সেন্ট মার্টিনগামী জাহাজে আগুন, কর্মচারীর মৃত্যু, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ১৯৪ পর্যটক
- আপডেট সময় : ১২:৫৯:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ৭১ বার পড়া হয়েছে
অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেন সেন্ট মার্টিনগামী জাহাজের ১৯৪ জন পর্যটক। শনিবার ভোরের সেই বিভীষিকাময় ঘটনায় আগুনে দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন জাহাজের এক কর্মচারী। কক্সবাজার সদরের নুনিয়াছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাটে নোঙর করার পূর্ব সুহূর্তে সেন্ট মার্টিন চলাচলকারী এমভি আটলান্টিক ক্রুজ–এ এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
শনিবার সকালটি ছিল পর্যটকদের জন্য স্বপ্নে মোড়া। প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনে খালি পায়ে হাঁটা, স্বচ্ছ নীল জলে গোসল আর স্মৃতির ক্যামেরায় মুহূর্ত বন্দি করার পরিকল্পনায় ছিল তারা। কিন্তু সকাল পৌনে সাতটার দিকে সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই আতঙ্কে রূপ নেয়।
ঘন কুয়াশা ভেদ করে সূর্য যখন বাঁকখালী নদীর জলে আলো ছড়াচ্ছিল, ঠিক তখনই জাহাজটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। জাহাজের ভেতরে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা কর্মচারী নুর কামাল (৩৫) আগুনে দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারান। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পুরো জাহাজে ছড়িয়ে পড়ে।
জাহাজমালিকদের সংগঠন ‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’-এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, এমভি আটলান্টিক ক্রুজ প্রতিদিন প্রায় দুই শতাধিক পর্যটক পরিবহন করে। শনিবার সকালে জাহাজটি সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। যাত্রার মাত্র কিছুক্ষণ আগেই আগুন ধরে যায়।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে নুর কামালের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আর কেউ ভেতরে আটকা পড়েছেন কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগুন লাগার কারণ এখনও নিশ্চিত নয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, যাত্রার মাত্র ১৫ মিনিট আগে আগুন লাগে। আর একটু দেরি হলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। জেলা প্রশাসক বলেন, বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে পর্যটকেরা রক্ষা পেয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
জাহাজ পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও কক্সবাজার সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা তাসনিম জানান, জাহাজটির প্রায় পুরো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে আগুন লাগার সময় জাহাজে কোনো পর্যটক না থাকায় বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। পরে পর্যটকদের বিকল্প জাহাজে সেন্ট মার্টিন পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী গত ১ নভেম্বর থেকে সেন্ট মার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে সীমিত পরিসরে রাত যাপনের সুযোগ থাকলেও, বিআইডব্লিউটিএ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো নৌযান চলাচলের অনুমতি নেই। পর্যটকদের নির্ধারিত ওয়েব পোর্টাল থেকে কিউআর কোডযুক্ত টিকিট সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
শনিবারের এই দুর্ঘটনা ফের প্রশ্ন তুলেছে পর্যটকবাহী নৌযানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে।



















