প্রবীণ রাজনীতিক পঙ্কজ ভট্টাচার্যের শেষকৃত্য সম্পন্ন
- আপডেট সময় : ০৬:৩৫:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৩ ২২২ বার পড়া হয়েছে
ঢাকার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষ পঙ্কজ ভট্টাচার্যের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান : ছবি সংগ্রহ
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা
বাংলাদেশের বর্ষিয়াণ রাজনীতিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা পঙ্কজ ভট্টাচার্যের মরদেহ শেষকৃত্যানুষ্ঠান সম্পন্ন। এর আগে মঙ্গলবার বিকালে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি, ওয়ার্কাস পার্টিসহ রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন। পরে ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যায় শেষকৃত্যের জন্য মরদেহ পোস্তাগোলা মহাশ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়।
৮৪ বছর বয়সী পঙ্কজ ভট্টাচার্য গত বছর করোনায় আক্রান্ত হলে সেসময় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি কিছু দিনের চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ওঠেন। এপর তার শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। গত শনিবার অবস্থার অবণতি হলে ১৭ এপ্রিল ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার তাকে লাইভ সাপোর্টে নেওয়া এবং রবিবার মধ্যরাতে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।
পঙ্কজ ভট্টাচার্য ১৯৩৯ সালের ৬ আগস্ট চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। চট্টগ্রাম ও ঢাকায় তার শিক্ষাজীবন কেটেছে। ছাত্র আন্দোলনে সম্পৃক্ততার কারণে ১৯৫৯ সালে তিনি চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে বহিষ্কৃত হন। পঙ্কজ ভট্টাচার্য গত শতকের ষাটের দশকের ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী বাংলাদেশের সব আন্দোলন-সংগ্রামের প্রত্যক্ষদর্শী, একজন নেতৃস্থানীয় কর্মী ও সংগঠক।
১৯৬৩ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও পরে কার্যকরী সভাপতি নির্বাচিত হন পঙ্কজ ভট্টাচার্য। তিনি ১৯৬৭ সালে ‘স্বাধীন বাংলা ষড়যন্ত্র’ মামলায় অভিযুক্ত হয়ে কারারুদ্ধ হন। পঙ্কজ ভট্টাচার্য মুক্তিযুদ্ধে ন্যাপ-ছাত্র ইউনিয়ন-কমিউনিস্ট পার্টি গেরিলা বাহিনীর সংগঠক ছিলেন।
স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তিনি সম্মিলিত ‘সামাজিক আন্দোলন’ নামে দেশের প্রগতিশীল-গণতান্ত্রিক মানুষের একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলেন। ২০১৩ সালে তিনি ঐক্য ন্যাপ নামে রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন। লেখালেখি ও সংস্কৃতিচর্চায় তার আগ্রহ ছিল।


















