ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্টকারী রেহাই পাবে না: শেখ হাসিনা
- আপডেট সময় : ১১:২৩:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর ২০২১ ২৭৮ বার পড়া হয়েছে
‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘ধর্মকে ব্যবহার করে যারা সহিংসতা’ সৃষ্টি করছে তাদেরকে খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে, ভবিষ্যতে কেউ এমন কাজ করতে সাহস পাবে না’
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ধর্মের নামে যারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করছে তারা কেউ রেহাই পাবে না। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে আগামীতে যেখানে সেখানে
পূজামণ্ডপ না করে নিয়ন্ত্রিতভাবে সার্বজনীন পূজামণ্ডপ করার নীতিমালা তৈরী করার জন্যও পূজা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘ধর্মকে
ব্যবহার করে যারা সহিংসতা’ সৃষ্টি করছে তাদেরকে অবশ্যই খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন ভারতের সাম্প্রদায়িক কর্মকাণ্ডের কোনো প্রভাব যেন বাংলাদেশের হিন্দুদের উপর আঘাত না আনে, সে বিষয়ে বন্ধুদেশ ভারতকে সর্তক থাকতে হবে। মহানবমীর দিন
বিকেলে গণভবন থেকে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির কেন্দ্রীয় পুজামণ্ডপে ভক্তদের সঙ্গে ভার্চুয়ালী শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।
এসময় শেখ হাসিনা বলেন, এবার ৩২ হাজার পূজামণ্ডপ হয়েছে। তবে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কিছু অঞ্চলে যে সহিংসতার কারণে উৎসবের রং নষ্ট হচ্ছে, তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। এই দেশ সব ধর্মের মানুষের।
প্রধানমন্ত্রী জানান ইচ্ছেমত মণ্ডপ করলে এক শ্রেণীর মানুষ সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরাপত্তা দিতে হিমশিম খেতে হয়। বর্তমান সরকার মসজিদ মাদ্রাসা যেমন নির্মাণ করেছে একইভাবে মন্দির করছে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।
তবে কোটি টাকা অপচয় করে পূজামণ্ডপ তৈরী না করে বিত্তবানদের ট্রাস্টে টাকা দেয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে
দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পূজামণ্ডপে ভক্তদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি। বাঙালি হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা চলার মধ্যেই বুধবার
সকালে কুমিল্লায় কুরআন অবমাননার কথিত অভিযোগ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করতে গেলে তারা তোপের মুখে পড়ে, বাঁধে সংঘর্ষ।
এর জের ধরে চাঁদপুরেও পূজা মণ্ডপে ভাঙচুর ও সংঘর্ষ হয়, সেখানে প্রাণহানিও ঘটে। মণ্ডপে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও কর্ণফুলী উপজেলা, কক্সবাজারের পেকুয়া, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ ও কুলাউড়া এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জেও।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। যেখানে যেখানে যারাই এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটাবে সঙ্গে সঙ্গে তাদেরকে খুঁজে বের
করা হবে। আমরা অতীতেও করেছি এবং ভবিষ্যতে আমরা করতে পারব এবং যথাযথ শাস্তি তাদের দিতে হবে। এমন শাস্তি যেন ভবিষ্যতে আর কেউ সাহস না পায় সেটাই আমরা চাই।
কুমিল্লার ঘটনা নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, খুব ব্যাপকভাবে তদন্ত হচ্ছে। অনেক তথ্য আমরা পাচ্ছি এবং অবশ্যই এ ধরনের ঘটনা যারা ঘটাবে তাদেরকে আমরা খুঁজে বের করবই। এটা আমরা
করতে পারব। এখন প্রযুক্তির যুগ এটা বের করা যাবে এবং সে যেই হোক না কেন, যে ধর্মেরই হোক না কেন তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা অবশ্যই নেওয়া হবে। আমরা তা করেছি এবং করব।





















