বিশ্বারটিএ চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবী যাত্রী কল্যাণ সমিতির
- আপডেট সময় : ০৯:১৪:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ১২০ বার পড়া হয়েছে
গ্যাস বা পেট্রোলচালিত অটোরিকশা চালকরা মিটারে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায় করলে জরিমানা বা কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)। এর প্রতিবাদে রোববার ঢাকা মিরপুর-১, মিরপুর-১৪, রামপুরা, শনিরআখড়া সড়ক অবরোধ করে। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। যার দরুন চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় কর্মজীবী মানুষদের
ঢাকার বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের ভয়াবহ যাত্রী দুর্ভোগ তৈরি করায় বিআরটিএকে দায়ী করে সংস্থাটির চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী। সমিতির মহাসচিব জনগণের অর্থে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটি অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে মামলা রুজুর প্রজ্ঞাপন বাতিল করে যাত্রীদের ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্যকারী অটোরিকশা চালকদের হাতে তুলে দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি বিলুপ্তিরও দাবি করেন। মিটারের নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায় করলে চালকদের জরিমানা বা কারাদণ্ডের করার নির্দেশনা দিয়ে গত ১০ ফেব্রুয়ারি পুলিশকে চিঠি পাঠায় বিআরটিএ।
বিআরটিএ পুলিশকে মামলা করার নির্দেশ দেওয়ার পর রোববার আন্দোলনে নামেন ক্ষুব্ধ অটোরিকশা চালকরা। এর প্রেক্ষিতে এদিন সকাল থেকে শুরু হয় তাদের ধর্মঘট। সকাল সাড়ে থেকে ঢাকার শনির আখড়া, ধোলাইপাড়, গোলাপবাগ, ডেমরা, বাসাবো, রামপুরা, কলেজগেট, আগারগাঁও, মিরপুর, মাজার রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় অটোরিকশা চালকরা সড়ক অবরোধ করে। চালকদের আন্দোলনের মুখে বিআরটিএ পুলিশকে দেওয়া নির্দেশনা প্রত্যাহার করে নেয়।
সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সাংবাদিক সম্মেলনে একথা বলেন, যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজ্জামেল হক চৌধুরী। তিনি অভিযোগ কওে বলেন, সংকট নিরসণে যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ করা হলেও কোন সাড়া পাওয়া যাচ্ছেন না বলে দাবি যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী। সোমবার ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ দাবি জানান। এসময় তিনি বলেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের কাছে নতি স্বীকার করার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআরটিএ চেয়রাম্যানের পদত্যাগ চেয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সংবাদ সম্মেলনে যাত্রী কল্যাণ মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ঢাকার গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে গত ১৯ ডিসেম্বর সরকারের চার উপদেষ্টা, পুলিশ, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএসহ বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় স্টেকহোল্ডারদের সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান ঢাকা মহানগরীর ২০ বছরের পুরোনো বাস মে মাসের মধ্যে উচ্ছেদ করার নির্দেশনা দেন। আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকার সব রুট বিলুপ্ত করে ৯টি রুটে ৯ কালারের উন্নত বাস পরিষেবা চালুর নির্দেশনা দেন।
সেই নির্দেশনার অপব্যবহার করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন নির্দেশনার অপব্যবহার করে নতুন উন্নত বাসের বদলে ২০ থেকে ৪০ বছর যাবত নগরীতে চলাচলরত মেয়াদোর্ত্তীণ লক্কড়-ঝক্কর ফিটনেসবিহীন বাস রাতারাতি গোলাপি কালার ধারণ করে চলাচলের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এসব বাস ইতোমধ্যে মুখ থুবড়ে পড়া ই-টিকেটিং পদ্ধতিতে বাস কাউন্টারে ভাড়ার টাকা আদায় করে চালক-সহকারীর দৈনিক হারে ট্রিপভিত্তিক মজুরি নির্ধারণ করা হয়। সেই সঙ্গে সাপ্তাহিক, পাক্ষিক হারে মালিকের জমা বাস মালিক সমিতি কর্তৃক প্রদানের সিদ্ধান্ত হয় বলে পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে।

এতে মালিক-সমিতির মধ্যে বিশ্বাস অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে মন্তব্য করেন সমিতির মহাসচিব। সংকট নিরসণে যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ করা হলেও কোন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না, বলেন মোজাম্মেল হক চৌধুরী। নগরীতে উন্নত গণপরিবহন পরিসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে ঢাকা মেট্রো আরটিসির অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, এক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে একটি কোম্পানির আদলে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে রুট রেশনলাইজেশন পদ্ধতিতে করিডরভিত্তিক চলাচল নিশ্চিত করে ৫ হাজার উন্নত বাস নামানোর দাবি জানান মোজাম্মেল হক চৌধুরী।



















