হালদা রক্ষায় গেজেট পরিবর্তন করা হবে : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা
- আপডেট সময় : ০৪:২৬:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫ ২২১ বার পড়া হয়েছে
সংশোধিত গেজেটের মাধ্যমে হালদা নদীতে তামাক চাষ ও দূষণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হবে
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, হালদা নদীর উন্নয়নমূলক অনেক কার্যক্রম বাস্তবায়নে গেজেট সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। তাই নদী রক্ষায় বিদ্যমান গেজেট পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সংশোধিত গেজেটের মাধ্যমে হালদা নদীতে তামাক চাষ ও দূষণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হবে।
মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে ‘মৎস্য হেরিটেজ বাস্তবায়ন তদারকি কমিটি’র ১৫তম সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা।
উপদেষ্টা বলেন, হালদা নদী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সভা থেকে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, প্রয়োজনে চলমান প্রকল্প ও ডিপিপির বাইরে থেকেও হালদা নদীর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে গবেষণা পরিচালনা করা হবে।
ফরিদা আখতার বলেন, প্রকল্প মানে শুধু অর্থ ব্যয় নয়; বরং লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণে সঠিক পরিকল্পনা, কার্যকর বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত তদারকি অপরিহার্য। তিনি হালদা নদী রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ ও সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দেন।

তামাক চাষ বন্ধের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, তামাক চাষের ফলে নদীতীরবর্তী ভূমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, যা নদীর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়কে আহ্বান জানান, তামাক চাষের বিকল্প জীবিকার সুযোগ তৈরি করে কৃষকদের সহায়তা করতে। উপদেষ্টা বলেন, হালদা নদীকে তামাকমুক্ত করতে হবে। এ লক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, হালদা নদী সংরক্ষণে বিদ্যমান নীতিনির্ধারণী প্রতিবন্ধকতাগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করে সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমান সরকারের মেয়াদকালেই হালদা নদী রক্ষা ও উন্নয়নে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস. এম. মনিরুজ্জামান।
এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার নুসরাত সুলতানা, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক এবি এম ইফতেখারুল ইসলাম, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক জমির উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা।
সভায় হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়)-এর অগ্রগতি তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন। হালদা নদীর সমস্যা, সম্ভাবনা ও সমাধানের বিষয়ে উপস্থাপনা করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মনজুরুল কিবরীয়া।



















