সংসদে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব কমেছে, সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
- আপডেট সময় : ০৪:৫৮:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
সকল প্রকার বৈষম্যের অবসান ও সংখ্যালঘু-ক্ষুদ্র জাতিসত্তার অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে সেই আকাঙ্ক্ষা কতটা পূরণ হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে মাত্র চারজন প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
অথচ দ্বাদশ সংসদে এ সংখ্যা ছিল ১৪ এবং একাদশে ১৮। ধারাবাহিকভাবে প্রতিনিধিত্ব কমে আসাকে উদ্বেগজনক বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে ৮০ জন প্রার্থী মনোনয়ন পেলেও ৭৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নিবন্ধিত ২২টি দল ৬৭ জনকে মনোনয়ন দেয়, বাকিরা ছিলেন স্বতন্ত্র। বিজয়ী চারজনই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী।
আলোচিত বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় (ঢাকা-৩) ও ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী (মাগুরা-২)। এছাড়া বান্দরবান-৩০০ আসনে জয়ী হয়েছেন সাচিং প্রু এবং রাঙামাটি আসনে দীপেন দেওয়ান। উল্লেখযোগ্যভাবে, বিজয়ীদের মধ্যে একই পরিবারের দুই নিকটাত্মীয়ও রয়েছেন।
স্বাধীনতার পর থেকে সংখ্যালঘু প্রার্থীরা ১৮টি জেলার বিভিন্ন আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন; এ পর্যন্ত ১১২ জন প্রার্থী ৯৬টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সর্বোচ্চ সাতবার নির্বাচিত হন। এছাড়া বীর বাহাদুর উ শৈ সিং পাঁচবার, প্রমোদ মানকিন পাঁচবার এবং সতীশ চন্দ্র রায় চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
এ পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদে সংখ্যালঘুদের সরাসরি ভোটে ৬০টি আসন সংরক্ষণের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির মতে, সংবিধানের ২৮(৪) অনুচ্ছেদের আলোকে সংখ্যালঘুদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ-এর সভাপতি বাসুদেব ধর বলেন, শুধু সংসদ নয়, সর্বক্ষেত্রেই সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব কমছে। জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে মনোনয়ন নিশ্চিত করা জরুরি।
অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি-এর নেতা দীপায়ন খীসা মনে করেন, সংখ্যার পাশাপাশি কার্যকর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন, সংখ্যালঘু কমিশন ও ভূমি কমিশন গঠনের মতো প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় আস্থা সংকট তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে, প্রতিনিধিত্বের সংকোচন শুধু পরিসংখ্যানের বিষয় নয়, এটি আস্থার প্রশ্ন। সংখ্যালঘুদের ন্যায্য অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

















