গাজা উপত্যকার পথে গ্লোবাল সমুদ ফ্লোটিলা, ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কা
- আপডেট সময় : ০৮:০০:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫ ১৯৩ বার পড়া হয়েছে
৫০টি জাহাজ নিয়ে এবার গাজার পথে রওনা হয়েছে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা। ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা নিয়ে ৪৪টি দেশের শত শত প্রতিনিধি এতে অংশ নিয়েছেন। যাদের মধ্যে আছেন পরিবেশবিদ গ্রেটা থুনবার্গসহ ডাক্তার, অধিকারকর্মী ও সেলিব্রেটিরা। গাজায় নৌপথে ইসরাইলি অবরোধ ভাঙতে স্পেন থেকে বিশাল এ নৌবহর যাত্রা শুরু করেছে। ইসরাইলের বর্বরতার বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে ইতিহাসের অন্যতম সাহসী মানবিক মিশন গ্লোবাল সমুদ ফ্লোটিলা। ৪৪টি জাহাজের বহরে রয়েছেন শত শত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী, চিকিৎসক ও সাংবাদিক। তাদের লক্ষ্য—ইসরায়েলের আরোপিত অবৈধ অবরোধ ভেঙে গাজায় খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। আয়োজকদের প্রত্যাশা, আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে বহরটি গাজার উপকূলে পৌঁছাবে।
বুধবার (১ অক্টোবর) আয়োজকরা জানিয়েছেন, বহরটি বর্তমানে মিশরের উত্তর উপকূল অতিক্রম করছে। গন্তব্য থেকে তারা মাত্র ১২১ নটিক্যাল মাইল (প্রায় ২২৫ কিলোমিটার) দূরে অবস্থান করছে। তবে এ সময় থেকেই ইসরায়েলি বাহিনীর সম্ভাব্য হামলার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারণ দখলদার ইসরায়েল আগে থেকেই ঘোষণা করেছে—যেকোনো মূল্যে তারা বহরটি আটকাবে।
ফ্লোটিলার মাঘরেব বহরের মুখপাত্র ওয়ায়েল নাওয়ার জানিয়েছেন, বহর গাজার আরও কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। “যেখানে আগের ফ্লোটিলাগুলোয় হামলা হয়েছিল, আমরা সেই এলাকাতেই প্রবেশ করছি। আমাদের জাহাজগুলোর ওপর নজরদারির ড্রোনের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। ইন্টারনেট ও রেডিও জ্যামিংও বাড়ানো হচ্ছে। আজ রাতেই অথবা আগামীকাল যেকোনো সময় আমাদের আটকানোর চেষ্টা শুরু হতে পারে।

তুর্কি কর্মী মুহাম্মদ সালিহ বলেছেন, ফ্লোটিলা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে একটি ইসরায়েলি নৌযান দেখা গেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল তাদের বিশেষ নৌ-কমান্ডো ইউনিট শায়েতেত ১৩ মোতায়েনের প্রস্তুতি নিয়েছে। সেনারা জানিয়েছে, বহর আটকাতে গিয়ে তারা ‘ন্যূনতম ক্ষতি’ করবে। তবে পূর্বের অভিজ্ঞতা বলছে, এমন প্রতিশ্রুতি প্রায়ই মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক জলসীমায় গ্লোবাল সমুদ ফ্লোটিলার ওপর একাধিক হামলা চালানো হয়। ড্রোন হামলা, বিস্ফোরণ, ফ্ল্যাশব্যাং, রাসায়নিক গুঁড়া ও সিগন্যাল জ্যামিংয়ের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা হয়। একই ধরনের আক্রমণের মুখে পড়েছিল তিউনিসিয়ার কাছাকাছি অবস্থানরত বহরও।
বহরে যোগ দিতে আগামী ১ অক্টোবর যুক্ত হবে একটি বিশেষ জাহাজ, যেখানে থাকবেন শতাধিক সাংবাদিক ও চিকিৎসক। এটি হামলার ঝুঁকি আরও বাড়াবে বলে আশঙ্কা করছেন আয়োজকরা।
ফ্লোটিলার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্পেন তাদের একটি নৌযান পাঠিয়েছে। ইতালি দুটি যুদ্ধজাহাজ পাঠালেও বুধবার মধ্যরাত থেকে তারা সরে যায়। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেছেন, “বহরের উচিত থেমে যাওয়া। অন্যথায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।”

তবে ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো জানিয়েছেন, বহরকে খোলা সমুদ্রে আটকানো হতে পারে এবং অংশগ্রহণকারীদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে। তার ভাষায়, “মানবিক বহরের ওপর হামলা ইতালি সহ্য করবে না। আমাদের নাগরিকদের রক্ষায় আমরা দায়বদ্ধ।”
অন্যদিকে পোপ লিও বহরের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ভ্যাটিকান ছাড়ার সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “সব দিক থেকেই প্রার্থনা করা হচ্ছে, যেন সহিংসতা না ঘটে। মানুষকে যেন সম্মান করা হয়। এটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
গ্লোবাল সমুদ ফ্লোটিলার আয়োজকরা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তারা আশঙ্কা করছেন ইসরায়েলি বাহিনী তাদের ওপরও যুদ্ধাপরাধ চালাতে পারে। তবুও তারা গাজায় পৌঁছানোর লক্ষ্য থেকে পিছিয়ে আসবেন না। আয়োজকদের ভাষায়, “আমাদের উদ্দেশ্য পরিষ্কার—গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং অবৈধ অবরোধ ভাঙা।”
গাজা উপত্যকার মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে চলেছে গ্লোবাল সমুদ ফ্লোটিলা। তবে ইসরায়েলি নৌবাহিনীর হুমকি ও প্রস্তুতির কারণে পুরো বিশ্ব এখন উৎকণ্ঠিত হয়ে অপেক্ষা করছে—এই বহর নিরাপদে গাজায় পৌঁছাতে পারবে কি না।




















