ঢাকা ১০:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত সরকার: তারেক রহমান সোনার ভরিতে ৩২৬৫ ও রুপার ভরিতে ৩৫০ টাকা কমলো জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক নুরুন নাহার বেগম সদস্য সচিব জেসমীন নূর প্রিয়াংকা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন প্রথম দফায় ১৫২ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অবরোধে অচলাবস্থা, আলোচনায় চাপ বাড়াচ্ছে পাকিস্তান হরমুজে নৌ-সংঘাত: ইরানের হামলায় তিন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত, আটক দুটি ১০ বছর পর তনু হত্যা রহস্যে অগ্রগতি, সাবেক সেনা সদস্য রিমান্ডে পাচারের অর্থ উদ্ধারে ১০ দেশের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়াধীন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারে টান: প্যাট্রিয়ট ও থাডের অর্ধেক প্রায় শেষ ভারত-শাসিত কাশ্মীরে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত ২১ জনের প্রাণহানি

জমজমাট ঢাকার পূজোমন্ডপ, মহাসপ্তমীতে ভক্তদের প্রথম অঞ্জলি

উদয়ন চৌধুরী, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০৮:৫১:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অক্টোবর ২০২১ ৩৪০ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এবারেও হচ্ছে না অষ্টমীর অন্যতম আকর্ষণ ‘কুমারী পূজা’

শরদীয় দুর্গোৎসবের বর্ণাঢ্য আয়োজন চলছে বাংলাদেশজুড়ে। মহাসপ্তমীতে কলা বৌ স্নান করিয়ে, ঘট প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে শুরু হয় মহাসপ্তমী পুজো। পঞ্জিকামতে এবার ঘোড়ায় চড়ে আগমন দেবীর। কথিত আছে, দেবীর ঘোড়ায় আগমনের ফল ছত্রভঙ্গ। সপ্তমী তিথি ভোর ৪টে

০৩ মিনিট ০৫ সেকেন্ড থেকে শুরু হয়ে শেষ হয় ১টা ৪৬ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডে। করোনা আবহে যাবতীয় সতর্কতা মেনেই মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীর আবাহন হবে এমন আশ্বাস উদ্যোক্তাদের। সাবেকিয়ানা থেকে থিম উৎসবের রোশনাই ছড়িয়েছে বাংলাদেশে।

মা সিদ্ধেরী কালি মন্দিরে এবারে উদযাপন হচ্ছে সাড়ে চারশ’ বছরের পুরানো পুজা। ১৯৭১ সালে ২৫শে মার্চ কালো রাতে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনে অতর্কিতে হামলা চালায় কুখ্যাত পাক বাহিনী। তারা রাজারবাগই নয়, আশাপাশের পাড়ামহল্লা হামলা চালিয়ে নির্বিচারে মানুষ হত্যা, মন্দির ভাংচুর, অগ্নিসংযোগসহ হেন হিংসাত্মক কাজ নেই, যা তারা করেনি। এই রাজারবাগের

বর্তমান টেলিকমুনিকেশন ভবনের উল্টো দিকে অরুণীমা জলকল্যাণ দেবায়ল পূজা কমিটি এবারে সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছে। স্বাধীনতার পরপরই ধ্বস্তস্তুপের এককোণে শুরু হয়েছিলো পূজো।

সিদ্ধেশ্বরী কালি মন্দিরে মায়ের সঙ্গে এসেছিলো সৃজান। সঙ্গে ছোট ভাইও রয়েছে। জানালো গত বছর পূজোর আনন্দটা কেড়ে নিয়েছেলো করোনা। এবারে অতিমারি একেবারেই কমে এসেছে। এমন একটা সময়ে পূজো শুরু হওয়ায় তাদের আনন্দের সীমা নেই। সৃজানকে খুবই উৎফুল্ল। মা ডালা ভর্তি গোলাপ নিয়ে এসেছেন। শ্যামা পূজো দিলেন। মায়ের কাছে সন্তান তথা পরিবার এবং সমাজের কল্যাণ প্রার্থনা করেন।

সিদ্ধেশ্বরী কমিটির তরফে জানানো হয়, এবারে সরকারী বিধিনিষেধ মেনেই তারা পূজোর সকল আয়োজন সম্পন্ন করতে যাচ্ছেন। মন্দিরের প্রধান ফটকে ‘মেটাল ডিটেক্টর’ বসানো। নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন র‌্যাব ও পুলিশ। রয়েছেন নারী পুলিশের দলও। মন্দির ঘিরে সিসি ক্যামেরা।

সৃজন

হাজার হাজার পূজামণ্ডপে উৎসবে মাতোয়ারা। মণ্ডপে মণ্ডপে ঢাকের বোলে যেন ধ্বনিত হচ্ছে বাঙালি হিন্দুদের হৃদয়তন্ত্রীতে বাঁধভাঙা আনন্দ জোয়ার। শোনা যায় উলুধ্বনি, শঙ্খ, কাঁসা ও ঢাকের বাদ্য। সোমবার মহাষ্ঠীতে দেবী দুর্গার বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোপূজা।ফি বারের চেয়ে এবারের পূজো ঝাকজমকপূর্ণ হবে, তা আঁচ করা গিয়েছিলো আগেই। অতিমারির কারণে গেল বছর ঘরের বাইরে পা রাখা আটকে ছিলো বিধিনিষেধের শিকলে। এবারে মুক্ত।

শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনী মন্দিরে এবারেও আয়োজন করা হয়েছে জমজমাট পূজোর আয়োজন। সকালে বাংলাদেশ  রেলওয়ের মাহাপরিচালক ধীরেন্দ্রনাথ মজুমদার আয়োজনের উদ্বোধন করেন। এই মন্ডপের বিশাল চত্বরে আয়োজনটা বেশ জমানো হয়ে থাকে। ভক্তদের উপচে পড়া ভীড় লেগেই থাকে। এখানের পুরোহিত উত্তর চক্রবর্তী জানালেন।

পুরোহিত উত্তর চক্রবর্তী

অস্পূর্ণতা কিছুটা হলেও পুষিয়ে নেবার আনন্দে মেতেছে সবাই। এবারে প্রায় দেড় হাজার বেশি মন্ডপে পূজা উৎযাপন হচ্ছে। সকল ধর্মের প্রধান আহবান মানুষে মানুষে সম্প্রতি। প্রতিযোগিতা নয়। ধর্ম আমাদের ভ্রাতৃপ্রেম জাগ্রত করে, জানালেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদার।

 ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদার

মহাসপ্তমী শুরু হচ্ছে দেবী-দর্শন, দেবীর পায়ে ভক্তদের অঞ্জলি প্রদান ও প্রসাদ গ্রহণ। মূলত এদিন দুর্গোৎসবের মূল পর্বেরও শুরু। মহাসপ্তমীতে ষোড়শ উপাচারে অর্থাৎ ষোলটি উপাদানে দেবীর পূজা হবে। সকালে ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার চক্ষুদান, দেবীকে আসন, বস্ত্র, নৈবেদ্য, স্নানীয়, পুষ্পমাল্য, চন্দন, ধূপ ও দীপ দিয়ে পূজা করবেন ভক্তরা। সপ্তমী পূজা উপলক্ষ্যে সন্ধ্যায় থাকছে

বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভক্তিমূলক সংগীত, রামায়ণ পালা, আরতিসহ নানা অনুষ্ঠান হবে। বিশুদ্ধ পঞ্জিকা মতে সপ্তমীতে পূর্বাহ্ন ৯-৫৭ মধ্যে নবপত্রিকা প্রবেশ, স্থাপন ও সপ্তাদি কল্পারম্ভ এবং সপ্তমী বিহিত পূজা প্রশস্ত।

আশির দশকেও বাংলাদেশে বিশেষ করে পুরানো ঢাকায় পূজা সীমাবদ্ধ। সেটাও ছোট আকারে। বর্তমান দৃশ্যের সঙ্গে আগের আয়োজনের কোন তুলনা হয়না। ৯০ দশকে এসে শারদীয় দুর্গোৎসব বাংলাদেশে সার্বজনীন রূপ পায়। ঢাকাসহ সারা দেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ, আনসার, র‌্যাবসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

সম্প্রতি করোনার প্রভাব কমে আসায় এবং পূজা উপলক্ষ্যে বেশ জমে উঠেছে শপিং মল, মার্কেট ও রাস্তার পাশের দোকানগুলো। ক্রেতারা ভিড় জমাচ্ছেন কাপড়, জুতা, ইলেকট্রনিক পণ্যসহ নানান জিনিস কিনতে। শাঁখালিপটির উদ্যোগ বৃষ্টি এবারে বেশ উফুল্লাহ। তার দোকানে দেখা গেল ব্যস্তাতা। একের পর এক ক্রেতা আসছেন। এক ফাঁকে জানালেন, এবারে করোনার কমে আসায় কেনাকাটা ভালো। গেল বছরতো তাদের তারা থেকেই বেরুতে পারেননি।

বৃষ্টি

সপ্তমীর পূজার শুরুতেই দেবী দুর্গার প্রতিবিম্ব আয়নায় ফেলে বিশেষ ধর্মীয় রীতিতে স্নান করানো হয়। দুর্গোৎসবের দ্বিতীয় দিন মহাসপ্তমীতে দেবী দুর্গার পায়ে প্রথম পুষ্পাঞ্জলী দিয়েছেন ভক্তরা। এরপর নবপত্রিকা স্থাপন করা হয়। নবপত্রিকার আরেক নাম হলো কলা বৌ স্নান। এছাড়া দেবীর চক্ষুদানের মাধ্যমে দেবী দুর্গার প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয়। বুধবার মহাষ্টমী পূজার আয়োজন চলছে। পূজা উদযাপন পরিষদের তরফে বলা হয়েছে, এবারেও অষ্টমীর অন্যতম আকর্ষণ কুমারী পূজা হবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জমজমাট ঢাকার পূজোমন্ডপ, মহাসপ্তমীতে ভক্তদের প্রথম অঞ্জলি

আপডেট সময় : ০৮:৫১:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অক্টোবর ২০২১

এবারেও হচ্ছে না অষ্টমীর অন্যতম আকর্ষণ ‘কুমারী পূজা’

শরদীয় দুর্গোৎসবের বর্ণাঢ্য আয়োজন চলছে বাংলাদেশজুড়ে। মহাসপ্তমীতে কলা বৌ স্নান করিয়ে, ঘট প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে শুরু হয় মহাসপ্তমী পুজো। পঞ্জিকামতে এবার ঘোড়ায় চড়ে আগমন দেবীর। কথিত আছে, দেবীর ঘোড়ায় আগমনের ফল ছত্রভঙ্গ। সপ্তমী তিথি ভোর ৪টে

০৩ মিনিট ০৫ সেকেন্ড থেকে শুরু হয়ে শেষ হয় ১টা ৪৬ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডে। করোনা আবহে যাবতীয় সতর্কতা মেনেই মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীর আবাহন হবে এমন আশ্বাস উদ্যোক্তাদের। সাবেকিয়ানা থেকে থিম উৎসবের রোশনাই ছড়িয়েছে বাংলাদেশে।

মা সিদ্ধেরী কালি মন্দিরে এবারে উদযাপন হচ্ছে সাড়ে চারশ’ বছরের পুরানো পুজা। ১৯৭১ সালে ২৫শে মার্চ কালো রাতে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনে অতর্কিতে হামলা চালায় কুখ্যাত পাক বাহিনী। তারা রাজারবাগই নয়, আশাপাশের পাড়ামহল্লা হামলা চালিয়ে নির্বিচারে মানুষ হত্যা, মন্দির ভাংচুর, অগ্নিসংযোগসহ হেন হিংসাত্মক কাজ নেই, যা তারা করেনি। এই রাজারবাগের

বর্তমান টেলিকমুনিকেশন ভবনের উল্টো দিকে অরুণীমা জলকল্যাণ দেবায়ল পূজা কমিটি এবারে সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছে। স্বাধীনতার পরপরই ধ্বস্তস্তুপের এককোণে শুরু হয়েছিলো পূজো।

সিদ্ধেশ্বরী কালি মন্দিরে মায়ের সঙ্গে এসেছিলো সৃজান। সঙ্গে ছোট ভাইও রয়েছে। জানালো গত বছর পূজোর আনন্দটা কেড়ে নিয়েছেলো করোনা। এবারে অতিমারি একেবারেই কমে এসেছে। এমন একটা সময়ে পূজো শুরু হওয়ায় তাদের আনন্দের সীমা নেই। সৃজানকে খুবই উৎফুল্ল। মা ডালা ভর্তি গোলাপ নিয়ে এসেছেন। শ্যামা পূজো দিলেন। মায়ের কাছে সন্তান তথা পরিবার এবং সমাজের কল্যাণ প্রার্থনা করেন।

সিদ্ধেশ্বরী কমিটির তরফে জানানো হয়, এবারে সরকারী বিধিনিষেধ মেনেই তারা পূজোর সকল আয়োজন সম্পন্ন করতে যাচ্ছেন। মন্দিরের প্রধান ফটকে ‘মেটাল ডিটেক্টর’ বসানো। নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন র‌্যাব ও পুলিশ। রয়েছেন নারী পুলিশের দলও। মন্দির ঘিরে সিসি ক্যামেরা।

সৃজন

হাজার হাজার পূজামণ্ডপে উৎসবে মাতোয়ারা। মণ্ডপে মণ্ডপে ঢাকের বোলে যেন ধ্বনিত হচ্ছে বাঙালি হিন্দুদের হৃদয়তন্ত্রীতে বাঁধভাঙা আনন্দ জোয়ার। শোনা যায় উলুধ্বনি, শঙ্খ, কাঁসা ও ঢাকের বাদ্য। সোমবার মহাষ্ঠীতে দেবী দুর্গার বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোপূজা।ফি বারের চেয়ে এবারের পূজো ঝাকজমকপূর্ণ হবে, তা আঁচ করা গিয়েছিলো আগেই। অতিমারির কারণে গেল বছর ঘরের বাইরে পা রাখা আটকে ছিলো বিধিনিষেধের শিকলে। এবারে মুক্ত।

শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনী মন্দিরে এবারেও আয়োজন করা হয়েছে জমজমাট পূজোর আয়োজন। সকালে বাংলাদেশ  রেলওয়ের মাহাপরিচালক ধীরেন্দ্রনাথ মজুমদার আয়োজনের উদ্বোধন করেন। এই মন্ডপের বিশাল চত্বরে আয়োজনটা বেশ জমানো হয়ে থাকে। ভক্তদের উপচে পড়া ভীড় লেগেই থাকে। এখানের পুরোহিত উত্তর চক্রবর্তী জানালেন।

পুরোহিত উত্তর চক্রবর্তী

অস্পূর্ণতা কিছুটা হলেও পুষিয়ে নেবার আনন্দে মেতেছে সবাই। এবারে প্রায় দেড় হাজার বেশি মন্ডপে পূজা উৎযাপন হচ্ছে। সকল ধর্মের প্রধান আহবান মানুষে মানুষে সম্প্রতি। প্রতিযোগিতা নয়। ধর্ম আমাদের ভ্রাতৃপ্রেম জাগ্রত করে, জানালেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদার।

 ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদার

মহাসপ্তমী শুরু হচ্ছে দেবী-দর্শন, দেবীর পায়ে ভক্তদের অঞ্জলি প্রদান ও প্রসাদ গ্রহণ। মূলত এদিন দুর্গোৎসবের মূল পর্বেরও শুরু। মহাসপ্তমীতে ষোড়শ উপাচারে অর্থাৎ ষোলটি উপাদানে দেবীর পূজা হবে। সকালে ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার চক্ষুদান, দেবীকে আসন, বস্ত্র, নৈবেদ্য, স্নানীয়, পুষ্পমাল্য, চন্দন, ধূপ ও দীপ দিয়ে পূজা করবেন ভক্তরা। সপ্তমী পূজা উপলক্ষ্যে সন্ধ্যায় থাকছে

বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভক্তিমূলক সংগীত, রামায়ণ পালা, আরতিসহ নানা অনুষ্ঠান হবে। বিশুদ্ধ পঞ্জিকা মতে সপ্তমীতে পূর্বাহ্ন ৯-৫৭ মধ্যে নবপত্রিকা প্রবেশ, স্থাপন ও সপ্তাদি কল্পারম্ভ এবং সপ্তমী বিহিত পূজা প্রশস্ত।

আশির দশকেও বাংলাদেশে বিশেষ করে পুরানো ঢাকায় পূজা সীমাবদ্ধ। সেটাও ছোট আকারে। বর্তমান দৃশ্যের সঙ্গে আগের আয়োজনের কোন তুলনা হয়না। ৯০ দশকে এসে শারদীয় দুর্গোৎসব বাংলাদেশে সার্বজনীন রূপ পায়। ঢাকাসহ সারা দেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ, আনসার, র‌্যাবসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

সম্প্রতি করোনার প্রভাব কমে আসায় এবং পূজা উপলক্ষ্যে বেশ জমে উঠেছে শপিং মল, মার্কেট ও রাস্তার পাশের দোকানগুলো। ক্রেতারা ভিড় জমাচ্ছেন কাপড়, জুতা, ইলেকট্রনিক পণ্যসহ নানান জিনিস কিনতে। শাঁখালিপটির উদ্যোগ বৃষ্টি এবারে বেশ উফুল্লাহ। তার দোকানে দেখা গেল ব্যস্তাতা। একের পর এক ক্রেতা আসছেন। এক ফাঁকে জানালেন, এবারে করোনার কমে আসায় কেনাকাটা ভালো। গেল বছরতো তাদের তারা থেকেই বেরুতে পারেননি।

বৃষ্টি

সপ্তমীর পূজার শুরুতেই দেবী দুর্গার প্রতিবিম্ব আয়নায় ফেলে বিশেষ ধর্মীয় রীতিতে স্নান করানো হয়। দুর্গোৎসবের দ্বিতীয় দিন মহাসপ্তমীতে দেবী দুর্গার পায়ে প্রথম পুষ্পাঞ্জলী দিয়েছেন ভক্তরা। এরপর নবপত্রিকা স্থাপন করা হয়। নবপত্রিকার আরেক নাম হলো কলা বৌ স্নান। এছাড়া দেবীর চক্ষুদানের মাধ্যমে দেবী দুর্গার প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয়। বুধবার মহাষ্টমী পূজার আয়োজন চলছে। পূজা উদযাপন পরিষদের তরফে বলা হয়েছে, এবারেও অষ্টমীর অন্যতম আকর্ষণ কুমারী পূজা হবে না।