজ নয় জয়ের পথ গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে তারেক রহমান, মানবিক আবেগে ভরা মতবিনিময় সভা খালেদা জিয়াকে ‘স্লো পয়জন’ দেওয়া হয়েছিল: ডা. এফ এম সিদ্দিকীর গুরুতর অভিযোগ কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ: রংপুরে বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় সমাবেশ ২১ দিন লাশের সঙ্গে বসবাস: ঋণ-বিবাদে নৃশংসভাবে খুন মা ও কিশোরী মেয়ে

‘গরিবের পুষ্টিতে সিন্ডিকেটের থাবা’, সুখবর নেই সবজির বাজারে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১৬:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫ ১৩৬ বার পড়া হয়েছে

‘গরিবের পুষ্টিতে সিন্ডিকেটের থাবা’, সুখবর নেই সবজির বাজারে

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আমিনুল হক, ঢাকা

রাজধানীর পুরান ঢাকার রায় সাহেব বাজারে শুক্রবার সকালে এক ক্রেতাকে বলতে শোনা গেলো এখন বাজারে ঢুকলেই মনে হয়, শুধু ধনী মানুষদের জন্যই সবকিছু রাখা হয়েছে। সবজির কেজি ১০০ টাকার নিচে খুঁজে পাওয়া যায় না। আমরা খাব কী?

এমনি পাঁজরভাঙ্গা নিঃশ্বাস ছেড়ে কথা বলতে শোনা যায় অনেক ভোক্তাকে।

আসলেই তাই। টানা আড়াই মাস ধরে যেসব সবজি ক্রেতাদের নাগালের বাইরে ছিল, সেগুলোর দাম আরও বেড়েছে। কাঁচা মরিচের কেজি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, গোল বেগুন ২২০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা, টমেটো ১৪০ টাকা সব মিলিয়ে বাজার যেন সাধারণ মানুষের নাগালের অনেক দূরে চলে গেছে।

সবজির দামে আগুন

পুরান ঢাকার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব ধরনের সবজির দামই কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে।

গোল বেগুন (৭০ টাকা থেকে বেড়ে) এখন ২২০ টাকা, লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ১৪০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা, টমেটো ১৪০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৮০-৯০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, করলা ১০০-১২০ টাকা, চাল কুমড়ো ৬০ টাকা, ঝিঙা, কচুরমুখী ৮০ টাকা, কাকরোল ৭০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, মূলা ৬০ টাকা, লাউ ৭০ টাকা, আলু ২৫ টাকা,

শুধু পেঁপের দাম কিছুটা কমেছে—এখন ২৫ টাকা কেজি। আর গত সপ্তাহে ২৪০ টাকায় বিক্রি হওয়া সিম এখন ১৬০ টাকা। কিন্তু সামগ্রিকভাবে বাজার এখনও ক্রেতাদের জন্য চরম চাপের।

 ‘গরিবের পুষ্টিতে সিন্ডিকেটের থাবা’, সুখবর নেই সবজির বাজারে
কাঁচা মরিচের কেজি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা,

কাঁচা মরিচের রেকর্ড দাম

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছে কাঁচা মরিচ। এ বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কেজিপ্রতি দাম ছিল ১৮০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে। গত কয়েক দিনে দাম বেড়েছে প্রায় ১০০ টাকা। এখন সাধারণ মরিচ ৩০০ টাকা, ভালো জাতের মরিচ ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি।

রায় সাহেব বাজারের বিক্রেতা সেলিম মিয়া বলেন, পূজার কারণে ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ। এই সময়ে আমাদের দেশে মরিচ উৎপাদন কম থাকে। বেশিরভাগ মরিচ আসে ভারত থেকে। আমদানি বন্ধ থাকায় বাজারে সরবরাহ কম। ফলে দাম বেড়েছে।

বিক্রেতাদের যুক্তি বনাম ক্রেতাদের অভিযোগ

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিক্রেতারা মূলত তিনটি কারণ দেখাচ্ছেন—
পূজার কারণে ভারত থেকে আমদানি বন্ধ
টানা বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি
সরবরাহ কম

কিন্তু ক্রেতারা বলছেন, আসল সমস্যা বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আলী হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেখেন, সবকিছুর দামই এখন বেশি। মাছ, মাংস, সবজি—সব। ব্যবসায়ীদের একটা চক্র আছে। ওরা সিস্টেম করে দাম বাড়ায়। কিন্তু সরকার বা প্রশাসন কাউকে ধরে না। আমরা গরিব মানুষ খাব কী?

 ‘গরিবের পুষ্টিতে সিন্ডিকেটের থাবা’, সুখবর নেই সবজির বাজারে
‘গরিবের পুষ্টিতে সিন্ডিকেটের থাবা’, সুখবর নেই সবজির বাজারে

মাংস ও মুরগির বাজারেও চাপ

সবজির বাজারের মতো মাংস ও মুরগির দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৮০-১৯০ টাকা, পাকিস্তানি মুরগি ৩১০-৩২০ টাকা, খাসির মাংস ১৩০০ টাকা, বকরি ১০০০ টাকা, গরুর মাংস ৭৫০ টাকা।

সূত্রাপুর বাজারের বিক্রেতা মজিবুর রহমান বলেন, বৃষ্টির কারণে মুরগির খরচ বাড়ছে। দাম ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি নিতে হচ্ছে। কিন্তু ক্রেতা কম, পূজার ছুটিতে অনেকে গ্রামে গেছে। তাই লস দিয়েই বিক্রি করতে হচ্ছে।

দামের ঊর্ধ্বগতি: গরিবের পুষ্টিতে আঘাত

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, টানা মূল্যবৃদ্ধি মানুষের পুষ্টি নিশ্চিত করার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সাধারণ মানুষ এখন বাজার থেকে বেছে নিচ্ছে সবচেয়ে সস্তা জিনিস। যেমন, অনেকেই ২৫ টাকার আলু বা ২৫ টাকার পেঁপে দিয়ে রান্না সারছেন। এতে পরিবারের খাদ্যতালিকা থেকে মাছ, মাংস ও সবজি একে একে হারিয়ে যাচ্ছে।

একজন মহিলা ক্রেতা ক্ষোভের সঙ্গে বললেন, আমরা তো ভিটামিন, প্রোটিনের কথা ভুলেই গেছি। শুধু পেট ভরানোই এখন একমাত্র লক্ষ্য।

 ‘গরিবের পুষ্টিতে সিন্ডিকেটের থাবা’, সুখবর নেই সবজির বাজারে
‘গরিবের পুষ্টিতে সিন্ডিকেটের থাবা’, সুখবর নেই সবজির বাজারে

সিন্ডিকেটের অভিযোগ

বাজারে সরেজমিন কথা বলে বোঝা গেল, ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই একমত ‘মূল সমস্যা ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট’। আমদানি বন্ধ বা বৃষ্টি হলে সুযোগ নিয়ে একদল ব্যবসায়ী মজুত করে দাম বাড়ায়।

একজন তরুণ ক্রেতা বললেন, ভারত থেকে আমদানি বন্ধ হলেই কেন মরিচের দাম দ্বিগুণ হবে? এর মানে হলো সিন্ডিকেট কাজ করছে।

বাজার নিয়ন্ত্রণ কোথায়?

প্রশাসনের বাজার তদারকি নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন অনেক। বাজারে কোথাও টিসিবির কার্যকর উপস্থিতি নেই। দাম নিয়ন্ত্রণে অভিযানও সীমিত। ফলে দামের লাগামহীন বৃদ্ধি যেন স্থায়ী চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একজন প্রবীণ ক্রেতা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, আগে ভাবতাম ঈদের আগে দাম বাড়ে, এখন তো সারা বছরই দাম বাড়ে।

সবজির দাম একে একে ১০০ টাকার ঘরে পৌঁছে গেছে। কাঁচা মরিচের কেজি ৩৫০ টাকা—এ যেন এক ভয়াবহ পরিস্থিতি। গরিব মানুষের পুষ্টি, দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস ও সংসারের হিসাব-নিকাশ সবকিছুর ওপর পড়ছে এর প্রভাব।

সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য রোধে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে সামনে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সাধারণ মানুষের ক্ষুধা ও বঞ্চনার দায় তখন শুধু আবহাওয়া বা আমদানির ওপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না—এ দায় বহন করতে হবে নীতি নির্ধারক ও প্রশাসনকেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

‘গরিবের পুষ্টিতে সিন্ডিকেটের থাবা’, সুখবর নেই সবজির বাজারে

আপডেট সময় : ০৭:১৬:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫

আমিনুল হক, ঢাকা

রাজধানীর পুরান ঢাকার রায় সাহেব বাজারে শুক্রবার সকালে এক ক্রেতাকে বলতে শোনা গেলো এখন বাজারে ঢুকলেই মনে হয়, শুধু ধনী মানুষদের জন্যই সবকিছু রাখা হয়েছে। সবজির কেজি ১০০ টাকার নিচে খুঁজে পাওয়া যায় না। আমরা খাব কী?

এমনি পাঁজরভাঙ্গা নিঃশ্বাস ছেড়ে কথা বলতে শোনা যায় অনেক ভোক্তাকে।

আসলেই তাই। টানা আড়াই মাস ধরে যেসব সবজি ক্রেতাদের নাগালের বাইরে ছিল, সেগুলোর দাম আরও বেড়েছে। কাঁচা মরিচের কেজি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, গোল বেগুন ২২০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা, টমেটো ১৪০ টাকা সব মিলিয়ে বাজার যেন সাধারণ মানুষের নাগালের অনেক দূরে চলে গেছে।

সবজির দামে আগুন

পুরান ঢাকার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব ধরনের সবজির দামই কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে।

গোল বেগুন (৭০ টাকা থেকে বেড়ে) এখন ২২০ টাকা, লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ১৪০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা, টমেটো ১৪০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৮০-৯০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, করলা ১০০-১২০ টাকা, চাল কুমড়ো ৬০ টাকা, ঝিঙা, কচুরমুখী ৮০ টাকা, কাকরোল ৭০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, মূলা ৬০ টাকা, লাউ ৭০ টাকা, আলু ২৫ টাকা,

শুধু পেঁপের দাম কিছুটা কমেছে—এখন ২৫ টাকা কেজি। আর গত সপ্তাহে ২৪০ টাকায় বিক্রি হওয়া সিম এখন ১৬০ টাকা। কিন্তু সামগ্রিকভাবে বাজার এখনও ক্রেতাদের জন্য চরম চাপের।

 ‘গরিবের পুষ্টিতে সিন্ডিকেটের থাবা’, সুখবর নেই সবজির বাজারে
কাঁচা মরিচের কেজি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা,

কাঁচা মরিচের রেকর্ড দাম

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছে কাঁচা মরিচ। এ বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কেজিপ্রতি দাম ছিল ১৮০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে। গত কয়েক দিনে দাম বেড়েছে প্রায় ১০০ টাকা। এখন সাধারণ মরিচ ৩০০ টাকা, ভালো জাতের মরিচ ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি।

রায় সাহেব বাজারের বিক্রেতা সেলিম মিয়া বলেন, পূজার কারণে ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ। এই সময়ে আমাদের দেশে মরিচ উৎপাদন কম থাকে। বেশিরভাগ মরিচ আসে ভারত থেকে। আমদানি বন্ধ থাকায় বাজারে সরবরাহ কম। ফলে দাম বেড়েছে।

বিক্রেতাদের যুক্তি বনাম ক্রেতাদের অভিযোগ

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিক্রেতারা মূলত তিনটি কারণ দেখাচ্ছেন—
পূজার কারণে ভারত থেকে আমদানি বন্ধ
টানা বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি
সরবরাহ কম

কিন্তু ক্রেতারা বলছেন, আসল সমস্যা বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আলী হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেখেন, সবকিছুর দামই এখন বেশি। মাছ, মাংস, সবজি—সব। ব্যবসায়ীদের একটা চক্র আছে। ওরা সিস্টেম করে দাম বাড়ায়। কিন্তু সরকার বা প্রশাসন কাউকে ধরে না। আমরা গরিব মানুষ খাব কী?

 ‘গরিবের পুষ্টিতে সিন্ডিকেটের থাবা’, সুখবর নেই সবজির বাজারে
‘গরিবের পুষ্টিতে সিন্ডিকেটের থাবা’, সুখবর নেই সবজির বাজারে

মাংস ও মুরগির বাজারেও চাপ

সবজির বাজারের মতো মাংস ও মুরগির দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৮০-১৯০ টাকা, পাকিস্তানি মুরগি ৩১০-৩২০ টাকা, খাসির মাংস ১৩০০ টাকা, বকরি ১০০০ টাকা, গরুর মাংস ৭৫০ টাকা।

সূত্রাপুর বাজারের বিক্রেতা মজিবুর রহমান বলেন, বৃষ্টির কারণে মুরগির খরচ বাড়ছে। দাম ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি নিতে হচ্ছে। কিন্তু ক্রেতা কম, পূজার ছুটিতে অনেকে গ্রামে গেছে। তাই লস দিয়েই বিক্রি করতে হচ্ছে।

দামের ঊর্ধ্বগতি: গরিবের পুষ্টিতে আঘাত

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, টানা মূল্যবৃদ্ধি মানুষের পুষ্টি নিশ্চিত করার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সাধারণ মানুষ এখন বাজার থেকে বেছে নিচ্ছে সবচেয়ে সস্তা জিনিস। যেমন, অনেকেই ২৫ টাকার আলু বা ২৫ টাকার পেঁপে দিয়ে রান্না সারছেন। এতে পরিবারের খাদ্যতালিকা থেকে মাছ, মাংস ও সবজি একে একে হারিয়ে যাচ্ছে।

একজন মহিলা ক্রেতা ক্ষোভের সঙ্গে বললেন, আমরা তো ভিটামিন, প্রোটিনের কথা ভুলেই গেছি। শুধু পেট ভরানোই এখন একমাত্র লক্ষ্য।

 ‘গরিবের পুষ্টিতে সিন্ডিকেটের থাবা’, সুখবর নেই সবজির বাজারে
‘গরিবের পুষ্টিতে সিন্ডিকেটের থাবা’, সুখবর নেই সবজির বাজারে

সিন্ডিকেটের অভিযোগ

বাজারে সরেজমিন কথা বলে বোঝা গেল, ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই একমত ‘মূল সমস্যা ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট’। আমদানি বন্ধ বা বৃষ্টি হলে সুযোগ নিয়ে একদল ব্যবসায়ী মজুত করে দাম বাড়ায়।

একজন তরুণ ক্রেতা বললেন, ভারত থেকে আমদানি বন্ধ হলেই কেন মরিচের দাম দ্বিগুণ হবে? এর মানে হলো সিন্ডিকেট কাজ করছে।

বাজার নিয়ন্ত্রণ কোথায়?

প্রশাসনের বাজার তদারকি নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন অনেক। বাজারে কোথাও টিসিবির কার্যকর উপস্থিতি নেই। দাম নিয়ন্ত্রণে অভিযানও সীমিত। ফলে দামের লাগামহীন বৃদ্ধি যেন স্থায়ী চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একজন প্রবীণ ক্রেতা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, আগে ভাবতাম ঈদের আগে দাম বাড়ে, এখন তো সারা বছরই দাম বাড়ে।

সবজির দাম একে একে ১০০ টাকার ঘরে পৌঁছে গেছে। কাঁচা মরিচের কেজি ৩৫০ টাকা—এ যেন এক ভয়াবহ পরিস্থিতি। গরিব মানুষের পুষ্টি, দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস ও সংসারের হিসাব-নিকাশ সবকিছুর ওপর পড়ছে এর প্রভাব।

সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য রোধে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে সামনে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সাধারণ মানুষের ক্ষুধা ও বঞ্চনার দায় তখন শুধু আবহাওয়া বা আমদানির ওপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না—এ দায় বহন করতে হবে নীতি নির্ধারক ও প্রশাসনকেই।