১৫ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের প্রস্তুত বিএনপি
- আপডেট সময় : ০৬:৩৯:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
পঞ্চান্ন বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল বাংলাদেশ। সহিংসতাহীন ও তুলনামূলক শান্ত পরিবেশে সম্পন্ন হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে।
শুক্রবার ঢাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রোববার থেকেই সরকার গঠনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। তাঁর বক্তব্যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারের ওপর বিশেষ জোর ছিল। তিনি ইঙ্গিত করেন, দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও দমনমূলক পরিস্থিতি চললে উগ্রতা মাথাচাড়া দিতে পারে, সেই অভিজ্ঞতা থেকে বেরিয়ে আসাই এখন অগ্রাধিকার।
নির্বাচন কমিশনের প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী, ঘোষিত ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে পেয়েছে ২০৯টি আসন। জোটসঙ্গীদের নিয়ে দলটির আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১২–এ, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৫১ আসনের সাংবিধানিক শর্তের অনেক ঊর্ধ্বে। নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানান, মোট ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫৯.৪৪ শতাংশ।
একই দিনে অনুষ্ঠিত গণভোটে অংশগ্রহণের হার ছিল ৬০.২৬ শতাংশ; সেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে। বিশেষভাবে লক্ষণীয় ছিল সংখ্যালঘু ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। ঢাকার হিন্দু–অধ্যুষিত অঞ্চল থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন জেলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটাররা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছেন বলে নির্বাচন–সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি।
পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তুলনামূলক শান্ত পরিবেশ এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি ভোটারদের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হয়েছে। এবার ৬৮টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

অন্যান্য ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও সীমিত সংখ্যক আসনে জয়লাভ করেছেন, যা সংসদে বহুমাত্রিক বিতর্কের সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা–১৭ ও বগুড়া–৬ আসনে বিজয়ী হয়েছেন।
দল আগেই ঘোষণা দিয়েছে, সরকার গঠিত হলে তিনিই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। ২০০১ সালের পর দীর্ঘ বিরতির শেষে এটি হবে বিএনপির চতুর্থবারের মতো রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন। দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া–র রাজনৈতিক উত্তরাধিকার সামনে রেখে বিএনপি নতুন প্রশাসনিক অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে।
চট্টগ্রাম–২ ও চট্টগ্রাম–৪ আসনের ফল আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে এখনো ঘোষণা হয়নি। একটি আসনে নির্বাচনও স্থগিত রয়েছে। তবে সামগ্রিক চিত্রে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ ও সংখ্যালঘুদের অংশগ্রহণ বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি নতুন আস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দৃষ্টি ১৫ ফেব্রুয়ারির আনুষ্ঠানিক সরকার গঠন এবং সংসদের প্রথম অধিবেশনের দিকে।
নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র চেয়ারম্যান তারেক রহমান–কে পৃথক অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন একাধিক বিশ্বনেতা। কূটনৈতিক মহলে এটিকে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর বার্তায় দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধন ও উন্নয়ন সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, পারস্পরিক আস্থা ও প্রতিবেশীসুলভ সহযোগিতার ভিত্তিতে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।
মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু পৃথক বার্তায় দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও সামুদ্রিক সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং অভিনন্দন জানিয়ে অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও কৌশলগত অংশীদারত্ব এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগসহ চলমান প্রকল্পগুলোতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যাশাও তাঁর বার্তায় উঠে আসে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা, মানবাধিকার ও সুশাসনের প্রশ্নে পারস্পরিক সংলাপ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। ওয়াশিংটন বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহী বলেও জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, এ অভিনন্দন বার্তাগুলো নতুন সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার ইঙ্গিত দেয়। এখন দৃষ্টি ১৫ ফেব্রুয়ারির আনুষ্ঠানিক সরকার গঠন এবং পরবর্তী কূটনৈতিক তৎপরতার দিকে।


















