ঢাকা ০১:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এলএনজি টার্মিনাল সচলে আরও পাঁচ দিন দেশজুড়ে গ্যাস সংকট তীব্র, বাসা-বাড়ি, শিল্প ও যানবাহনে চরম ভোগান্তি পরিবেশের মারাত্মক প্রভাবে হুমকির মুখে সুন্দরবন সশস্ত্র বাহিনীকে দলীয় হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে না বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান ভারতের ঐতিহাসিক বৌদ্ধ তীর্থস্থান সারনাথ স্বামীর নির্যাতন বরিশালে আওয়ামী লীগ নেত্রীর আত্মহত্যা রোববার বঙ্গভবন ছাড়ছেন সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ মেনে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি: স্পিকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর পদত্যাগপত্রে যা লিখেন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন আপনারা যেমন শুনেছেন, আমিও তেমনই শুনেছি  স্পিকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন, জোরালো হচ্ছে রাজনৈতিক আলোচনা

Michelle Bachelet: ঢাকা সফরের প্রথম দিনেই চার মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক মিশেলের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩২:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ অগাস্ট ২০২২ ৩১৫ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মিশেল ব্যাশেলেত

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলাদেশ সফরের প্রথম দিনেই চারজন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাশেলেত। এসব বৈঠকে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতির স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে জাতিসংঘ। বাংলাদেশ সে প্রস্তাব বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে। এর আগে চার দিনের সফরে ঢাকায় আসেন।

রবিবার বাংলাদেশ সফরে এসেই কর্মব্যস্ত দিন কাটান। এদিন মিশেল ব্যাশেলেত আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, বিদেশমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠকে বসেন। রাতে বিদেশমন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে নানা মাত্রায় আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রীরা এ সময় জনগণের মানবাধিকার সুরক্ষা ও বিকাশে সরকারের আন্তরিক চেষ্টার উদ্যোগগুলো তুলে ধরেন। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় নিয়মিতভাবে প্রতিবেদন উপস্থাপনের জন্য মিশেল ব্যাশেলেত বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন। বিষয়টি আরও ত্বরান্বিত ও কার্যকর করতে তিনি নতুন একটি প্রক্রিয়া গঠনের প্রস্তাব করেন।

বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় মিশেল ব্যাশেলেতের সঙ্গে আলোচনা শেষে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারাবন্দী অবস্থায় মারা যাওয়া লেখক মুশতাক আহমেদ সম্পর্কেও আলোচনা হয়েছে বলে জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মুশতাক সম্বন্ধে যখন উনি প্রশ্ন করেছেন, আমি পোস্টমর্টেম রিপোর্টটা তাঁকে পড়ে শুনিয়েছি। তারপর তিনি আর প্রশ্ন করেন নাই।’ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে তিনি সাংবাদিকদের যে কথাগুলো জানিয়েছিলেন, তা মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারকেও জানানো হয়।

গুমের প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ৭৬টি গুমের যে কথা এসেছে, সেগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খুঁজে দেখেছে। তাতে কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। বিচারকাজকে এড়ানোর জন্য তারা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। সেগুলোর নমুনা আমরা তাদের দিয়েছি।

গুম এবং সংবাদমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতো বিষয়ে বৈঠকে ব্যাখ্যা দেওয়ার হয়েছে। বাংলাদেশে যা হয়, তাই বলেছি। এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্সেস (গুম) শব্দ বাংলাদেশে নাই। কিছু লোক বলেছে, ৭৬ জন লোক নাকি গত ১০ বছরে নিখোঁজ হয়েছে। তারা বলেছে সরকারই নাকি নিখোঁজ করেছে। ৭৬ জনের ১০ জনকে আবার দেখা গেল, পাওয়া গেছে ঘোরাঘুরি করছে। আর বাকিদের এখনো আমরা ঠিক জানি না। এটা তাদের জানানো হয়েছে, বলেন ড. মোমেন।

বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগের বিষয়টি নিজে আলোচনার কথা উল্লেখ করে ড. মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং তারা বলে নাই, আমরা নিজের থেকে বলেছি। কিছু লোককে কিল করেছে (বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ রয়েছে) এবং তাদের তথ্য পেলে আমরা নিশ্চয় তদন্ত করে দেখব।’

বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই এমন অভিযোগের বিষয়ে জাতিসংঘের কাছে সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। ড. মোমেন বলেন, কেউ কেউ মনে করে বোধ হয় মিডিয়া নিয়ন্ত্রণাধীন। অনেকগুলো নিবন্ধিত মিডিয়া আছে, কিন্তু সরকারের মিডিয়া ছাড়া কোনো মিডিয়াই নাই বিষয়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ২৮০০ মিডিয়া আছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Michelle Bachelet: ঢাকা সফরের প্রথম দিনেই চার মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক মিশেলের

আপডেট সময় : ০৬:৩২:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ অগাস্ট ২০২২

মিশেল ব্যাশেলেত

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলাদেশ সফরের প্রথম দিনেই চারজন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাশেলেত। এসব বৈঠকে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতির স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে জাতিসংঘ। বাংলাদেশ সে প্রস্তাব বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে। এর আগে চার দিনের সফরে ঢাকায় আসেন।

রবিবার বাংলাদেশ সফরে এসেই কর্মব্যস্ত দিন কাটান। এদিন মিশেল ব্যাশেলেত আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, বিদেশমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠকে বসেন। রাতে বিদেশমন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে নানা মাত্রায় আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রীরা এ সময় জনগণের মানবাধিকার সুরক্ষা ও বিকাশে সরকারের আন্তরিক চেষ্টার উদ্যোগগুলো তুলে ধরেন। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় নিয়মিতভাবে প্রতিবেদন উপস্থাপনের জন্য মিশেল ব্যাশেলেত বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন। বিষয়টি আরও ত্বরান্বিত ও কার্যকর করতে তিনি নতুন একটি প্রক্রিয়া গঠনের প্রস্তাব করেন।

বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় মিশেল ব্যাশেলেতের সঙ্গে আলোচনা শেষে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারাবন্দী অবস্থায় মারা যাওয়া লেখক মুশতাক আহমেদ সম্পর্কেও আলোচনা হয়েছে বলে জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মুশতাক সম্বন্ধে যখন উনি প্রশ্ন করেছেন, আমি পোস্টমর্টেম রিপোর্টটা তাঁকে পড়ে শুনিয়েছি। তারপর তিনি আর প্রশ্ন করেন নাই।’ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে তিনি সাংবাদিকদের যে কথাগুলো জানিয়েছিলেন, তা মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারকেও জানানো হয়।

গুমের প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ৭৬টি গুমের যে কথা এসেছে, সেগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খুঁজে দেখেছে। তাতে কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। বিচারকাজকে এড়ানোর জন্য তারা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। সেগুলোর নমুনা আমরা তাদের দিয়েছি।

গুম এবং সংবাদমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতো বিষয়ে বৈঠকে ব্যাখ্যা দেওয়ার হয়েছে। বাংলাদেশে যা হয়, তাই বলেছি। এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্সেস (গুম) শব্দ বাংলাদেশে নাই। কিছু লোক বলেছে, ৭৬ জন লোক নাকি গত ১০ বছরে নিখোঁজ হয়েছে। তারা বলেছে সরকারই নাকি নিখোঁজ করেছে। ৭৬ জনের ১০ জনকে আবার দেখা গেল, পাওয়া গেছে ঘোরাঘুরি করছে। আর বাকিদের এখনো আমরা ঠিক জানি না। এটা তাদের জানানো হয়েছে, বলেন ড. মোমেন।

বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগের বিষয়টি নিজে আলোচনার কথা উল্লেখ করে ড. মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং তারা বলে নাই, আমরা নিজের থেকে বলেছি। কিছু লোককে কিল করেছে (বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ রয়েছে) এবং তাদের তথ্য পেলে আমরা নিশ্চয় তদন্ত করে দেখব।’

বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই এমন অভিযোগের বিষয়ে জাতিসংঘের কাছে সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। ড. মোমেন বলেন, কেউ কেউ মনে করে বোধ হয় মিডিয়া নিয়ন্ত্রণাধীন। অনেকগুলো নিবন্ধিত মিডিয়া আছে, কিন্তু সরকারের মিডিয়া ছাড়া কোনো মিডিয়াই নাই বিষয়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ২৮০০ মিডিয়া আছে।