বৈশাখে হাজারো বছরের লোকজ ঐতিহ্যকে সঙ্গী করে আনন্দ যাত্রা
- আপডেট সময় : ১০:১৯:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ এপ্রিল ২০২৫ ৪১৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলার পটচিত্রের ইতিহাস হাজারো বছরের। পহেলা বৈশাখ তথা বাংলানববর্ষের প্রবর্তক মহামতি আকবর, গাজীরপট, বনোবিবি, বেহুলা আর বাংলাদেশ। এই ৫টি পটচিত্রের দৈর্ঘ ১০০ ফুট। পটচিত্রগুলো ইতিহাস সমৃদ্ধ। এবারের পহেলা বৈশাখে এসব পটচিত্রগুলো মঙ্গল তথা আনন্দ যাত্রাকে আরো রঙিন করে তুলবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে রাত-দিন একাকার করে আনন্দ যাত্রার উপকরণ তৈরি করা হচ্ছে। হাতে একদম সময় নেই। কারো কথা উত্তর দেবার ফুসরত নেই শিল্পীদের। সবাই মগ্ন বৈশাখী উপটকরণ তৈরির কাজে।

পটচিত্র ঘিরে চারুকলায় আসা হাজারো দর্শনার্থীর জটলা। মনযোগ সহকারে অনেকেই ছবি তুলতে ব্যস্ত। এরই মাঝে অল্প সময়ের জন্য কথা বলতে রাজি হলেন শিল্প নাজির আহমেদ। জানালেন, পটচিত্রের ইতিহাস। বাংলাদেশের পটচিত্রের বিষয়ে নাজির আহমেদ জানান, আবহমান বাংলার সংস্কৃতি, মুক্তিযুক্ত এবং সর্বশেষ জুলাই আন্দোলনের রক্তাক্ত ইতিহাস স্থান পেয়েছে।
বাংলা নববর্ষে এবারেই প্রথম দেশের পাহাড়ি ও সমতলের ২৮ জাতিগোষ্ঠীর ৪২৬ জন শিল্পী অংশ নেবেন। এরমধ্যে ম্রো, মারমা, লুসাই, বম, খিয়াং, চাকমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, পাংখোয়া, রাজোয়াড়, সাঁওতাল, মাহালী, কোল, মালপাহাড়িয়া, হাজংসহ একাধিক জাতিগোষ্ঠী রয়েছে।

বাংলা নববর্ষ পয়লা বৈশাখে আনন্দ শোভাযাত্রার মোটিফে জাতীয় প্রতীক বাঘ, ইলিশ মাছের পাশাপাশি থাকছে জুলাইয়ের ছাপ। মোটিফে স্থান পাবে ফ্যাসিবাদের ভয়াল মুখাকৃতি ও মুগ্ধের পানির বোতল।
শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শোভাযাত্রার উপ-কমিটির সদস্য-সচিব অধ্যাপক এ এ এম কাওসার হাসান এসব তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি জানান এবছরের শোভাযাত্রায় বড় সাতটি মোটিফ থাকবে। এরমধ্যে ফ্যাসিবাদের মুখাকৃতি, কাঠের বাঘ, ইলিশ মাছ, শান্তির পায়রা, পালকি, মুগ্ধের পানির বোতল এবং তরমুজের ফালি রয়েছে।
মাঝারি মোটিফগুলোর মধ্যে সুলতানি ও মুঘল আমলের মুখোশ, রঙিন চরকি, তালপাতার সেপাই, তুহিন পাখি, পাখা, ঘোড়া ও লোকজ চিত্রাবলির ক্যানভাস । ছোট মোটিফগুলোর মধ্যে ফ্যাসিবাদের মুখাকৃতি থাকবে, বাঘের মাথা, পলো, মাছের চাই, মাথাল, লাঙলল এবং মাছের ডোলা থাকবে ।
ফিলিস্তিনের নিপীড়িত মুসলমানদের লড়াই সংগ্রামের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে তরমুজের ফালি মোটিফ হিসেবে রাখা হয়েছে। তরমুজ ফিলিস্তিনিদের কাছে প্রতিরোধ ও অধ্যাবসায়ের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ বলেন, এবারের শোভাযাত্রা চারুকলা অনুষদ থেকে শাহবাগ হয়ে রাজু ভাস্কর্য, শহীদ মিনার, দোয়েল চত্বর হয়ে পুনরায় চারুকলায় ফিরে আসবে।
শোভাযাত্রার দিন ১৪ এপ্রিল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মেট্রোরেলের শাহবাগ ও টিএসসি স্টেশন বন্ধ থাকবে। এই সময়ে এই দুই স্টেশন দিয়ে কোনো যাত্রী উঠতে বা বের হতে পারবেন না।
বাংলামোটর, বারডেম এবং মৎস্য ভবন থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অভিমুখে সড়ক ব্লক থাকবে। শোভাযাত্রা শুরুর পর সাধারণ জনগণ এসব স্থান দিয়ে শোভাযাত্রায় যোগ দিতে পারবেন। র্যালির সময় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের রমনা কালিমন্দির, রাজু ভাস্কর্যের পেছনে ও ছবির হাটের গেট বন্ধ থাকবে।



















