স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার হত্যায় নতুন সিসিটিভি ফুটেজ, শুটারদের চেহারা আরও স্পষ্ট: পুলিশ
- আপডেট সময় : ০৭:৩৯:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬ ৪১ বার পড়া হয়েছে
ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্যসচিব আজিজুর রহমান মুসাব্বির হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন অগ্রগতির কথা জানিয়েছে পুলিশ। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত শুটারদের চেহারা আরও স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যায়—এমন নতুন সিসিটিভি ফুটেজ তাদের হাতে এসেছে। এসব ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীতে তেজগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ক্যশৈনু মারমা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, “নতুন কিছু সিসিটিভি ফুটেজ আমরা সংগ্রহ করেছি। এতে শুটারদের চেহারা আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। আমরা ফুটেজগুলো নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করছি এবং বিভিন্ন সূত্র যাচাই করে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে—সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানান ওসি। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত শত্রুতা, রাজনৈতিক বিরোধ কিংবা অন্য কোনো কারণ—সব দিক মাথায় রেখে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, মুসাব্বির হত্যার ঘটনায় দুই দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা। এর প্রতিবাদে শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরা শপিংমল এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।
বিক্ষোভকারীরা বসুন্ধরা শপিংমলের পেছনের গেটে জড়ো হয়ে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। স্লোগানে স্লোগানে পুরো এলাকা উত্তাল হয়ে ওঠে। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ফার্মগেট হয়ে তেজগাঁও থানার সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রকাশ্য গুলিতে একজন রাজনৈতিক নেতা নিহত হলেও এখনো আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
বিক্ষোভকারীরা দ্রুত তদন্ত শেষ করে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। তারা হুঁশিয়ারি দেন, দাবি আদায় না হলে কর্মসূচি আরও কঠোর করা হবে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর পশ্চিম তেজতুরি পাড়ায় দুর্বৃত্তরা আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাজধানীর বিআরবি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে এবং খুব শিগগিরই দৃশ্যমান অগ্রগতি পাওয়া যাবে বলে তারা আশাবাদী।




















