ঢাকা ০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশ নিয়ম-ভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সমর্থন করে: তৌহিদ হোসেন প্রত্যেকটি অন্যায়ের বিচার চাইলে গণতান্ত্রিক সরকার অপরিহার্য, তারেক রহমান গোপালগঞ্জ-৩: প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হিন্দু মহাজোটের গোবিন্দ প্রামানিক কাঁদছে জলহারা প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র, বুকে তার ধু ধু বালুচর ৫৬ পর্যবেক্ষক মোতায়েন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে  এখনই অতি সতর্কতার প্রয়োজন নেই: ইইউ ইরান ভেনেজুয়েলা নয়: ট্রাম্পের জন্য সহজ নয় জয়ের পথ গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে তারেক রহমান, মানবিক আবেগে ভরা মতবিনিময় সভা খালেদা জিয়াকে ‘স্লো পয়জন’ দেওয়া হয়েছিল: ডা. এফ এম সিদ্দিকীর গুরুতর অভিযোগ কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ: রংপুরে বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় সমাবেশ ২১ দিন লাশের সঙ্গে বসবাস: ঋণ-বিবাদে নৃশংসভাবে খুন মা ও কিশোরী মেয়ে

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম টাকা ও কয়েনের নকশাকার শিল্পী কে জি মুস্তাফা প্রয়াত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৪:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ জুলাই ২০২৩ ৪৬৩ বার পড়া হয়েছে

কে জি মুস্তাফা (১৯৪৩-২০২৩) : ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

স্বাধীন বাংলাদেশের টাকা ও কয়েনের নকশা যিনি করেছিলেন, তার নাম শিল্পী কে জি মুস্তাফা। কে জি মুস্তাফা স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ডাকটিকিটসহ আরও গুরুত্বপূর্ণ স্মারকেরও নকশাকার।

৮০ বছর বয়সে এই কর্মবীর শিল্পী ৭ জুলাই শুক্রবার ভোরে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ বহু আত্মীয়স্বজন এবং শুভাকাঙ্খী রেখে গেছেন শিল্পী।

ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন শিল্পী কে জি মুস্তাফা। তার বাড়ি মাদারীপুরে।

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ১ টাকার ব্যাংকনোটছবি: সংগৃহীত

কে জি মুস্তাফা এমন এক শিল্পী, যাঁর শিল্পকর্ম মানুষের পকেটে পকেটে ঘোরে। এমন ভাগ্য খুব কম শিল্পীরই হয়।

কে জি মুস্তাফা বলতেন, মানুষ আমাকে টাকা বা ডাকটিকিটের ডিজাইনার হিসেবে চেনে, সম্মান করে। তবে আমি মনে প্রাণে চিত্রশিল্পী। ছেলেবেলায় বন্ধু ও স্কুলের শিক্ষকেরা বলতেন আমি ভালো আঁকি।

১৯৫৯ সালে মাদারীপুর থেকে এসএসসি পাস করে আর্ট কলেজে ভর্তি হন। কমার্শিয়াল আর্টস হিসাবে সারা জীবন বাণিজ্যিক কাজই করেছেন।
কে জি মুস্তাফার নকশা করা এক টাকার ব্যাংক নোট (১৯৭৩)

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ। সব শুরু হচ্ছে নতুন করে। নতুন দেশে নতুন মুদ্রা দরকার। সরকার হন্যে হয়ে নকশাকার খুঁজছে। বিখ্যাত চিত্রশিল্পী পটুয়া কামরুল হাসান ডেকে পাঠালেন কে জি মুস্তাফাকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর এ এন হামিদুল্লাহও মুস্তাফাকে পেয়ে যেন হাতে চাঁদ পেলেন। সে দিনই পাশের কক্ষে জায়গা করে দিয়ে বললেন, ‘আপনি কাজ শুরু করুন।’ জয়নুল আবেদিন ও কামরুল হাসানের পরামর্শে মুস্তাফা হাত দিলেন ১ টাকার নোট নকশায়।

দুটি নকশা করলেন। ৫ ও ১০ টাকারও দুটি নকশা শেষ করলেন দ্রুতই। তারপর ১০০ টাকার নোট। প্রতিটি নকশাই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হল। তৎকালীন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ প্রশংসা করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে যখন নকশাগুলো নিয়ে যাওয়া হলো, তখন জানতে চাইলেন, এগুলা কি বিলেত থেকে নকশা করায়া আনা হইছে? নকশাকারের পরিচয় পেয়ে তো তিনি মহাখুশি। বললেন, ওকে আমার কাছে নিয়া আসলা না ক্যান?

কাগজের টাকার পর ১, ৫, ১০, ২৫ এবং ৫০ পয়সার ধাতব মুদ্রারও নকশা করলেন মুস্তাফা। প্রতিটি নকশায় ফুটে উঠল দেশ। বঙ্গবন্ধুর ছবি তো থাকলই, সঙ্গে থাকল ধান, নদী, নৌকা, পাট, শাপলা আর বাংলাদেশের গ্রাম এবং মানুষ। একই বছরে, অর্থাৎ ১৯৭২ সালে ডাক বিভাগের জন্যও নকশা করতে লেগে পড়লেন মুস্তাফা।

বিজয়ের ৪০ বছর স্মারক নোট

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ডাকটিকিটের নকশা বেরোল তাঁর হাত দিয়ে। কেবল ডাকটিকিট নয়, খাম, পোস্টকার্ড, অ্যারোগ্রামের নকশাও করলেন একে একে। এ পর্যন্ত আড়াই শরও বেশি ডাকটিকিটের নকশা করেছেন। নন-জুডিশিয়াল, কোর্ট ফি, রাজস্ব ডাকটিকিট, রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংক এবং প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা দলিলের নকশার সংখ্যা যে কত, তা এখন হিসাব করে বের করতে পারেন না নিজেই।

এ ছাড়া ২০১১ ক্রিকেট বিশ্বকাপে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫০তম জন্মবার্ষিকীতে এবং কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার ৯০ বছর পূর্তিতে নকশা করেছেন একাধিক স্মারক রৌপ্যমুদ্রা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম টাকা ও কয়েনের নকশাকার শিল্পী কে জি মুস্তাফা প্রয়াত

আপডেট সময় : ০৫:৩৪:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ জুলাই ২০২৩

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

স্বাধীন বাংলাদেশের টাকা ও কয়েনের নকশা যিনি করেছিলেন, তার নাম শিল্পী কে জি মুস্তাফা। কে জি মুস্তাফা স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ডাকটিকিটসহ আরও গুরুত্বপূর্ণ স্মারকেরও নকশাকার।

৮০ বছর বয়সে এই কর্মবীর শিল্পী ৭ জুলাই শুক্রবার ভোরে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ বহু আত্মীয়স্বজন এবং শুভাকাঙ্খী রেখে গেছেন শিল্পী।

ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন শিল্পী কে জি মুস্তাফা। তার বাড়ি মাদারীপুরে।

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ১ টাকার ব্যাংকনোটছবি: সংগৃহীত

কে জি মুস্তাফা এমন এক শিল্পী, যাঁর শিল্পকর্ম মানুষের পকেটে পকেটে ঘোরে। এমন ভাগ্য খুব কম শিল্পীরই হয়।

কে জি মুস্তাফা বলতেন, মানুষ আমাকে টাকা বা ডাকটিকিটের ডিজাইনার হিসেবে চেনে, সম্মান করে। তবে আমি মনে প্রাণে চিত্রশিল্পী। ছেলেবেলায় বন্ধু ও স্কুলের শিক্ষকেরা বলতেন আমি ভালো আঁকি।

১৯৫৯ সালে মাদারীপুর থেকে এসএসসি পাস করে আর্ট কলেজে ভর্তি হন। কমার্শিয়াল আর্টস হিসাবে সারা জীবন বাণিজ্যিক কাজই করেছেন।
কে জি মুস্তাফার নকশা করা এক টাকার ব্যাংক নোট (১৯৭৩)

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ। সব শুরু হচ্ছে নতুন করে। নতুন দেশে নতুন মুদ্রা দরকার। সরকার হন্যে হয়ে নকশাকার খুঁজছে। বিখ্যাত চিত্রশিল্পী পটুয়া কামরুল হাসান ডেকে পাঠালেন কে জি মুস্তাফাকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর এ এন হামিদুল্লাহও মুস্তাফাকে পেয়ে যেন হাতে চাঁদ পেলেন। সে দিনই পাশের কক্ষে জায়গা করে দিয়ে বললেন, ‘আপনি কাজ শুরু করুন।’ জয়নুল আবেদিন ও কামরুল হাসানের পরামর্শে মুস্তাফা হাত দিলেন ১ টাকার নোট নকশায়।

দুটি নকশা করলেন। ৫ ও ১০ টাকারও দুটি নকশা শেষ করলেন দ্রুতই। তারপর ১০০ টাকার নোট। প্রতিটি নকশাই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হল। তৎকালীন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ প্রশংসা করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে যখন নকশাগুলো নিয়ে যাওয়া হলো, তখন জানতে চাইলেন, এগুলা কি বিলেত থেকে নকশা করায়া আনা হইছে? নকশাকারের পরিচয় পেয়ে তো তিনি মহাখুশি। বললেন, ওকে আমার কাছে নিয়া আসলা না ক্যান?

কাগজের টাকার পর ১, ৫, ১০, ২৫ এবং ৫০ পয়সার ধাতব মুদ্রারও নকশা করলেন মুস্তাফা। প্রতিটি নকশায় ফুটে উঠল দেশ। বঙ্গবন্ধুর ছবি তো থাকলই, সঙ্গে থাকল ধান, নদী, নৌকা, পাট, শাপলা আর বাংলাদেশের গ্রাম এবং মানুষ। একই বছরে, অর্থাৎ ১৯৭২ সালে ডাক বিভাগের জন্যও নকশা করতে লেগে পড়লেন মুস্তাফা।

বিজয়ের ৪০ বছর স্মারক নোট

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ডাকটিকিটের নকশা বেরোল তাঁর হাত দিয়ে। কেবল ডাকটিকিট নয়, খাম, পোস্টকার্ড, অ্যারোগ্রামের নকশাও করলেন একে একে। এ পর্যন্ত আড়াই শরও বেশি ডাকটিকিটের নকশা করেছেন। নন-জুডিশিয়াল, কোর্ট ফি, রাজস্ব ডাকটিকিট, রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংক এবং প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা দলিলের নকশার সংখ্যা যে কত, তা এখন হিসাব করে বের করতে পারেন না নিজেই।

এ ছাড়া ২০১১ ক্রিকেট বিশ্বকাপে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫০তম জন্মবার্ষিকীতে এবং কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার ৯০ বছর পূর্তিতে নকশা করেছেন একাধিক স্মারক রৌপ্যমুদ্রা।