রমজানে নিত্যপণ্যের বাজারে লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, চাপে সাধারণ ভোক্তা
- আপডেট সময় : ০১:০৯:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৫০ বার পড়া হয়েছে
পবিত্র মাহে রমজানের দ্বিতীয় দিনেই রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে চরম অস্থিরতা ও ঊর্ধ্বমুখী দামের চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুন, শসা, লেবু, কাঁচামরিচ, ছোলা, পেঁয়াজ, ভোজ্যতেল, খেজুর, ডাল ও বেসনসহ অধিকাংশ পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। একমাত্র আলু-ডিম ছাড়া প্রায় সব পণ্যেই বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে ভোক্তাদের।
শুক্রবার ছুটির দিনে খিলগাঁও, সেগুনবাগিচা, ফকিরাপুল ও শান্তিনগরসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, রমজানকে কেন্দ্র করে আবারও ‘ঐতিহ্যগত’ মূল্যবৃদ্ধির পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।
খিলগাঁওয়ের গৃহিণী মাজেদা বেগমের ক্ষোভই যেন এখন সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর। তিনি বলেন, রমজান এলেই বাজারে আগুন লাগে। দু’দিন আগেও দেশি শসা ছিল ৮০-১০০ টাকা, এখন ১৬০ টাকা। ১৬০ টাকার কাঁচামরিচ ২০০ টাকায়! এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
তার প্রশ্ন, ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে অনেক দেশে যেখানে নিত্যপণ্যের দাম কমানো হয়, সেখানে বাংলাদেশে কেন উল্টো চিত্র? বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর তদারকি কোথায়?

সবজিতে দফায় দফায় বৃদ্ধি
শীতকালীন সবজি কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ৫০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টমেটো ৬০–৭০ টাকা, দেশি গাজর ৫০-৬০, মুলা ৪০-৫০, শালগম ৭০ টাকা। বড় ফুলকপি ৪০-৫০ টাকা পিস, বাঁধাকপি একই দামে, লাউ ৬০-৮০ টাকা।
গ্রীষ্মকালীন সবজিতে আরও তীব্র উল্লম্ফন। বেগুন কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে ১০০-১৪০ টাকা, করলা ১৬০-২০০, ঢেঁড়স ১৪০, কচুর লতি ১০০-১২০ টাকা। কাঁচামরিচ কেজিতে ৬০ টাকা বেড়ে ১৬০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
লেবুর বাজারে চরম অস্থিরতা-এক হালি ৬০ থেকে ১০০ টাকা। ধনেপাতা ৬০-১৫০, পুদিনা ২০০ টাকা কেজি। দেশি শসা ১৬০ টাকা, খিরাই ১০০ টাকা।
পেঁয়াজ-ডাল-মসলা: স্বস্তি নেই
পুরোনো দেশি পেঁয়াজ ১২০ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ৮০ টাকা। দেশি মশুর ডাল ১৬০ টাকা, খেসারির ডাল ১০০ টাকা। দেশি আদা ১৭০-১৮০, চায়না আদা ২৪০ টাকা। দেশি রসুন ১০০, ভারতীয় ১৭০-১৮০ টাকা। বেসন ১০০-১৫০ টাকা।

মাছ-মাংসেও আগুন
গরুর মাংস কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৭৭০–৮০০ টাকা। খাসির মাংস ১২০০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি ১৮৫ টাকা হলেও সোনালি ও লেয়ার মুরগির দাম বেড়েছে। দেশি মুরগি ৬৬০ টাকা কেজি।
ইলিশ (৩০০ গ্রাম) ১০০০ টাকা কেজি। রুই ৪০০-৫৫০, চিংড়ি ৮০০-১৪০০, বোয়াল ৬০০–৮০০, পাবদা ৪০০-৪৫০, তেলাপিয়া ২০০ টাকা। দেশি শিং ও মাগুরের দাম ১০০০ টাকার কাছাকাছি।
ডিমে সামান্য স্বস্তি, তবুও চাপ
লাল ডিম ডজন ১০০-১১০ টাকা। হাঁসের ডিম ২০০ টাকা। দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা।
রমজান সংযম, সহমর্মিতা ও নৈতিকতার মাস। অথচ এই সময়েই বাজারে কৃত্রিম সংকট ও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ প্রতি বছরই শোনা যায়। ভোক্তারা বলছেন, এটি কেবল চাহিদা-সরবরাহের স্বাভাবিক সমীকরণ নয়; বরং অসাধু মজুতদারি ও দুর্বল বাজার তদারকির ফল।
সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছেন
- কেন রমজান এলেই দাম বাড়ে?
- কেন বাজার মনিটরিং কার্যকর হয় না?
- কেন ভোক্তারা বারবার পিষ্ট হবেন?
রমজানের পবিত্রতায় যদি ব্যবসায়িক নৈতিকতা প্রতিফলিত না হয়, তবে তা কেবল অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক অবক্ষয়েরও লক্ষণ। এখনই প্রয়োজন কঠোর নজরদারি, জবাবদিহি এবং দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা। অন্যথায় সংযমের মাসে সাধারণ মানুষের কষ্টই হয়ে উঠবে সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।


















