রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রশ্নে অনড় বিসিবি, ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ
- আপডেট সময় : ১১:৪৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬ ৫৮ বার পড়া হয়েছে
বোর্ডের নীতিনির্ধারকেরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি পুরোপুরি দূর না হলে ভারতের মাটিতে কোনো ম্যাচ খেলবে না বাংলাদেশ দল।
রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের নিরাপত্তা আশ্বাস মিললেও ভারতে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচ না খেলার বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ইতোমধ্যে বিসিবির সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। আজ (৬ জানুয়ারি) অনলাইন সভার মাধ্যমে এই আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সদস্য দেশ টুর্নামেন্টের কোনো অংশে অংশগ্রহণে অপারগ হলে সংস্থাটিকে যুক্তিসংগত কারণ জানাতে হয়।
অতীতে ‘সরকারি নিষেধাজ্ঞা’কে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, যার ভিত্তিতেই ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সফর বাতিল বা ভেন্যু পরিবর্তনের নজির রয়েছে।
এবারও বিসিবি একই পথেই হাঁটতে চায়। বোর্ডের পক্ষ থেকে আইসিসিকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের মূল্যায়নে ভারতে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, সংবাদকর্মী ও সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়। সে কারণে সরকারিভাবে বাংলাদেশ দলের ভারত সফরে অনাগ্রহ জানানো হয়েছে এবং ম্যাচগুলো অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
সম্প্রতি মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় এই নিরাপত্তা শঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে বলে মনে করছে বিসিবি। রাজনৈতিক ও উগ্র ধর্মীয় সংগঠনের হুমকির প্রেক্ষাপটে বিসিসিআইয়ের ওই সিদ্ধান্ত প্রশ্ন তুলেছে, একজন ক্রিকেটারের নিরাপত্তা যেখানে নিশ্চিত করা যায়নি, সেখানে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া পুরো বহরের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে?

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামও প্রকাশ্যে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই মুহূর্তে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলা নিরাপদ মনে করছি না। নিরাপত্তা আমাদের বড় দুশ্চিন্তা। একই সঙ্গে মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে তিনি ‘অসম্মানজনক’ বলেও মন্তব্য করেন।
আইসিসির মধ্যস্থতায় বিসিসিআই বাংলাদেশ দলকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা দেওয়ার প্রস্তাব দিতে পারে বলে জানা গেলেও, তাতে বিসিবির অবস্থান বদলাবে না বলেই ইঙ্গিত মিলেছে। বোর্ডের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, যেখানে সরকারের নিষেধ আছে, সেখানে আমাদের ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। প্রশ্নটা শুধু খেলোয়াড়দের নয়, বাংলাদেশের সব অংশগ্রহণকারীর নিরাপত্তার।
এই অবস্থানে বিসিবির অনড়তা স্বাগতিক হিসেবে বিসিসিআইয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। কারণ, বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা-দুটোই নিশ্চিত করা স্বাগতিক দেশের দায়িত্ব। যদিও বিশ্বকাপের মাত্র এক মাস আগে ভেন্যু পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা সহজ নয় এবং সূচি, সম্প্রচার ও প্রতিপক্ষ বোর্ডগুলোর সম্মতির বিষয়টি জটিলতা বাড়াতে পারে।
তবুও বিসিবির প্রত্যাশা, নিরাপত্তা ইস্যুকে গুরুত্ব দিয়ে আইসিসি সমাধানের পথ খুঁজবে। বোর্ডের বিশ্বাস, এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা কম।



















