হাদির হত্যাকারীদের অবস্থান অজানা, অভিযান ও নজরদারি জোরদার: আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
- আপডেট সময় : ০৭:৫০:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ ৭৪ বার পড়া হয়েছে
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল হত্যাকারীদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে যৌথ বাহিনীর অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ–২’ এবং দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অগ্রগতি বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন শাখার মুখপাত্ররা এ তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত আইজিপি রফিকুল ইসলাম বলেন, হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ও সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনো হাতে আসেনি। তবে তদন্তকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, হত্যাকাণ্ডের দিন অভিযুক্ত ফয়সাল নরসিংদীর গ্রিনজোন রিসোর্ট থেকে আগারগাঁওয়ে তার বোনের বাসায় যান।
পরে তার শ্যালক শিপুকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি জানান, হত্যাচেষ্টার পর ব্যবহৃত পিস্তলের ব্যাগটি একাধিক হাত ঘুরে শেষ পর্যন্ত বিলে ফেলে দেওয়া হয়।
বিজিবি ময়মনসিংহ রিজিয়নের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সরকার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, হত্যাকারী ময়মনসিংহে অবস্থান করছে, এমন তথ্য পাওয়ার পর যৌথ বাহিনী সারারাত অভিযান চালায়। কল হিস্ট্রি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালিত হলেও অভিযুক্ত ফিলিপকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
তিনি জানান, ফিলিপ সীমান্তবর্তী এলাকায় মানবপাচার ও চোরাচালান চক্রের সঙ্গে যুক্ত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তার পাশাপাশি জেমি চিসিংসহ আরও কয়েকজনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্তরা ইচ্ছাকৃতভাবে অবস্থান গোপন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে তদন্তে বাধা সৃষ্টি করছে।
মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট পরিবর্তনের তথ্য উদঘাটনসহ বিআরটিএ ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি জানান, এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা চেকগুলোর অ্যাকাউন্টে কোনো অর্থ পাওয়া যায়নি এবং সব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।



















