ঢাকা ১০:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে: মার্কিন কূটনীতিকদের প্রধান উপদেষ্টা পানিতে ডুবে প্রতিদিন ৫১ জনের বেশি প্রাণহানি, ৭৫ শতাংশের বেশি শিশু সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৪৪০ বাংলাদেশি বন্দিকে রাজকীয় ক্ষমা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে ফোর্সের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা শার্শায় ভারতীয় মোবাইল ও নগদ ৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকাসহ আটক ২   পঞ্চগড়ে টানা ছয় দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা, শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগের সব চ্যানেল খোলা রয়েছে: ভারতের সেনাপ্রধান বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি বাংলাদেশে, ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহযোগিতা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে উসকানি,  রাষ্ট্রদূতকে তলব কড়া  বার্তা ঢাকার

শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে ফোর্সের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

ভঢেস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৮:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ৩২ বার পড়া হয়েছে

শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে ফোর্সের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, নির্বাচনে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে, তাদের মোকাবিলায় পর্যাপ্ত সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সবাই সহযোগিতা করলে নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হবে।

বুধবার চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজিবির ঐতিহ্যবাহী প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজ (বিজিটিসিঅ্যান্ডসি)-এর বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নবীন সৈনিকদের শপথ গ্রহণ, প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং বিজিটিসিঅ্যান্ডসি’র কমান্ড্যান্টসহ বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সশস্ত্র সালামের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এই আয়োজনে বিজিবির ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়। রেকর্ড সংখ্যক ৩ হাজার নবীন সদস্য দেশমাতৃকার সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার দীপ্ত শপথ গ্রহণ করেন।

অভিবাদন গ্রহণ শেষে নবীন সৈনিকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “২৩‌০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই বাহিনী আজ একটি সুসংগঠিত, চৌকষ, সুশৃঙ্খল ও পেশাদার দেশপ্রেমিক বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।” তিনি বলেন, সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে বিজিবি দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান, মাদক ও মানবপাচার প্রতিরোধ, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে দেশবাসীর আস্থা অর্জন করেছে।

নবীন সৈনিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “শৃঙ্খলাই সৈনিক জীবনের অলংকার। যে আদেশ ও কর্তব্য পালনে কখনো পিছপা হয় না, সেই প্রকৃত সৈনিক।” সততা, বুদ্ধিমত্তা, নির্ভরযোগ্যতা, আনুগত্য, তেজ ও উদ্দীপনাকে একটি বাহিনীর শৃঙ্খলা ও পেশাগত দক্ষতার মূল মাপকাঠি উল্লেখ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, নবীন সৈনিকরা এসব গুণাবলির প্রতিফলন ঘটিয়ে বাহিনীর ঐতিহ্য সমুন্নত রাখবে।

তিনি বিজিবির চারটি মূলনীতি-মনোবল, ভ্রাতৃত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও দক্ষতা উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায় সর্বদা সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচে সব বিষয়ে সেরা নবীন সৈনিক হিসেবে বক্ষ নম্বর ১৫৫, রিক্রুট আল ইমরান প্রথম স্থান অর্জন করায় তাকে অভিনন্দন জানান উপদেষ্টা। এছাড়া শারীরিক উৎকর্ষতায় প্রথম স্থান অর্জনের জন্য বক্ষ নম্বর ২৭৬৯ শপিকুল ইসলাম (পুরুষ) ও বক্ষ নম্বর ১৫১৫ লুবনা খাতুন, এবং শ্রেষ্ঠ ফায়ারার হিসেবে বক্ষ নম্বর ১৩৪৭ শফিকুর রহমান তামিম (পুরুষ) ও বক্ষ নম্বর ১৫৩১ নাহিদা আক্তার-কে অভিনন্দন জানানো হয়।

উপদেষ্টা আরও বলেন, বিজিটিসিঅ্যান্ডসি বিগত ৪৪ বছর ধরে বিজিবির রিক্রুটদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ‘সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী’ হিসেবে গড়ে তুলছে। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ৭২টি ব্যাচকে সফলভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। যদিও এই প্রতিষ্ঠানের ধারণক্ষমতা ৭০০ থেকে ১ হাজার জন, তবুও বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশনা ও বিজিবি সদর দপ্তরের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলে ১০৪তম ব্যাচে ৩ হাজার ২৩ জন রিক্রুট (পুরুষ ২ হাজার ৯৫০, নারী ৭৩)-কে একসঙ্গে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যা স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে একটি ঐতিহাসিক অর্জন।

সশস্ত্র সালামের মধ্য দিয়ে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। পরে বিজিবির প্রশিক্ষিত সদস্যদের অংশগ্রহণে ট্রিক ড্রিল এবং সুসজ্জিত বাদকদলের ব্যান্ড ডিসপ্লে প্রদর্শিত হয়।

অনুষ্ঠানে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে ফোর্সের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ০৭:৪৮:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, নির্বাচনে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে, তাদের মোকাবিলায় পর্যাপ্ত সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সবাই সহযোগিতা করলে নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হবে।

বুধবার চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজিবির ঐতিহ্যবাহী প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজ (বিজিটিসিঅ্যান্ডসি)-এর বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নবীন সৈনিকদের শপথ গ্রহণ, প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং বিজিটিসিঅ্যান্ডসি’র কমান্ড্যান্টসহ বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সশস্ত্র সালামের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এই আয়োজনে বিজিবির ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়। রেকর্ড সংখ্যক ৩ হাজার নবীন সদস্য দেশমাতৃকার সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার দীপ্ত শপথ গ্রহণ করেন।

অভিবাদন গ্রহণ শেষে নবীন সৈনিকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “২৩‌০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই বাহিনী আজ একটি সুসংগঠিত, চৌকষ, সুশৃঙ্খল ও পেশাদার দেশপ্রেমিক বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।” তিনি বলেন, সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে বিজিবি দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান, মাদক ও মানবপাচার প্রতিরোধ, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে দেশবাসীর আস্থা অর্জন করেছে।

নবীন সৈনিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “শৃঙ্খলাই সৈনিক জীবনের অলংকার। যে আদেশ ও কর্তব্য পালনে কখনো পিছপা হয় না, সেই প্রকৃত সৈনিক।” সততা, বুদ্ধিমত্তা, নির্ভরযোগ্যতা, আনুগত্য, তেজ ও উদ্দীপনাকে একটি বাহিনীর শৃঙ্খলা ও পেশাগত দক্ষতার মূল মাপকাঠি উল্লেখ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, নবীন সৈনিকরা এসব গুণাবলির প্রতিফলন ঘটিয়ে বাহিনীর ঐতিহ্য সমুন্নত রাখবে।

তিনি বিজিবির চারটি মূলনীতি-মনোবল, ভ্রাতৃত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও দক্ষতা উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায় সর্বদা সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচে সব বিষয়ে সেরা নবীন সৈনিক হিসেবে বক্ষ নম্বর ১৫৫, রিক্রুট আল ইমরান প্রথম স্থান অর্জন করায় তাকে অভিনন্দন জানান উপদেষ্টা। এছাড়া শারীরিক উৎকর্ষতায় প্রথম স্থান অর্জনের জন্য বক্ষ নম্বর ২৭৬৯ শপিকুল ইসলাম (পুরুষ) ও বক্ষ নম্বর ১৫১৫ লুবনা খাতুন, এবং শ্রেষ্ঠ ফায়ারার হিসেবে বক্ষ নম্বর ১৩৪৭ শফিকুর রহমান তামিম (পুরুষ) ও বক্ষ নম্বর ১৫৩১ নাহিদা আক্তার-কে অভিনন্দন জানানো হয়।

উপদেষ্টা আরও বলেন, বিজিটিসিঅ্যান্ডসি বিগত ৪৪ বছর ধরে বিজিবির রিক্রুটদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ‘সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী’ হিসেবে গড়ে তুলছে। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ৭২টি ব্যাচকে সফলভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। যদিও এই প্রতিষ্ঠানের ধারণক্ষমতা ৭০০ থেকে ১ হাজার জন, তবুও বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশনা ও বিজিবি সদর দপ্তরের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলে ১০৪তম ব্যাচে ৩ হাজার ২৩ জন রিক্রুট (পুরুষ ২ হাজার ৯৫০, নারী ৭৩)-কে একসঙ্গে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যা স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে একটি ঐতিহাসিক অর্জন।

সশস্ত্র সালামের মধ্য দিয়ে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। পরে বিজিবির প্রশিক্ষিত সদস্যদের অংশগ্রহণে ট্রিক ড্রিল এবং সুসজ্জিত বাদকদলের ব্যান্ড ডিসপ্লে প্রদর্শিত হয়।

অনুষ্ঠানে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।