মুম্বাই হামলার ১৩তম বার্ষিকী: ঢাকায় আলোচনা সভা
- আপডেট সময় : ১০:০৭:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ নভেম্বর ২০২১ ২৯৮ বার পড়া হয়েছে
‘পাকিস্তান এবং তাদের সহযোগী জঙ্গিদের মোকাবেলার জন্য সরকার ও নাগরিক সমাজকে একজোট হবার আহ্বান’
মুম্বাই হামলার ১৩তম বার্ষিকীতে ঢাকায় ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’ বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতির সহযোগিতায় শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ৩ দিনব্যাপী আলোচনা সভা, আলোকচিত্র ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে। আলোচনা সভা বক্তারা বলেছেন, ঢাকায় শেখ হাসিনার জনসমাবেশে গ্রেনেড হামলার চার বছরের মাথায় ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বাইয়ে লস্খর-ই-তৈয়েবার জঙ্গী-সন্ত্রাসী হামলা পাকিস্তানের ছক। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে ঢাকার গুলশানে জঙ্গি হামলা একই সূত্রে গাঁথা।
বিচারপতি শামসুদ্দি চৌধুরী মানিক
আলোচনা সভার প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘২০০৮ সালের ২৬শে নভেম্বর ভারতের মুম্বাইয়ে ২২টি দেশের ১৭৫ জন সাধারণ নাগরিককে সন্ত্রাসীরা নির্মমভাবে হত্যা করে। সন্ত্রাসীরা কোন দেশ থেকে কাদের সহায়তায় এই সন্ত্রাসী কার্যক্রম সংঘটিত করে তা আমাদের সকলেরই জানা। ভারতের মতো বাংলাদেশেও বারবার জঙ্গি হামলার সম্মুখীন হয়েছে।
২০০১-এর পর বিএনপি আমলে জঙ্গিদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে লালন পালন করা হয়। তারা পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে মুছে ফেলার কার্যক্রম আরম্ভ করে। তারা বাংলাদেশের শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে বিনষ্ট করার জন্য বৈশাখী উৎসব থেকে শুরু করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদ, মন্দির, মঠ ও গির্জাসহ নানা ধর্মীয় স্থানে হামলা চালিয়ে নিরীহ মানুষ হত্যা করে। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর এদেরকে শক্ত হতে নির্মল করেন। তিনি সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি ঘোষণা করেন।
ঢাকায় পথনাটক
বাংলাদেশের বন্ধুরাষ্ট্র ভারত এর গোয়েন্দা তথ্য আমাদের সবসময় সহযোগিতা করেছে জঙ্গিদের হামলা প্রতিহত করে তাদের পাকড়াও করতে। এমনিভাবে আমরাও ভারতকে তথ্য দিয়ে জঙ্গিদের আটকে সহায়তা করেছি। ভবিষ্যতেও আমরা এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখব এবং একইসঙ্গে জঙ্গিবাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও প্রশিক্ষণ দাতা পাকিস্তানের সকল চক্রান্তকে প্রতিহত করে ভারতীয় উপমহাদেশে আমরা শান্তি-শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বজায় রাখব।
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী। আলোচনায় সভায় বক্তব্য রাখেন মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী দক্ষিণ এশীয় গণসম্মিলন-এর সভাপতি বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, নির্মূল কমিটির সহসভাপতি শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ভাষাসৈনিক
ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের পৌত্রী সমাজকর্মী আরমা দত্ত এমপি, বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতির সভাপতি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মোঃ রশিদুল আলম এবং ইনস্টিটিউট অব কনফ্লিক্ট, ল এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ-এর নির্বাহী পরিচালক নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল মোঃ আবদুর রশীদ (অব.)।
ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, ‘২০০৮ সালের ২৬শে নভেম্বর ভারতের মুম্বাই যা ঘটেছিল তা বর্ণনা করা খুবই কষ্টকর। কিছু অস্ত্রধারী পাকিস্তানি সন্ত্রাসী দেশি ও বিদেশি সাধারণ নাগরিকদের নির্মমভাবে হত্যা করে। এ হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত করে ভারতের
কাওসার আহমেদ পলাশ
আইএসআইয়ের মদদপুষ্ট লস্কর-ই-তৈয়বা। এ হামলার মাধ্যমে তারা শান্তি ও সম্প্রীতি বিনষ্ট করে ভারতসহ সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। সন্ত্রাসীরা শুধু ভারতেই নয় বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সংস্কৃতিকে বিনষ্ট করার জন্য পহেলা বৈশাখ ইত্যাদি সন্ত্রাসবাদ বিরোধী সমাবেশে হামলা চালিয়ে বাংলাদেশকে একটি জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা সফল হতে পারেনি এবং কখনো পারবেও না। মিথ্যার উপর সত্যের বিজয় সব সময় হয়ে এসেছে এবং হবে।
বক্তারা বলেন, ‘২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর পাকিস্তানের মদদপুষ্ট জঙ্গিদের এক নজিরবিহীন সন্ত্রাসী হামলায় ভারতের মুম্বাইয়ের তাজ হোটেল এবং সংশ্লিষ্ট এলাকা এক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিলো। যেখানে ভারতীয়সহ ২২টি দেশের বহু নাগরিক হতাহত হয়েছিলেন। পাকিস্তান কীভাবে বাংলাদেশ ও ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জঙ্গিবাদ রফতানিসহ ধর্মের নামে হত্যা, সন্ত্রাস ও ধ্বংসযজ্ঞ সাধন করে তা আমরা ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধকাল থেকে প্রত্যক্ষ করছি।
বক্তারা আরও বলেন, ‘১৯৭৫ সালে সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পৃক্ততা সম্পর্কে বহু গবেষণামূলক রচনা রয়েছে। এরপর থেকে বাংলাদেশ অধিকাংশ সময় শাসিত হয়েছে স্বাধীনতাবিরোধী পাকিস্তানপন্থী জঙ্গি মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির দ্বারা। পাকিস্তানের পৃষ্ঠপোষকতায় বিএনপি-জামায়াতের জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশে অসংখ্য হত্যা ও সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছে, যার ভেতর সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের শেখ হাসিনার জনসভায় গ্রেনেড ও বোমা হামলা।

হামলাকারীরা বলেছে কীভাবে তারা পাকিস্তানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়েছে এবং হামলায় ব্যবহৃত আর্জেস গ্রেনেডও পাকিস্তান থেকে এসেছে। ’৭১-এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয়ার জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো প্রকাশ্যে ও গোপনে যে সব তৎপরতা চালাচ্ছে তা গোটা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে আমরা মনে করি। পাকিস্তান এবং তাদের সহযোগী জঙ্গিদের মোকাবেলার জন্য সরকার ও নাগরিক সমাজকে একজোট হতে হবে।





















