গণতন্ত্রের প্রদীপ শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্যই বিভীষিকাময় গ্রেনেড হামলা : ডা. বদরুন নাহার ভূইয়া
- আপডেট সময় : ০৮:৫৯:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ অগাস্ট ২০২৩ ৪৩৫ বার পড়া হয়েছে
আমিনুল হক
বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রতীক এবং গণতন্ত্রের প্রদীপ শেখ হাসিনাকে হত্যা এবং আওয়ামী লীগকে নিচিহ্ন করতেই সেদিন শান্তিপূর্ণ সমাবেশে ভীষিকাময় গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল বিএনপি-জামাত গোষ্ঠী। গ্রেনেড হামলার তদন্তেও তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে ন্যাক্কারজনক এই গ্রেনেড হামলার ১৯তম বাষিকী পালন করা হল সোমবার। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে শোকাবহ আবহে পালিত হয় গ্রেনেড হামলার বার্ষকী। ঢাকার নানা প্রান্ত থেকে কাতারে কাতারে মানুষ ছুটে আসে নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। গ্রেনেড হামলায় মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী বেগম আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন।
গ্রেনেড হামলার ১৯তম বার্ষিকীতে একান্ত সাক্ষাতকালে এসব কথা তুলে ধরেন আওয়ামী লীগ নেত্রী ও মানবিক চিকিৎসক ডা. বদরুন নাহার ভূইয়া।
ডা. বদরুন নাহার বলেন, দেখুন একটা কথা কিন্তু স্পষ্ট, আর তাহলো তৎকালীন বিরোধী দল নেত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হল কেন? এর কারণ হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি তথা যে দলটির হাত ধরে স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নিপীড়িত মানুষদের মুক্তি এনে দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু, তারই কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের বিকাশ, উন্নয়ন এবং গণমানুষের দল আওয়ামী লীগকে চিরতরে রাজনীতির মাঠ থেকে বিদায় করে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই গ্রেনেড হামলা।
কিন্তু সৃষ্টির কর্তার অশেষ রহমতে তা হয়নি। ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। সেসময়ও শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে অবস্থান করায় প্রাণে বেচে যান। আর ২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলার সময় নেতাকর্মীরা মানববর্ম করে শেখ হাসিনাকে তাকে রক্ষা করেন। ডা. বদরুন নাহার বলন, এই দুটো লোমহষর্ক ঘটনা যা ইতিহাসের পাতা থেকে কোন দিন মুছে যাবে না।
ডা. বদরুন নাহার ভূইয়া বলেন, আজ বাংলাদেশ যে উন্নয়নের রোল মডেল, যা কিনা নিন্দুকেরা স্বীকার করে। কারণ, বাংলাদেশে এমন স্থানও রয়েছে, যেখানে ৫০ বছর পর শেখ হাসিনার হাত ধরে পাকা রাস্তা হয়েছে। যোগাযোগ ক্ষেত্রে যে পরিমাণ উন্নয়নমূলক অবকাঠামো নির্মাণ হয়েছে, বিদেশীরা তার প্রশংসা করছেন। উন্মত্ত পদ্মায় নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। শুধু তাই নয়, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেল, মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্র বন্দর, মেরিণ ড্রাইভ সড়ক, পতেঙ্গায় বে-টার্মনাল, শতাধিক অর্থনৈতিক অঞ্চল কি করেনি শেখ হাসিনা।

ডা. বদরুন নাহার বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কানেক্টিভিটিতে চমক দেখিয়েছেন। ১৯৬৫ সালের পর ভারতের সঙ্গে যেসব রেল ও সড়ক সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়, তা পর্যায়ক্রমে চালু করা হচ্ছে। এখনও পযর্ন্ত বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ৬টি রেল সংযোগ চালু হয়েছে। তাছাড়া ঢাকা-কলকতাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস, খূলনা-কলকাতা বন্ধু এক্সপ্রেস এবং ঢাকা-নিউজলপাইগুঁড়ি মিতালী এক্সপ্রেস চালু করা হয়েছে। এছাড়াও পণ্যট্রেন চলাচল করছে নিয়মিতভাবে। সড়ক পথে সরাসরি ভারতে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে।
কুপি-হারিকেনের বাংলাদেশ আজ মহাকাশ থেকে জলের তলাও জয় করেছে। বাংলাদেশ আজ সেটেলাইট এবং সাবমেরিনের গর্বিত মালিক উল্লখ করে ডা. বদরুন নাহার বলেন, এগুলো নিয়ে কি আমরা গর্ব করতে পারি না? উন্নয়ন ধরে রাখতে তা স্বীকার করলে অপরাধ কিছু নেই। আমাদের মানুষিক পরিবর্তন করতে হবে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ সঠিক রেখে লোডশেডিং মুক্ত এবং জ্বালানি গ্যাস সবই বঙ্গবন্ধু এবং শেখ হাসিনার হাত ধরে আমাদের পাওয়া।

ডা. বদরুন নাহার বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ধারা আরও গতিশীল করে এর সুফল বাংলার মানুষের কাছে পৌছে দিতেই রাতদিন কাজ করে চলেছেন বাংলাদেশের উন্নয়নের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমরা বিশ্বাস করি সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সমৃদ্ধ আগামী। আমরা শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে মানুষের জন্য কাজ করেছে চলেছি এটাই আমাদের ব্রত।



















