ঢাকা ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চাউলের দাম বৃদ্ধির খবরে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রথানমন্ত্রীর নির্দেশ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ নয় জানতে চেয়ে হাই কোর্টের রুল সৌদিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি নির্দেশনা দূতাবাসের ঈদযাত্রা ঘিরে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু, টার্মিনাল ও স্টেশনে ভিড় দুবাই ছাড়তে ধনকুবেরদের হুড়োহুড়ি, প্রাইভেট জেটের ভাড়া কয়েক গুণ বৃদ্ধি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে গতি আনতে একমত ঢাকা-দিল্লি চাঁদাবাজি-ছিনতাই দমনে জিরো টলারেন্স: মাঠ পর্যায়ে কঠোর বার্তা আইজিপির কুয়েতে তিন মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত, কারণ জানাল যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের ‘নাম্বার ওয়ান প্রায়োরিটি’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি জাহানারা আরজু আর নেই

সংখ্যালঘুদের রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে আওয়ামী লীগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০৭:২২:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৮২ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে আওয়ামী লীগ। সংখ্যালঘু সমস্যা মূলত রাজনৈতিক। তাই সমাধানও হতে হবে রাজনৈতিকভাবে। শনিবার ঢাকায় বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব ড. গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক একথা বলেন।

বাংলাদেশে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতে তাদের জন্য পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা থাকতে হবে। শনিবার বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট আয়োজিত ‘বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুরক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ মন্তব্য করেন। তার মতে বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ।

জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব বলেন, সংখ্যালঘু নিপীড়নের কাঠগড়ায় বাংলাদেশ। ভারত-আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতন ইস্যুতে বিক্ষোভ সমাবেশ চলমান। সংখ্যালঘু নির্যাতন ইস্যুতে সারা বিশ্বে নিন্দার ঝড় বইছে। বাংলাদেশের মান মর্যাদা, সব অর্জন সংখ্যালঘু নির্যাতন ইস্যুতে ধূলিসাৎ।

হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ইতিহাস পেছনে ফেলে বাংলাদেশকে জঙ্গি মৌলবাদী তকমা জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশ হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। ১৯৪৬ সালের পূর্বে বাংলায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-হাঙ্গামার তেমন কোনো নজির খুঁজে পাওয়া যায় না। রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে ১৯৪৬ সালে কলকাতা, নোয়াখালী ও বিহারে সাম্প্রদায়িক হামলার খবর রয়েছে।

রাউন্ড টেবিল বৈঠকে আরও বলা হয়, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব পাকিস্তানে বর্তমান বাংলাদেশকে হিন্দু শূন্য করার যে পরিকল্পনা হয় তাও রাজনৈতিক কারণে। ১৯৫০ সালে জমিদারি অধিগ্রহণ করার সঙ্গে সঙ্গে দেশের হিন্দু জমিদাররা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় মধ্যবিত্ত হিন্দু সম্প্রদায় দেশত্যাগ করে। শত্রু সম্পত্তি অর্ডিন্যান্স জারি করায় অবস্থা সম্পন্ন কৃষক শ্রেণি দেশত্যাগ শুরু করে।

ড. গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, ১৯০৫ সালে মুসলিম সম্প্রদায় তাদের প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত করা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখার জন্য পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থার দাবি করে। ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন ও ১৯৩৫ সালের শাসন সংস্কার আইনে পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থায় মুসলিমরা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ হওয়ার পর পাকিস্তানেও পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা বহাল থাকে।

কিন্তু ১৯৫৫ সালে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার দিনই হিন্দু সম্প্রদায়কে প্রতিনিধিত্ব শূন্য করার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করে। আওয়ামী লীগের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থার পরিবর্তে যৌথ নির্বাচন ব্যবস্থা মেনে নেওয়ায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় তাদের প্রতিনিধিত্ব হারায়। স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায় প্রতিনিধিত্ব ফিরে পায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সংখ্যালঘুদের রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে আওয়ামী লীগ

আপডেট সময় : ০৭:২২:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪

 

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে আওয়ামী লীগ। সংখ্যালঘু সমস্যা মূলত রাজনৈতিক। তাই সমাধানও হতে হবে রাজনৈতিকভাবে। শনিবার ঢাকায় বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব ড. গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক একথা বলেন।

বাংলাদেশে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতে তাদের জন্য পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা থাকতে হবে। শনিবার বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট আয়োজিত ‘বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুরক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ মন্তব্য করেন। তার মতে বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ।

জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব বলেন, সংখ্যালঘু নিপীড়নের কাঠগড়ায় বাংলাদেশ। ভারত-আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতন ইস্যুতে বিক্ষোভ সমাবেশ চলমান। সংখ্যালঘু নির্যাতন ইস্যুতে সারা বিশ্বে নিন্দার ঝড় বইছে। বাংলাদেশের মান মর্যাদা, সব অর্জন সংখ্যালঘু নির্যাতন ইস্যুতে ধূলিসাৎ।

হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ইতিহাস পেছনে ফেলে বাংলাদেশকে জঙ্গি মৌলবাদী তকমা জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশ হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। ১৯৪৬ সালের পূর্বে বাংলায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-হাঙ্গামার তেমন কোনো নজির খুঁজে পাওয়া যায় না। রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে ১৯৪৬ সালে কলকাতা, নোয়াখালী ও বিহারে সাম্প্রদায়িক হামলার খবর রয়েছে।

রাউন্ড টেবিল বৈঠকে আরও বলা হয়, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব পাকিস্তানে বর্তমান বাংলাদেশকে হিন্দু শূন্য করার যে পরিকল্পনা হয় তাও রাজনৈতিক কারণে। ১৯৫০ সালে জমিদারি অধিগ্রহণ করার সঙ্গে সঙ্গে দেশের হিন্দু জমিদাররা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় মধ্যবিত্ত হিন্দু সম্প্রদায় দেশত্যাগ করে। শত্রু সম্পত্তি অর্ডিন্যান্স জারি করায় অবস্থা সম্পন্ন কৃষক শ্রেণি দেশত্যাগ শুরু করে।

ড. গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, ১৯০৫ সালে মুসলিম সম্প্রদায় তাদের প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত করা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখার জন্য পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থার দাবি করে। ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন ও ১৯৩৫ সালের শাসন সংস্কার আইনে পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থায় মুসলিমরা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ হওয়ার পর পাকিস্তানেও পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা বহাল থাকে।

কিন্তু ১৯৫৫ সালে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার দিনই হিন্দু সম্প্রদায়কে প্রতিনিধিত্ব শূন্য করার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করে। আওয়ামী লীগের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থার পরিবর্তে যৌথ নির্বাচন ব্যবস্থা মেনে নেওয়ায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় তাদের প্রতিনিধিত্ব হারায়। স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায় প্রতিনিধিত্ব ফিরে পায়নি।