সামান্য ধাক্কায় বিপুল সংখ্যক মানুষ দারিদ্র হয়ে যাবার আশঙ্কা
- আপডেট সময় : ০৬:৩৫:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২৫৮ বার পড়া হয়েছে
দারিদ্র্য দূর করার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, দেশটির বিপুলসংখ্যক মানুষ টেকসই অবস্থাননে নেই। সামান্য ধাক্কায় তারা দারিদ্র হয়ে যেতে পারে। কারণ, এসব মানুষ দারিদ্র না হলেও দরিদ্রসীমার ঠিক ওপওে তাদেও অবস্থান।
দরিদ্র্যসীমার অবস্থান তুলে ধরে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, কিছু মানুষ নাক বরাবর পানিতে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তারা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় কোনোভাবে শুধু জীবনধারণ করে যাচ্ছে। সামান্য ঢেউ এলেই তলিয়ে যাবে।
সোমবার ঢাকার চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক সেমিনারে যুক্ত হয়ে মন্তব্য করেন ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
ন্যায্যতাভিত্তিক সমাজে চরম দারিদ্র্য থাকতে পারে না প্রসঙ্গ টেনে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, কোনো দেশ এত গরিব হতে পারে না যে, তার সব মানুষের জন্য সে অন্তত জীবনধারণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারবে না।
এখন তো আমাদের কোনো অজুহাত দেখালে চলবে না যে… আমরা সবাইকে ন্যূনতম সামাজিক নিরাপত্তা দিতে পারব না। ফলে এই দারিদ্র্য দূর করা আমাদের অন্যতম মূল উদ্দেশ্য হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
দারিদ্র্য দূর করার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে।
সামাজিক ভাতা দেওয়ার ক্ষেত্রে উপকারভোগী নির্ধারণে বড় সমস্যা রয়েছে। এখন যারা ভাতা পান, তাদের ৫০ শতাংশই এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। তারা ভূতুড়ে অথবা রাজনৈতিক বিবেচনায় সুবিধা পাচ্ছেন।
জাতীয়ভাবে সমন্বিত তালিকা তৈরি করা ও মাঠ পর্যায়ে তদারকি করা গেলে প্রকৃত উপকারভোগীদের নাম পাওয়া সম্ভব হবে।
ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, দেশের দারিদ্রঘন এলাকা হিসাবে রংপুর একসময় মৌসুমি দারিদ্রঘন এলাকা ছিল। এই মৌসুমি দারিদ্র মঙ্গা হিসেবে পরিচিত।
২০০৩-০৫ সালের দিকে মঙ্গা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে অনেক নিবন্ধন প্রকাশ হয়েছে। আগে তো সরকারী তরফে মঙ্গার কথা অস্বীকার করা হতো। সংবাদ মাধ্যমের সক্রিয়তার কারণে সরকার মঙ্গাকে স্বীকৃতি দিয়ে মঙ্গা নিরোধের জন্য নানা কর্মসূচি করে। বর্তমানে রংপুর অঞ্চলে মৌসুমি ক্ষুধা কিছুটা কমে আসলেও দারিদ্র্য রয়েছে।
দেশটির নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সাতক্ষীরা ও পটুয়াখালীর মতো জেলায় নতুন দারিদ্রঘন এলাকা তৈরি হয়েছে। এই অঞ্চলগুলো নিয়ে কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।



















