ঢাকা ০২:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সুরের মায়ায় সুজাতা সোম রাগসংগীত থেকে লোকগান, শৈশবের আসর পেরিয়ে সংগীত শিক্ষার বিস্তৃত ভুবনে বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম যুক্তরাষ্ট্রে মজুত বৃদ্ধির প্রভাব এশিয়ান গেমস উপলক্ষে জাপান সফরে সেনাবাহিনী প্রধান ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঋণ বিতরণে ধীরগতি  বন্ধ শিল্প পুনরায় চালুর চ্যালেঞ্জ নিরাপদ প্রজননের লক্ষ্যে ৮ অক্টোবর ২২ দিন দেশজুড়ে ইলিশ আহরণ বন্ধ নিষিদ্ধ আ.লীগের ৭ নেতার মৃত্যুদন্ড সম্পত্তির অর্ধেক জুলাইযোদ্ধাদের একটানে জালে ওঠে আসে ২৬ লাখ টাকার ২ হাজার ২০০টি কাঙ্খিত  ইলিশ  কৃষিপণ্যের আমদানি কমিয়ে উৎপাদন  বাড়ানোর তাগিদ  প্রধানমন্ত্রীর সংযুক্ত আরব  আমিরাতে ৪,৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক রিসেট চায় বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় সফর হওয়া উচিত হুমায়ুন

প্রভু ভক্তির নজির: প্রায় ১০ বছর রেলস্টেশনে অপেক্ষার পর মৃত্যু

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:০৩:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ এপ্রিল ২০২৫ ২৪১ বার পড়া হয়েছে

মঙ্গল শোভাযাত্রা নয়, এবার ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হাচিকো হচ্ছে একটি জাপানি কুকুর যে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত একটি স্টেশনে তার মালিকের জন্য অপেক্ষা করেছিল।

কুকুরের ন্যায় প্রভু ভক্ত খুব কম প্রানী আছে। এমন অনেক নজির আছে ওরা মনিবের জন্য নিজের জীবন দিয়ে দিয়েছে। এক দিন খাবার দিলে পরের দিন লেজ নাড়তে নাড়তে সেই বাড়ির সামনে হাজির হয়। রাতে বাড়ি পাহারা দিতে শুরু করে।

১৯২৩ সালের ১০ নভেম্বর জাপানের আকিতা প্রদেশে জন্ম নেয় হাচিকো নামের আকিতা ইনু জাতের কুকুরটি। ১৯২৪ সালে টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রফেসর হাইডেসাবুরো উএনো হাচিকোকে দত্তক নেন। উএনো সাহেবের সঙ্গে হাচিকোর সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গভীর।

প্রতিদিন উএনো সাহেব যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতেন, হাচিকো তাকে টোকিওর শিবুয়া স্টেশন পর্যন্ত পৌঁছে দিত এবং বিকেলে ট্রেন থেকে নামার সময় মালিকের জন্য অপেক্ষা করত। এভাবেই কাটছিল তাদের দিন।

কিন্তু ১৯২৫ সালের ২১ মে উএনো সাহেব বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নেওয়া অবস্থায় স্ট্রোক করে মারা যান। যদিও উএনো আর কখনো ফিরে আসেননি, হাচিকো প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে শিবুয়া স্টেশনে যেত এবং মনিবের অপেক্ষায় বসে থাকত। এটি চলতে থাকে দীর্ঘ নয় বছর নয় মাস পনেরো দিন!

শীঘ্রই এই ঘটনা স্থানীয়দের নজরে আসে। এরপর ১৯৩২ সালে এক সাংবাদিক হাচিকোর কাহিনী পত্রিকায় প্রকাশ করলে পুরো জাপান স্তম্ভিত হয়ে যায়। ধীরে ধীরে হাচিকো বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করে আনুগত্যের প্রতীক হিসেবে।

১৯৩৫ সালের ৮ মার্চ স্টেশনেই তার মালিকের জন্য অপেক্ষা করতে করতে মারা যায় হাচিকো। এরপর হাচিকোর কঙ্কালকে টোকিওর ন্যাশনাল সায়েন্স মিউজিয়ামে প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়।

হাচিকো মহাকাব্যিক যাত্রাপথে বহু মানুষের ভালোবাসা পেয়েছে।

হাচিকোর প্রতি সম্মান জানিয়ে ১৯৩৬ সালে শিবুয়া স্টেশনের সামনে তার একটি ব্রোঞ্জের মূর্তি স্থাপন করা হয়, যা আজও বিদ্যমান এবং পর্যটকদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ। ফেসবুক থেকে

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

প্রভু ভক্তির নজির: প্রায় ১০ বছর রেলস্টেশনে অপেক্ষার পর মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৮:০৩:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ এপ্রিল ২০২৫

হাচিকো হচ্ছে একটি জাপানি কুকুর যে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত একটি স্টেশনে তার মালিকের জন্য অপেক্ষা করেছিল।

কুকুরের ন্যায় প্রভু ভক্ত খুব কম প্রানী আছে। এমন অনেক নজির আছে ওরা মনিবের জন্য নিজের জীবন দিয়ে দিয়েছে। এক দিন খাবার দিলে পরের দিন লেজ নাড়তে নাড়তে সেই বাড়ির সামনে হাজির হয়। রাতে বাড়ি পাহারা দিতে শুরু করে।

১৯২৩ সালের ১০ নভেম্বর জাপানের আকিতা প্রদেশে জন্ম নেয় হাচিকো নামের আকিতা ইনু জাতের কুকুরটি। ১৯২৪ সালে টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রফেসর হাইডেসাবুরো উএনো হাচিকোকে দত্তক নেন। উএনো সাহেবের সঙ্গে হাচিকোর সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গভীর।

প্রতিদিন উএনো সাহেব যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতেন, হাচিকো তাকে টোকিওর শিবুয়া স্টেশন পর্যন্ত পৌঁছে দিত এবং বিকেলে ট্রেন থেকে নামার সময় মালিকের জন্য অপেক্ষা করত। এভাবেই কাটছিল তাদের দিন।

কিন্তু ১৯২৫ সালের ২১ মে উএনো সাহেব বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নেওয়া অবস্থায় স্ট্রোক করে মারা যান। যদিও উএনো আর কখনো ফিরে আসেননি, হাচিকো প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে শিবুয়া স্টেশনে যেত এবং মনিবের অপেক্ষায় বসে থাকত। এটি চলতে থাকে দীর্ঘ নয় বছর নয় মাস পনেরো দিন!

শীঘ্রই এই ঘটনা স্থানীয়দের নজরে আসে। এরপর ১৯৩২ সালে এক সাংবাদিক হাচিকোর কাহিনী পত্রিকায় প্রকাশ করলে পুরো জাপান স্তম্ভিত হয়ে যায়। ধীরে ধীরে হাচিকো বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করে আনুগত্যের প্রতীক হিসেবে।

১৯৩৫ সালের ৮ মার্চ স্টেশনেই তার মালিকের জন্য অপেক্ষা করতে করতে মারা যায় হাচিকো। এরপর হাচিকোর কঙ্কালকে টোকিওর ন্যাশনাল সায়েন্স মিউজিয়ামে প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়।

হাচিকো মহাকাব্যিক যাত্রাপথে বহু মানুষের ভালোবাসা পেয়েছে।

হাচিকোর প্রতি সম্মান জানিয়ে ১৯৩৬ সালে শিবুয়া স্টেশনের সামনে তার একটি ব্রোঞ্জের মূর্তি স্থাপন করা হয়, যা আজও বিদ্যমান এবং পর্যটকদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ। ফেসবুক থেকে