Turag River : শিল্পবর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত ‘তুরাগ নদ’
- আপডেট সময় : ০৪:৪৩:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২২৯ বার পড়া হয়েছে
দেশে নদীদূষণের কারণে বছরে ক্ষতি হয় ২৮৩ কোটি ডলার
‘নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা পরিদর্শনে এলে গাজীপুরের কারখানা মালিকেরা পরিশোধন কেন্দ্র চালু করেন। চলে ফের বন্ধ করেন। তারা দেশের ক্ষতি করছেন, ক্ষোভ নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীর’
ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
বাংলাদেশের বহু নদীই এখন নামেমাত্র টিকে আছে। অনেক নদীই দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে। তিন বছর আগে দখল-দূষণের হাত থেকে বাঁচাতে তুরাগ নদকে ব্যক্তি-আইনি সত্তা বা জীবন্ত সত্তা ঘোষণা করে হাইকোর্ট। আদালত সে সময় বলেছিল নদনদী বাঁচা-মরার ওপর বাংলাদেশের অস্তিত্ব জড়িত। নদী বাঁচলে বাঁচবে বাংলাদেশ।
খালিদ মাহমুদ চৌধুরী : ছবি সংগ্রহ
কিন্তু তাতে অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। শত শত পোশাক আর ডায়িং কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে দূষণের মাত্রা বহুগুণ বেড়েছে। বর্ষায় মোটামুটি প্রবাহ থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে জল হয়ে ওঠে বিষাক্ত। দুর্গন্ধে নদী পাড়ে টেকাই দায়। ঝাঁঝালো গ্যাসে চোখ জ্বলে। পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানেও থামছে না দখল-দূষণ।
তুরাগে একটি অনুষ্ঠানে আসেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তুরাগের অবস্থা দেখে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। বলেন,
শিল্পবর্জ্যের তুরাগ নদ ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা পরিদর্শনে এলে গাজীপুরের কারখানা মালিকেরা পরিশোধন কেন্দ্র চালু করেন। আর কমৃকর্তারা চলে গেলে ফের বন্ধ করে দেন। তাঁরা দেশের ক্ষতি করছেন।
অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাকশিল্পের কারণে গাজীপুর সারা বিশ্বে পরিচিত, আমাদের গর্বের স্থান গাজীপুর। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য এটি একটি অপরিকল্পিত শহরে পরিণত হয়েছে, আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, তুরাগ নদের তীরে বিশ্ব ইজতেমা হয়। সারা বিশ্বের মানুষ এখানে আসেন, তারা তুরাগ নদীতে অজু করেন। আমরা লজ্জিত যে তাদের পবিত্র জল দিতে পারি না। তুরাগ নদকে আমরা ভাগাড়ে পরিণত করেছি।

অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, গাজীপুরে তুরাগ নদ, বালু নদী, জিরাই খাল ও পাশের শীতলক্ষ্যা নদী আছে। আমরা এগুলো রক্ষা করার চেষ্টা করছি। কিন্তু কিছু ব্যবসায়ী একটু বেশি লাভের আশায় নদীতে শিল্পবর্জ্য ফেলে নদীর ক্ষতি করছে।
দেশে নদীদূষণের কারণে বছরে ক্ষতি হয় ২৮৩ কোটি ডলার। দূষিত কালো জল দিয়ে নৌকা চলাচল করছে। দেশের নদ-নদীগুলোর দশা এমনই। কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে নদীদূষণের কারণে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।
গাজীপুর জেলায় তিন হাজারের মতো কারখানা রয়েছে। ব্যবসায়ীরা শিল্পবর্জ্য পরিশোধন কেন্দ্র তৈরি করেন, কিন্তু সেটা চালান না। কারখানাগুলো থেকে পাঁচ শতাংশ বর্জ্যও নদীতে ফেললে নদী রক্ষা করা সম্ভব নয়।





















