রবিবার উপকূল অতিক্রম করবে ঘূর্ণিঝড় মোখা
- আপডেট সময় : ১০:১৩:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ মে ২০২৩ ২২৬ বার পড়া হয়েছে
বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
শনিবার দুপুরে ঘূর্ণিঝড় মোখা চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৬০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৫২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।
এটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে রবিবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে কক্সবাজার-উত্তর মায়ানমার উপকূল অতিক্রম করতে পারে। শনিবার মধ্যরাত নাগাদ চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের উপকূলীয় এলাকায় অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রভাগের প্রভাব শুরু হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটার এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই বিক্ষুদ্ধ রয়েছে।
কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত, চট্টগ্রাম ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় মোখার এর প্রভাবে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ভোলা, লক্ষীপুর, বরগুণা উপকূল অঞ্চলে প্রায় ৩ মিটার জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে। রবিবার বাংলাদেশের চলমান এসএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, মোকা মোকাবিলায় সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, আনসার বাহিনীর সদস্য ছাড়াও মাঠ পর্যায়ের আধিকারীকদের ছুটি বাতি করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এলাকায় ১৬০০ আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শনিবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রকে আন্তমন্ত্রকের জরুরী বৈঠকে বসেন প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান। এসময় তিনি সাংবাদিক বলেন, কক্সবাজারে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত এবং চট্টগ্রাম ও পায়রা সমুদ্র বন্দরে ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করা হয়েছে। দুর্গত এলাকায় সকল রকমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ২০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক মাঠে রয়েছে।
প্রবল বর্সণে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি এলাকায় পাহাড় ধ্বসের আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বঅভাসে বলা হয়েছে, শনিবার দুপুরে উপকূল থেকে ৬৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৭০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান আন্তঃমন্ত্রকের আধীকারীকদের সঙ্গে জরুরী বৈঠক করেছেন।

অভ্যন্তরীণ সকল নৌযান এবং কক্সবাজারের বিমান ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়েছে। ঝড়ের সময় জল জমে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার শঙ্কা থাকায় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের কার্যক্রম বন্ধ রাখার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তাতে সাময়িক দুর্ভোগ সৃষ্টি করলেও মানুষের জীবন রক্ষা পাবে। তিনি আরও বলেন, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রগুলোকে প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৭০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে। আবহাওয়ার সর্বশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, মোখার প্রভাবে চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল বিভাগে সর্বোচ্চ ২৮৯ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টিতে নদনদীর জল বেড়ে গিয়ে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলার অনেক স্থান আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
কক্সবাজারে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারির পর বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছে পর্যটন নগরী। ৫৫টি হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টকে আশ্রয়কেন্দ্র করার কথা জানিয়েছে কক্সবাজার হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউজ মালিক সমিতি। যেখানে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে।



















