হু হু করে বাড়ছে বানের জল, টানা বর্ষণে নির্ঘুম রাত কাটছে ফেণীবাসীর
- আপডেট সময় : ০৯:০৮:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫ ১৮২ বার পড়া হয়েছে
শহরের অলিগলিতে হানা দিয়েছে বানের জল। ২৪’র আগস্ট মাসের স্মরণকালের বন্যার কথা ভাবতে গিয়ে ফেণীর মানুষ এখন দিশেহারা। তাদের তাড়িয়ে বেড়ানচ্ছে ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি। এরই মধ্যে চলতি বর্ষা মৌসুমে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৪৪০ সর্বোচ্চ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। জেলার নিম্ন এলাকায় বাড়িঘরে জল ঢুকতে শুরু করেছে।
২৪’র আগস্ট মাসের স্মরণকালের বন্যায় বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা ফেনীর সব উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। সেসময় প্রাণহানি হয়েছিল ২৯ জনের । জলবন্দী হয়ে পড়েছিলো ১০ লাখের বেশি মানুষ।
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো সড়ক যোগাযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যানবাহন, ঘরবাড়ি ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ প্রায় সব খাত। জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে সেই বন্যায় প্রায় ২ হাজার ৬৮৬ কোটি ২০ লাখ ৫০০ টাকার ক্ষতি হয়েছিল।

এ বছর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে ফেনীতে চলতি মৌসুমে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৪৪০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা চলতি বর্ষা মৌসুমে এক দিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড। টানা বর্ষণে ফেনী শহরের বেশির ভাগ সড়ক হাঁটুভাঙ্গা জলে তলিয়ে গেছে।
অতিবৃষ্টি ও ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে বেড়েছে জেলার বিভিন্ন নদীর পানি। ভেঙেছে দুটি নদীর বেড়িবাঁধ। লোকালয়ে নদীর জল ঢুকছে হু হু করে। নিচু এলাকার বাসিন্দারা গত বছরের মতো ফের বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা করছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৪০ মিলিমিটার বৃষ্টির পরিমাণ রেকর্ড করা হয়েছে।

এর মধ্যে শুধু সকাল নয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টায় ২০৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। জল উন্নয়ন বোর্ড সূত্রের খবর, টানা বর্ষণ ও উজান থেকে আসা ঢলে ফেনীর মুহুরী, কহুয়া, সিলোনিয়া নদীতে পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মুহুরী নদীর জল বিপৎসীমার ১১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
এ নদীতে জল বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৫৫ সেন্টিমিটার। নদীর জল বাড়ায় মুহুরী, কহুয়া, সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থান ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে লোকালয়ে ঢুকতে শুরু করেছে নদীর পানি। এর আগে সকালে ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুর রোড এলাকায় মুহুরী নদীর পাড়সংলগ্ন সড়ক ভেঙে দুটি দোকান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।



















