শুরু হলো রক্তে রাঙানো বাঙালির ভাষা মাস
- আপডেট সময় : ০৮:০৮:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ৩৩৪ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা
আজ পহেলা ফেব্রুয়ারি। শুরু হলো রক্তে রাঙানো বাঙালির ভাষার মাস। অনেক ত্যাগ আর রক্তের বিনিময়ে রঞ্জিত ভাষা মাস। ফেব্রুয়ারি মায়ের ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ঔপনিবেশিক প্রভুত্ব ও শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রথম প্রতিবাদ প্রতিরোধ এবং জাতীয় চেতনার প্রথম উন্মেষকাল। মায়ের ভাষাকে আপন শৌর্যে টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে বীর বাঙালি বিন্দুমাত্র কুণ্ঠিতও ছিল না।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের মাধ্যমে যা চূড়ান্ত রূপ পায়। যা ক্রমান্বয়ে মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি তৈরিতে অনবদ্য ভূমিকা রাখে। বলা যায় মুক্তিযুদ্ধ ভাষা আন্দোলনেরই পরিণতি। ফেব্রুয়ারি মাস প্রতি বছরই অনন্য আবেদনে বাঙালিকে তার অস্তিত্বসংকটের ঐতিহাসিক যাত্রাপথকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।
১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ এবং দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগ কোনোটাই চেতনাসমৃদ্ধ বাঙালির জন্য কাঙ্ক্ষিত ছিল না। সেটা প্রমাণিত হতেও খুব বেশি সময় লাগেনি। বাংলা ও বাঙালির জীবনে অপ্রাসঙ্গিক দেশ ভাগ এক কঠোর শৃঙ্খলের রূপ নিয়ে যে উন্মাদনার পরিবেশ তৈরি করে সেখানে বাঙালি দুর্বিনীত, দুর্দমনীয় প্রতিরোধে সম্মুখ সমরকে আলিঙ্গন করতে পিছপা হয়নি।
১৯৪৮ সালে উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা, মুহাম্মদ আলী জিন্নার এই ঘোষণার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে বাংলার ছাত্রসমাজ। উদ্দীপ্ত কণ্ঠে দাবি তোলে না, বাংলাও হবে পাকিস্তানের আর এক রাষ্ট্রভাষা। এর আগে নতুন পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা নিয়ে সোচ্চার হন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, মওলানা ভাসানি, ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, আবদুল হক এবং সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলীসহ আরো অনেক পণ্ডিত ও বিজ্ঞজন।
ড. শহীদুল্লাহ দাবি তুললেন বাঙালির সংখ্যা বেশি হওয়ায় সরকারি ভাষা অবশ্যই বাংলা ভাষা হবে। তবে উর্দুকে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে রাখাও যৌক্তিক। সৈয়দ মুজতবা আলী অনেক দেশের দৃষ্টান্ত হাজির করে বললেন, এমন কয়েক দেশ আছে যেখানে একাধিক রাষ্ট্রভাষা চলমান। রাষ্ট্রভাষা নিয়ে এমন অনেক ওজর-আপত্তির মধ্যেই জিন্নাহ তার অভিব্যক্তি ঘোষণা করলেন সরকারিভাবে।
১৯৪৮ সালের ১১ মার্চকে ‘বাংলা ভাষা দাবি দিবস’ হিসেবে ঘোষণা দেয় উদ্দীপ্ত ছাত্রনেতারা। বঙ্গবন্ধু তার ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে ভাষা আন্দোলনের বিভিন্ন প্রেক্ষাপট উল্লেখ করেছেন। বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বাংলাদেশে সংগ্রাম পরিষদের কর্মীরা ছড়িয়ে পড়েন। বঙ্গবন্ধু নিজেই ফরিদপুর জেলায় দায়িত্ব পালনে চলে যান।
১১ মার্চ রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবিতে ভোর থেকে শত শত ছাত্রকর্মী রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পিকেটিং শুরু করে। তাদের ওপর পুলিশি আক্রমণ হতেও খুব বেশি দেরি হয়নি। পুলিশের লাঠিচার্জও সমান তালে চলতে থাকে। ছাত্রদের মিছিলে নিয়ন্ত্রণ আনতে ব্যর্থ হলে বঙ্গবন্ধুসহ ৭৫ জনকে আটক করে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় বঙ্গবন্ধু প্রথম আটক হলেন আরও অনেকের সঙ্গে। স্বাধীনতাসংগ্রামের বীজ বপনে ভাষা আন্দোলনের আবেদন যুগান্তকারী।



















