ঢাকা ০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশ নিয়ম-ভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সমর্থন করে: তৌহিদ হোসেন প্রত্যেকটি অন্যায়ের বিচার চাইলে গণতান্ত্রিক সরকার অপরিহার্য, তারেক রহমান গোপালগঞ্জ-৩: প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হিন্দু মহাজোটের গোবিন্দ প্রামানিক কাঁদছে জলহারা প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র, বুকে তার ধু ধু বালুচর ৫৬ পর্যবেক্ষক মোতায়েন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে  এখনই অতি সতর্কতার প্রয়োজন নেই: ইইউ ইরান ভেনেজুয়েলা নয়: ট্রাম্পের জন্য সহজ নয় জয়ের পথ গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে তারেক রহমান, মানবিক আবেগে ভরা মতবিনিময় সভা খালেদা জিয়াকে ‘স্লো পয়জন’ দেওয়া হয়েছিল: ডা. এফ এম সিদ্দিকীর গুরুতর অভিযোগ কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ: রংপুরে বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় সমাবেশ ২১ দিন লাশের সঙ্গে বসবাস: ঋণ-বিবাদে নৃশংসভাবে খুন মা ও কিশোরী মেয়ে

রুপিতে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য, উন্মুক্ত হলো অর্থনীতির নতুন দুয়ার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০৪:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ জুলাই ২০২৩ ২৫০ বার পড়া হয়েছে

রুপিতে বাণিজ্য শুরু আনুষ্ঠানিক যাত্রা উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

‘মার্কিন কংগ্রেস ১৭৮৫ সালে ডলারের প্রবর্তন করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিশ্ব মুদ্রা বাজারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘হার্ড কারেন্সি’ হিসেবে পরিগণিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও আরও কিছু দেশ ডলারকে সরকারী মুদ্রা হিসাবে ব্যবহার করে। এটি আন্তর্জাতিক দেনা-পাওনা মেটানোর মুদ্রা। এটি বহুল প্রচলিত একটি রিজার্ভ কারেন্সী। ইউরো প্রচলনের পর থেকে মার্কিন ডলারের ভূমিকা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। করোনা পরবর্তী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ডলারের বাজারে সংকট দেখা দেয়’

অব্যাহত ডলার সংকটের মুখে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোকে চীনের মুদ্রা ইউয়ানে অ্যাকাউন্ট খোলার অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র ডলার সংকটের কারণে বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিকল্প মুদ্রা ব্যবহারের বিষয়টি আলোচনায় আসে।

 

আমিনুল হক, ঢাকা

কভিড পরবর্তী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ গোটা পৃথিবীর অর্থনীতি এলোমেলো করে দেয়। অর্থনীতি সমৃদ্ধ দেশ থেকে শুরু করে মাঝারি এবং স্বল্প আয়ের দেশগুলোর পরিস্থিতি নাজুক অবস্থায় চলে আসে। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার বিপরীতে পণ্য আমদানিতে হিমশিম খেতে হয়।

শিল্পকারখানার কাঁচামাল থেকে শুরু করে নিত্য পণ্যের আমদানি কমে যায়। পণ্যবাজারে এর প্রভাব পড়ে। মূলত ডলার সংকটে জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে সংকট দেখা দেয়।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় আমদানি বাজার ভারত। তুলা, সূতা, রঙ, মেশিনারীজ, গম, পাথর, বীজ ইত্যাদি বাংলাদেশের আমদানির তালিকায়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা মার্কিন ডলার সংকটের কারণে, পণ্য আমদানিতে জটিলতা সৃষ্টি হয়।

এই জটিলতা নিরসনের উপায় হিসাবে রুপিতে লেনদেনের বিষযটি আলোচনায় আসে গত ডিসেম্বর।  রুপিতে আমদানি রপ্তানির বিষয়টি দু’দেশের আলোচনার চূড়ান্ত ফসল রুপিতে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য উন্মোচন। ১১জুলাই এই কার্যক্রম চালু হল। তাতে করে উভয় দেশের বাণিজ্য গতিশীল হবার আশা অর্থনীতিবিদদের।

মঙ্গলবার রুপিতে বাণিজ্য শুরুর আনুষ্ঠানিক যাত্রার সূচনাকালে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, ভারতীয় রুপিতে লেনদেন দু’দেশের  বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়াতে সহায়তা করবে। অনুষ্ঠানটির সহ-আয়োজক ছিলেন হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার।

প্রণয় ভার্মা তার উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে গত এক দশকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক উল্লেখযোগ্য অবস্থানে পৌছেছে। দু’দেশের মধ্যে দৃশ্যত ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের সংযোগ ছিল সেই রূপান্তরের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ।

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন উপায় খুঁজে বের করার জন্য উভয় দেশের সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টায় আজকের এই নবযাত্রা।

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, রুপিতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নিষ্পত্তির জন্য এ নতুন পদ্ধতির সূচনা উভয় দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রচেষ্টার ফসল। যা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের জন্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর নির্ভরতা কমাবে। পাশাপাশি লেনদেনের ব্যয় ও সময় কমাবে, বাণিজ্য নিষ্পত্তির গতি, দক্ষতা ও সুবিধার উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব ও সামগ্রিক বাণিজ্য বাড়াতে সহায়তা করবে।

প্রণয় ভার্মা বলেন, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের চাহিদার প্রেক্ষিতে এ প্রক্রিয়াটি চালু করা সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্টের (সেপা) প্রেক্ষাপটে, দীর্ঘমেয়াদে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করতে অসাধারণ সম্ভাবনা এর রয়েছে, যার জন্য শিগগিরই আলোচনা শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক জটিলতায় বিশ্বের দেশগুলো অর্থনৈতিকভাবে লড়াই করছে। রুপিতে (আইএনআর) ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যের সূচনা এ জটিলতা কমবে এবং বাণিজ্যিক উন্নয়নের জন্য নতুন পথ উন্মুক্ত করবে। গভর্নর বলেন, নতুন ব্যবস্থাটি একটি ইতিবাচক মানসিক বিকাশ ঘটাবে। যাতে ভবিষ্যতে বাণিজ্যকে বহুগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়।

ভারতীয়  স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ও আইসিআইসিআই ব্যাংক মনোনীত বাংলাদেশি  সোনালী ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড। ভারতীয় রুপিতে  দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নিষ্পত্তির জন্য নির্ধারিত প্রতিটি বাংলাদেশি ব্যাংককে ভারতীয় ব্যাংকগুলোতে একটি স্পেশ্যাল রুপি ভোস্ট্রো অ্যাকাউন্ট (এসভিআরএ) খুলতে হবে।

আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় রুপিতে বাণিজ্য শুরু করার লক্ষ্যে প্রথম রপ্তানিকারক ও আমদানিকার ব্যাংকসমূহের মাধ্যমে একটি আনুষ্ঠানিক লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) নথিপত্রের বিনিময় করা হয়।

বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় রুপিতে প্রথম রপ্তানি কারক বাংলাদেশের তামিম এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।  যার মূল্যমান ১৬ মিলিয়ন ভারতীয় রুপি (আইএনআর)। ভারতে আইসিআইসিআই ব্যাংক এ আমদানি এলসি খুলে যেখানে এসবিআই বাংলাদেশ ছিল রপ্তানিকারকের ব্যাংক।

বাংলাদেশে ১২ মিলিয়ন রুপির প্রথম আমদানিকারক নিটা কোম্পানি লিমিটেড। আমদানি এলসিটি বাংলাদেশের এসবিআই ঢাকা শাখা, যার রপ্তানিকারকের (টাটা মোটরস) ব্যাংক হলো এসবিআই সিএজি শাখা, মুম্বাই।

অনুষ্ঠানে ভারতীয় রুপিতে বাণিজ্যের পদ্ধতির ওপর এসবিআই-এর কান্ট্রি হেড কর্তৃক উপস্থাপিত একটি সংক্ষিপ্ত প্রেজেন্টেশান অন্তর্ভুক্ত ছিল। অনুষ্ঠানটিতে ভারতীয় রুপিতে বাণিজ্য করার জন্য নির্বাচিত চারটি মনোনীত ব্যাংকের প্রধানদের কাছ থেকে সংক্ষিপ্ত ভিডিও বার্তার পাশাপাশি বাংলাদেশের নেতৃস্থানীয় ব্যবসায়িক চেম্বারসমূহের প্রধানদের সংক্ষিপ্ত ভিডিও কোলাজ থেকে নেওয়া ভিডিও বার্তাও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা এ নতুন ব্যবস্থা সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তাধারাকে ব্যক্ত করেছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সেলিম উল্লাহ।

এফবিসিসিআই, আইবিসিসিআই, বিজিএমইএ, ডিসিসিআই, বিকেএমইএ-এর প্রেসিডেন্ট। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যাংকিং/আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সদস্য, ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রুপিতে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য, উন্মুক্ত হলো অর্থনীতির নতুন দুয়ার

আপডেট সময় : ০৯:০৪:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ জুলাই ২০২৩

‘মার্কিন কংগ্রেস ১৭৮৫ সালে ডলারের প্রবর্তন করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিশ্ব মুদ্রা বাজারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘হার্ড কারেন্সি’ হিসেবে পরিগণিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও আরও কিছু দেশ ডলারকে সরকারী মুদ্রা হিসাবে ব্যবহার করে। এটি আন্তর্জাতিক দেনা-পাওনা মেটানোর মুদ্রা। এটি বহুল প্রচলিত একটি রিজার্ভ কারেন্সী। ইউরো প্রচলনের পর থেকে মার্কিন ডলারের ভূমিকা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। করোনা পরবর্তী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ডলারের বাজারে সংকট দেখা দেয়’

অব্যাহত ডলার সংকটের মুখে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোকে চীনের মুদ্রা ইউয়ানে অ্যাকাউন্ট খোলার অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র ডলার সংকটের কারণে বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিকল্প মুদ্রা ব্যবহারের বিষয়টি আলোচনায় আসে।

 

আমিনুল হক, ঢাকা

কভিড পরবর্তী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ গোটা পৃথিবীর অর্থনীতি এলোমেলো করে দেয়। অর্থনীতি সমৃদ্ধ দেশ থেকে শুরু করে মাঝারি এবং স্বল্প আয়ের দেশগুলোর পরিস্থিতি নাজুক অবস্থায় চলে আসে। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার বিপরীতে পণ্য আমদানিতে হিমশিম খেতে হয়।

শিল্পকারখানার কাঁচামাল থেকে শুরু করে নিত্য পণ্যের আমদানি কমে যায়। পণ্যবাজারে এর প্রভাব পড়ে। মূলত ডলার সংকটে জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে সংকট দেখা দেয়।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় আমদানি বাজার ভারত। তুলা, সূতা, রঙ, মেশিনারীজ, গম, পাথর, বীজ ইত্যাদি বাংলাদেশের আমদানির তালিকায়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা মার্কিন ডলার সংকটের কারণে, পণ্য আমদানিতে জটিলতা সৃষ্টি হয়।

এই জটিলতা নিরসনের উপায় হিসাবে রুপিতে লেনদেনের বিষযটি আলোচনায় আসে গত ডিসেম্বর।  রুপিতে আমদানি রপ্তানির বিষয়টি দু’দেশের আলোচনার চূড়ান্ত ফসল রুপিতে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য উন্মোচন। ১১জুলাই এই কার্যক্রম চালু হল। তাতে করে উভয় দেশের বাণিজ্য গতিশীল হবার আশা অর্থনীতিবিদদের।

মঙ্গলবার রুপিতে বাণিজ্য শুরুর আনুষ্ঠানিক যাত্রার সূচনাকালে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, ভারতীয় রুপিতে লেনদেন দু’দেশের  বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়াতে সহায়তা করবে। অনুষ্ঠানটির সহ-আয়োজক ছিলেন হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার।

প্রণয় ভার্মা তার উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে গত এক দশকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক উল্লেখযোগ্য অবস্থানে পৌছেছে। দু’দেশের মধ্যে দৃশ্যত ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের সংযোগ ছিল সেই রূপান্তরের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ।

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন উপায় খুঁজে বের করার জন্য উভয় দেশের সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টায় আজকের এই নবযাত্রা।

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, রুপিতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নিষ্পত্তির জন্য এ নতুন পদ্ধতির সূচনা উভয় দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রচেষ্টার ফসল। যা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের জন্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর নির্ভরতা কমাবে। পাশাপাশি লেনদেনের ব্যয় ও সময় কমাবে, বাণিজ্য নিষ্পত্তির গতি, দক্ষতা ও সুবিধার উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব ও সামগ্রিক বাণিজ্য বাড়াতে সহায়তা করবে।

প্রণয় ভার্মা বলেন, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের চাহিদার প্রেক্ষিতে এ প্রক্রিয়াটি চালু করা সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্টের (সেপা) প্রেক্ষাপটে, দীর্ঘমেয়াদে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করতে অসাধারণ সম্ভাবনা এর রয়েছে, যার জন্য শিগগিরই আলোচনা শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক জটিলতায় বিশ্বের দেশগুলো অর্থনৈতিকভাবে লড়াই করছে। রুপিতে (আইএনআর) ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যের সূচনা এ জটিলতা কমবে এবং বাণিজ্যিক উন্নয়নের জন্য নতুন পথ উন্মুক্ত করবে। গভর্নর বলেন, নতুন ব্যবস্থাটি একটি ইতিবাচক মানসিক বিকাশ ঘটাবে। যাতে ভবিষ্যতে বাণিজ্যকে বহুগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়।

ভারতীয়  স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ও আইসিআইসিআই ব্যাংক মনোনীত বাংলাদেশি  সোনালী ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড। ভারতীয় রুপিতে  দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নিষ্পত্তির জন্য নির্ধারিত প্রতিটি বাংলাদেশি ব্যাংককে ভারতীয় ব্যাংকগুলোতে একটি স্পেশ্যাল রুপি ভোস্ট্রো অ্যাকাউন্ট (এসভিআরএ) খুলতে হবে।

আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় রুপিতে বাণিজ্য শুরু করার লক্ষ্যে প্রথম রপ্তানিকারক ও আমদানিকার ব্যাংকসমূহের মাধ্যমে একটি আনুষ্ঠানিক লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) নথিপত্রের বিনিময় করা হয়।

বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় রুপিতে প্রথম রপ্তানি কারক বাংলাদেশের তামিম এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।  যার মূল্যমান ১৬ মিলিয়ন ভারতীয় রুপি (আইএনআর)। ভারতে আইসিআইসিআই ব্যাংক এ আমদানি এলসি খুলে যেখানে এসবিআই বাংলাদেশ ছিল রপ্তানিকারকের ব্যাংক।

বাংলাদেশে ১২ মিলিয়ন রুপির প্রথম আমদানিকারক নিটা কোম্পানি লিমিটেড। আমদানি এলসিটি বাংলাদেশের এসবিআই ঢাকা শাখা, যার রপ্তানিকারকের (টাটা মোটরস) ব্যাংক হলো এসবিআই সিএজি শাখা, মুম্বাই।

অনুষ্ঠানে ভারতীয় রুপিতে বাণিজ্যের পদ্ধতির ওপর এসবিআই-এর কান্ট্রি হেড কর্তৃক উপস্থাপিত একটি সংক্ষিপ্ত প্রেজেন্টেশান অন্তর্ভুক্ত ছিল। অনুষ্ঠানটিতে ভারতীয় রুপিতে বাণিজ্য করার জন্য নির্বাচিত চারটি মনোনীত ব্যাংকের প্রধানদের কাছ থেকে সংক্ষিপ্ত ভিডিও বার্তার পাশাপাশি বাংলাদেশের নেতৃস্থানীয় ব্যবসায়িক চেম্বারসমূহের প্রধানদের সংক্ষিপ্ত ভিডিও কোলাজ থেকে নেওয়া ভিডিও বার্তাও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা এ নতুন ব্যবস্থা সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তাধারাকে ব্যক্ত করেছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সেলিম উল্লাহ।

এফবিসিসিআই, আইবিসিসিআই, বিজিএমইএ, ডিসিসিআই, বিকেএমইএ-এর প্রেসিডেন্ট। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যাংকিং/আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সদস্য, ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।