ঢাকা ০৬:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি ও এপার-ওপার যাতায়তে আয় জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি এখনও তাজা, শহীদ ও আহতরা শুধু সংখ্যার অংশ নয় পোস্টাল ব্যালট নিয়ে পক্ষপাতের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের সামনে ছাত্রদলের অবস্থান বাংলাদেশ নিয়ম-ভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সমর্থন করে: তৌহিদ হোসেন সন্তান হারা মায়ের বুকফাটা আর্তনাদ যেন হাজারো গুমের শিকার পরিবারের নীরব চিৎকার গোপালগঞ্জ-৩: প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হিন্দু মহাজোটের গোবিন্দ প্রামানিক কাঁদছে জলহারা প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র, বুকে তার ধু ধু বালুচর ৫৬ পর্যবেক্ষক মোতায়েন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে  এখনই অতি সতর্কতার প্রয়োজন নেই: ইইউ ইরান ভেনেজুয়েলা নয়: ট্রাম্পের জন্য সহজ নয় জয়ের পথ গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে তারেক রহমান, মানবিক আবেগে ভরা মতবিনিময় সভা

Sitakunda fire : সীতাকুণ্ডে আগুনে পুড়ে গেছে ১০৫ কোটি টাকার তৈরি পোশাক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৩:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুন ২০২২ ২৬০ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছবি সংগ্রহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

সীতাকুণ্ডের বিধ্বংসী বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে মানুষের প্রাণই কেড়ে নেয়নি। সঙ্গে হানা দিয়েছে রপ্তানি পোশাকখাতে। ডিপোতে জাহাজে ওঠার অপেক্ষায় ছিলো ২৮টি পোশাক কারখানার ৩০ লাখ ৩৩ হাজার ৮৮৪ পিস পোশাক। যার রপ্তানিমূল্য ১ কোটি ১৪ লাখ ৯৬ হাজার ৫৯৬ মার্কিন ডলার তথা ১০৫ কোটি। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এ তথ্যা জানিয়েছে। পোশাকের ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে এইচঅ্যান্ডএম, টার্গেট করপোরেশন, এমবিএইচ, বেস, ফেম এলএলসি ইত্যাদি। মঙ্গলবার যখন আগুন নিয়ন্ত্রনের সুখবর আসলো, তার সঙ্গে আছড়ে পড়ে আরেক দুঃসংবাদ।

প্রায় তিনদিন পর ডিপোর আগুন নিয়ন্ত্রণে। সীতাকুণ্ডের বাতাসে পোড়া গন্ধ। চারিদিকে ধ্বংসস্তুপ। স্থানীয় মানুষের চেহারায় আতঙ্কের ছাপ। ক্লান্ত স্বজন হারানোর মানুষের আর্তনাদ। হাতে ছবি নিয়ে অপেক্ষার পালা। হাসপাতালের বাইরে স্বজনহারা মানুষ আর ভেতরে পোড়া মানুষের যন্ত্রণা। জীবন যুদ্ধে জমেমানুষে টানাটানি।

দুর্ঘটনায় দগ্ধ প্রত্যেকের কমবেশি চোখের গুরুতর সমস্যা হচ্ছে। চট্টগ্রাম হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন এমন ৬জনের উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। তাদের একজনের কর্ণিয়া মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত। প্রয়োজনে তাকে বিদেশে এবং বাকি ৫জনকে ঢাকার চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক আধ্যাপক দীন মোহাম্মদ নুরুল হক।তিনি প্রখ্যাত চক্ষু বিজ্ঞানীও। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে একথা জানান।

এদিকে আগুন লাগার তিন দিনের মাথায় মৃতদের শনাক্ত হওয়া ২৬জনকে স্বজনদের কাছে হস্তান্ত করা হয়েছে। বাকীদের শনাক্তে ডিএন নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষায় কোন মৃত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে কমপক্ষে একমাস সময়ের প্রয়োজন। সিআইডি চট্টগ্রাম ফরেনসিক ল্যাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আমি বিশ্বাস করেন ডিপোতে কিছু একটা না ঘটলে এতগুলো প্রাণ যেতো না।

মঙ্গলবার ঢাকায় ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরে ফায়ার ফাইটার শাকিল তরফদারের জানাজায় অংশ নিয়ে এমন মন্তব্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ফায়ার সার্ভিস সূত্রের খবর, ডিপোর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় জনবল সীমিত করা হয়েছে। দুইটি ইঞ্জিন সেখানে দায়িত্ব পালন করছে। এদিন ধ্বংস্তুপ থেকে যে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন, তা পরিচয়হীন। সরকারী মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪৩জনে। এর আগে বিএম কনটেইনার ডিপো থেকে ৪৯জনের মরদেহ উদ্ধারের কথা বলা হয়েছিলো, যা সঠিক নয়। নতুন যে দইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হলো তাদের মধ্যে একজন ফায়ার সার্ভিসের কর্মী বলে মনে করা হচ্ছে, ডিএনএ টেস্ট পরই তা নিশ্চিত হওয়া যাবে এমন তথ্য ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আনিসুর রহমানের।

এখনও ফায়ার সার্ভিসের তিনজন কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন। অপরজন মরদেহটি ডিপোর কর্মী বলে মনে করা হচ্ছে। নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা ডিএনএ নমুনা দিয়ে গেছেন। ফায়ার সার্ভিসের ১২ জন কর্মী সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নিখোঁজদের শনাক্তে মঙ্গলবার সকালেও চট্টগ্রাম হাসপাতালের সামনে স্থাপিত বুথে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিট।

তিন ফায়ার সার্ভিস কর্মীসহ দুইদিনে ৩৭জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ বলছে, কনটেইনার ডিপোতে আগুনে মৃত ৪১জনের মধ্যে ২৬ জনের পরিচয় শনাক্ত করে তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ১৫ জনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত সার্ভিসের ১৫ জন, পুলিশের ১০ জনসহ মোট ২৩০ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিৎসাধীন। চট্টগ্রামেই রয়েছেন ১০১ জন। গুরুতর আহত এক জনকে উন্নত চিকিৎসায় হেলিকপ্টারে ঢাকায় নিয়ে আনা হয়।

 

 

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Sitakunda fire : সীতাকুণ্ডে আগুনে পুড়ে গেছে ১০৫ কোটি টাকার তৈরি পোশাক

আপডেট সময় : ১০:১৩:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুন ২০২২

ছবি সংগ্রহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

সীতাকুণ্ডের বিধ্বংসী বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে মানুষের প্রাণই কেড়ে নেয়নি। সঙ্গে হানা দিয়েছে রপ্তানি পোশাকখাতে। ডিপোতে জাহাজে ওঠার অপেক্ষায় ছিলো ২৮টি পোশাক কারখানার ৩০ লাখ ৩৩ হাজার ৮৮৪ পিস পোশাক। যার রপ্তানিমূল্য ১ কোটি ১৪ লাখ ৯৬ হাজার ৫৯৬ মার্কিন ডলার তথা ১০৫ কোটি। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এ তথ্যা জানিয়েছে। পোশাকের ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে এইচঅ্যান্ডএম, টার্গেট করপোরেশন, এমবিএইচ, বেস, ফেম এলএলসি ইত্যাদি। মঙ্গলবার যখন আগুন নিয়ন্ত্রনের সুখবর আসলো, তার সঙ্গে আছড়ে পড়ে আরেক দুঃসংবাদ।

প্রায় তিনদিন পর ডিপোর আগুন নিয়ন্ত্রণে। সীতাকুণ্ডের বাতাসে পোড়া গন্ধ। চারিদিকে ধ্বংসস্তুপ। স্থানীয় মানুষের চেহারায় আতঙ্কের ছাপ। ক্লান্ত স্বজন হারানোর মানুষের আর্তনাদ। হাতে ছবি নিয়ে অপেক্ষার পালা। হাসপাতালের বাইরে স্বজনহারা মানুষ আর ভেতরে পোড়া মানুষের যন্ত্রণা। জীবন যুদ্ধে জমেমানুষে টানাটানি।

দুর্ঘটনায় দগ্ধ প্রত্যেকের কমবেশি চোখের গুরুতর সমস্যা হচ্ছে। চট্টগ্রাম হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন এমন ৬জনের উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। তাদের একজনের কর্ণিয়া মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত। প্রয়োজনে তাকে বিদেশে এবং বাকি ৫জনকে ঢাকার চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক আধ্যাপক দীন মোহাম্মদ নুরুল হক।তিনি প্রখ্যাত চক্ষু বিজ্ঞানীও। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে একথা জানান।

এদিকে আগুন লাগার তিন দিনের মাথায় মৃতদের শনাক্ত হওয়া ২৬জনকে স্বজনদের কাছে হস্তান্ত করা হয়েছে। বাকীদের শনাক্তে ডিএন নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষায় কোন মৃত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে কমপক্ষে একমাস সময়ের প্রয়োজন। সিআইডি চট্টগ্রাম ফরেনসিক ল্যাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আমি বিশ্বাস করেন ডিপোতে কিছু একটা না ঘটলে এতগুলো প্রাণ যেতো না।

মঙ্গলবার ঢাকায় ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরে ফায়ার ফাইটার শাকিল তরফদারের জানাজায় অংশ নিয়ে এমন মন্তব্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ফায়ার সার্ভিস সূত্রের খবর, ডিপোর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় জনবল সীমিত করা হয়েছে। দুইটি ইঞ্জিন সেখানে দায়িত্ব পালন করছে। এদিন ধ্বংস্তুপ থেকে যে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন, তা পরিচয়হীন। সরকারী মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪৩জনে। এর আগে বিএম কনটেইনার ডিপো থেকে ৪৯জনের মরদেহ উদ্ধারের কথা বলা হয়েছিলো, যা সঠিক নয়। নতুন যে দইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হলো তাদের মধ্যে একজন ফায়ার সার্ভিসের কর্মী বলে মনে করা হচ্ছে, ডিএনএ টেস্ট পরই তা নিশ্চিত হওয়া যাবে এমন তথ্য ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আনিসুর রহমানের।

এখনও ফায়ার সার্ভিসের তিনজন কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন। অপরজন মরদেহটি ডিপোর কর্মী বলে মনে করা হচ্ছে। নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা ডিএনএ নমুনা দিয়ে গেছেন। ফায়ার সার্ভিসের ১২ জন কর্মী সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নিখোঁজদের শনাক্তে মঙ্গলবার সকালেও চট্টগ্রাম হাসপাতালের সামনে স্থাপিত বুথে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিট।

তিন ফায়ার সার্ভিস কর্মীসহ দুইদিনে ৩৭জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ বলছে, কনটেইনার ডিপোতে আগুনে মৃত ৪১জনের মধ্যে ২৬ জনের পরিচয় শনাক্ত করে তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ১৫ জনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত সার্ভিসের ১৫ জন, পুলিশের ১০ জনসহ মোট ২৩০ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিৎসাধীন। চট্টগ্রামেই রয়েছেন ১০১ জন। গুরুতর আহত এক জনকে উন্নত চিকিৎসায় হেলিকপ্টারে ঢাকায় নিয়ে আনা হয়।