Tourist ship ‘Ganga Vilas : গঙ্গা বিলাসকে বাংলাদেশে অভিনন্দন
- আপডেট সময় : ১২:৫০:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ ৩৫৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশে পৌছানো ভারতের পর্যটকবাহী জাহাজ ‘গঙ্গা বিলাস’ মোংলা সমুদ্রবন্দরে পৌছালে এটিকে স্বাগত জানান নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহামুদ চৌধুরী, ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলী
আমিনুল হক ভূইয়া
ভারতের উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনউ শহর থেকে ৩২০ কিলোমিটার দূরত্বে হিন্দু ধর্মের পরিত্র স্থান বারাণসী তথা কাশী গঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত। বিশ্বের প্রাচীনতম এবং ভারতের আধ্যাত্মিক শহর বারাণসী থেকেই ১৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে জলপথে যাত্রা
শুরু করে পর্যটকবাহী জাহাজ ‘গঙ্গা বিলাস’।
৫১ দিনের এই যাত্রায় শুক্রবার বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে গঙ্গা বিলাস। শনিবার সুন্দরবনের নান্দনিকতায় মুগ্ধ ভ্রমণ পিপাসুদের নিয়ে শনিবার দুপুরে মোংলা সমুদ্র বন্দরে পৌছাবে।
বাংলাদেশের নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এবং ভারতের হ্ াকমিশনার প্রণয় ভার্মা গঙ্গা বিলাস ও পর্যটকদের স্বাগত জানান।

নৌপথে সফরকালে ২৭টি নদীর বুক চিড়ে ৫০টি পর্যটনস্থল ভ্রমণ করবেন পর্যটকরা। এটি পশ্চিমবঙ্গ কলকাতা, বাংলাদেশের বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন শেষে ১৭ ফেব্রুয়ারি আসাম রাজ্যের ডিব্রুগড়ের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করবে।
‘এমভি গঙ্গা বিলাস’ উদ্বোধনে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, এই নৌবিহারের মাধ্যমে ভারতের নৌপরিবহনে নতুন যুগের সূচনা হবে। তার সরকার ১১১টি জাতীয় নৌপথ চালু করেছে। এগুলো পরিবহন, বাণিজ্য ও পর্যটন এই তিন ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সুইজারল্যান্ডের ৩২ জন পর্যটক নিয়ে গঙ্গা বিলাসের যাত্রা শুরু হবে। বিলাসবহুল এই তিনতলা নৌযানটি বারাণসী থেকে রওনা হয়ে আসামের মাজুলি, দুই বাংলায় বিস্তৃত ম্যানগ্রোভ অরণ্য সুন্দরবন এবং কাজিরাঙ্গা অভয়ারণ্য প্রভৃতি দেখার সুযোগ পাবে।
ভ্রমণকালীন বিশ্বঐতিহ্যের জন্য স্বীকৃত একাধিক স্থান, তীর্থ, জাতীয় উদ্যান, নদীঘাট ছুঁয়ে যাবে প্রমোদতরিটি। বক্সার, রামনগর, ফরাক্কা ও মুর্শিদাবাদ প্রভৃতি স্থান পেরিয়ে এসেছে গঙ্গা বিলাস। পাটনা, কলকাতা, গুয়াহাটি ও ঢাকার মতো একাধিক ঐতিহ্যবাহী শহরের নানা দর্শনীয় স্থান দেখার সুযোগ পাবেন পর্যটকরা।

৬২ মিটার লম্বা ও ১২ মিটার চওড়া এমভি গঙ্গা বিলাস বিলাসবহুল। এটিতে ৮০ জন যাত্রী ভ্রমণ করতে পারবেন। প্রমোদতরিটির সাজসজ্জায় খরচ হয়েছে ৬৮ কোটি ভারতীয় রুপি। এতে ৩৬ জন পর্যটকের থাকার উপযোগী ১৮টি স্যুট বা বিশেষ কামরা। বাকি যাত্রীদের জন্য রয়েছে সাধারণ মানের কামরার বন্দোবস্ত।
তিনটি ডেক ছাড়াও এর ভেতর রয়েছে সান ডেক। রয়েছে স্পা, লাউঞ্জ, রেস্তোরাঁ, পাঠাগার ও ব্যায়ামাগার। এতে ৫১ দিনের পুরো ভ্রমণ প্যাকেজ উপভোগ করতে চাইলে প্রতিদিনের খরচ পড়বে জনপ্রতি ২৫ থেকে ৫০ হাজার রুপি। অর্থাৎ মোট ৫১ দিনের এই নৌভ্রমণে খরচ পড়বে প্রায় ২০ লাখ রুপি। প্রমোদতরিটিতে থাকবেন ৪০ জন নাবিক বা ক্রু।
এই নৌবিহারটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে দেশের ইতিহাস-সংস্কৃতি সারা বিশ্বের সামনে উঠে আসে। এই ভ্রমণ পর্যটকদের ভারত ও বাংলাদেশের শিল্প, সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং আধ্যাত্মিকতা অনুভব করার সুযোগ দেবে। এই প্রমোদতরির আরেকটি বিশেষত্ব হলো, এতে রয়েছে বর্জ্য পানি পরিশোধনের ব্যবস্থা। নদী থেকে পানি তুলেই তা পরিশোধন করে গোসল ও অন্যান্য কাজে ব্যবহারোপযোগী করে দেয়া যাবে।



















