শিশিরভেজা প্রভাতে শহীদদের স্মরণ, জাতীয় স্মৃতিসৌধে মানুষের ঢল
- আপডেট সময় : ০৫:১১:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ১১৯ বার পড়া হয়েছে
পূর্ব দিগন্তে সূর্য ওঠার অপেক্ষা। পিচঢালা সড়কের ওপর জমে থাকা শিশির আর কুয়াশার আবরণ ভেদ করে নতুন দিনের আগমনের আভাস।
শ্রদ্ধা, আবেগ আর ভালোবাসায় বিজয় দিবসের সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধ হয়ে ওঠে মানুষের মিলনমেলা।
ঠিক এমন মুহূর্তেই ঢাকার সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে জড়ো হতে থাকেন মানুষ। কেউ দলবদ্ধভাবে, কেউ একা–সবার হাতে ফুলের তোড়া, শ্রদ্ধাঞ্জলি। ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দিন।
সকালের এই আবহের মধ্যেই সকাল সাড়ে ৬টার দিকে জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রবেশ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। কিছুক্ষণ পর সেখানে পৌঁছান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। দিনের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
পরে প্রধান উপদেষ্টাও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবার, কূটনীতিকসহ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা।

রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। তখনই স্মৃতিসৌধ–সংলগ্ন ঢাকা–আরিচা মহাসড়কের পাশে অপেক্ষমাণ মানুষের ঢল নামে বেদির দিকে। ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের শ্রদ্ধা নিবেদনে ফুলে ফুলে ভরে ওঠে স্মৃতিসৌধের বেদি।
শিশু–কিশোর থেকে শুরু করে নানা বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। কারও হাতে জাতীয় পতাকা, কারও গালে–কপালে আঁকা লাল–সবুজ। আশুলিয়া থেকে বাবার সঙ্গে আসা নুসরাত জান্নাত (৭) বলে, স্মৃতিসৌধে যাব, ফুল দেব–ভালো লাগছে।
আর সাবিহা তাবাচ্ছুম জানান, শহীদদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই তাঁর এই উপস্থিতি।



















