ঢাকা ১০:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নিষিদ্ধ আ.লীগের ৭ নেতার মৃত্যুদন্ড সম্পত্তির অর্ধেক জুলাইযোদ্ধাদের একটানে জালে ওঠে আসে ২৬ লাখ টাকার ২ হাজার ২০০টি কাঙ্খিত  ইলিশ  কৃষিপণ্যের আমদানি কমিয়ে উৎপাদন  বাড়ানোর তাগিদ  প্রধানমন্ত্রীর সংযুক্ত আরব  আমিরাতে ৪,৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক রিসেট চায় বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় সফর হওয়া উচিত হুমায়ুন ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফর বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন ভিশন অগ্রাধিকার তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী হঠাৎ রামপালের এক ইউনিট বন্ধ বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে অর্ধেক শেরপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযান ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ শেরপুরে ৫ লাখ টাকার ভারতীয় ওষুধের চালান জব্দ ‘আমেরিকানরা যোদ্ধা হলে ইরানের বীর বাহিনীর মুখোমুখি হোক’: পেজেশকিয়ান

সাবেক আইনমন্ত্রীর বান্ধবীর ১১৪ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৭:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৩১০ বার পড়া হয়েছে

সাবেক আইনমন্ত্রীর বান্ধবীর ১১৪ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বান্ধবী ও সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) তৌফিকা করিমের ১১৪টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।

আদালতের নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত তৌফিকা করিম সাবেক আইনমন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ-বাণিজ্য, বদলির তদবির ও আসামিদের জামিনে প্রভাব বিস্তার করে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন। পরবর্তীতে সেই অর্থ দিয়ে ফ্ল্যাট, গাড়ি ও জমি ক্রয় ছাড়াও বিদেশে অর্থপাচারের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং অপরাধ সংঘটিত করেছেন। এসব অর্থ তার নিজস্ব নামে এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে খোলা ১১৪টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লেনদেন হয়েছে।

নথিতে বলা হয়, এইসব অ্যাকাউন্টে মোট জমা হয়েছে ৬৫৩ কোটি ৩৬ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে উত্তোলন হয়েছে ৫৬৬ কোটি ৩৮ লাখ ১৭ হাজার টাকা। বর্তমানে ৮৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকার বেশি স্থিতি রয়েছে। আদালত মনে করেন, এ ধরনের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ না করা হলে অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা মামলার তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ২(শ)(২৬) ও (১৪) ধারায় এসব লেনদেন অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়। তাই তদন্তের স্বার্থে আইনটির ১৪(১) ধারা অনুযায়ী ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো স্থায়ীভাবে অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেন আদালত।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালককে এই আদেশ কার্যকরের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে এটি দেশের অন্যতম বড় মানিলন্ডারিং মামলাগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত হবে।

অভিযুক্ত তৌফিকা করিমের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তুলেছিলেন। তাদের সহায়তায় তিনি বিচার ব্যবস্থার ভেতরে-বাইরে অনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। আদালত মনে করেন, সুষ্ঠু তদন্ত ও রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় জব্দকৃত অ্যাকাউন্টগুলো অবিলম্বে স্থায়ীভাবে ফ্রিজ রাখা একান্ত প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সাবেক আইনমন্ত্রীর বান্ধবীর ১১৪ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ

আপডেট সময় : ০৮:৫৭:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বান্ধবী ও সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) তৌফিকা করিমের ১১৪টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।

আদালতের নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত তৌফিকা করিম সাবেক আইনমন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ-বাণিজ্য, বদলির তদবির ও আসামিদের জামিনে প্রভাব বিস্তার করে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন। পরবর্তীতে সেই অর্থ দিয়ে ফ্ল্যাট, গাড়ি ও জমি ক্রয় ছাড়াও বিদেশে অর্থপাচারের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং অপরাধ সংঘটিত করেছেন। এসব অর্থ তার নিজস্ব নামে এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে খোলা ১১৪টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লেনদেন হয়েছে।

নথিতে বলা হয়, এইসব অ্যাকাউন্টে মোট জমা হয়েছে ৬৫৩ কোটি ৩৬ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে উত্তোলন হয়েছে ৫৬৬ কোটি ৩৮ লাখ ১৭ হাজার টাকা। বর্তমানে ৮৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকার বেশি স্থিতি রয়েছে। আদালত মনে করেন, এ ধরনের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ না করা হলে অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা মামলার তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ২(শ)(২৬) ও (১৪) ধারায় এসব লেনদেন অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়। তাই তদন্তের স্বার্থে আইনটির ১৪(১) ধারা অনুযায়ী ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো স্থায়ীভাবে অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেন আদালত।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালককে এই আদেশ কার্যকরের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে এটি দেশের অন্যতম বড় মানিলন্ডারিং মামলাগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত হবে।

অভিযুক্ত তৌফিকা করিমের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তুলেছিলেন। তাদের সহায়তায় তিনি বিচার ব্যবস্থার ভেতরে-বাইরে অনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। আদালত মনে করেন, সুষ্ঠু তদন্ত ও রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় জব্দকৃত অ্যাকাউন্টগুলো অবিলম্বে স্থায়ীভাবে ফ্রিজ রাখা একান্ত প্রয়োজন।