মিয়ানমার থেকে অস্ত্রের যোগান রোহিঙ্গা শিবিরে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ১০:৫২:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অক্টোবর ২০২১ ৩০৩ বার পড়া হয়েছে
ফাইল ছবি
বাংলাদেশের দক্ষিণের পর্যটন জেলা কক্সবাজারে প্রায় ৩৪টি রোঙ্গিা শিবির রয়েছে। এগুলো আশ্রয় কেন্দ্র বলা যেতে পারে। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনা বাহিনীর সদস্যদের নির্যাতনের
মুখে জীবন বাচাতে নাফ নদী পারি দিয়ে বাংলাদেশের টেকনাফ থানা এলাকায় পৌঁছে। এসব রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নারী সদস্যদের অনেকেই মিয়ানমারে শারীরীক নির্যাতনের পাশাপাশি বহু নারী-শিশুকে হত্যার অভিযোগও করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পূর্ণ মানবিক বিবেচনায় নির্যাতনের মুখে বাস্তুচ্যুত হয়ে আসা মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়েছেন।
এক পর্যায়ে রোহিঙ্গাদের মধ্যে একটি গোষ্ঠী নানা রকমের অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। ডাকাতি, মানুষদের জিম্মি, মাদক ইত্যাদি গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অনেকে। এরই
ধারাবাহিকতায় রোহিঙ্গা নেতা মহিবুল্লাহকে দিন চারেক আগে সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়ে হত্যা করে।
এ অবস্থায় বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান রবিবার বলেছেন, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা
শিবিরগুলোতে পরিস্থিতি অস্থির করতে মিয়ানমার থেকে অস্ত্র আসছে। এর আগেও এসেছে। রোহিঙ্গা শিবিরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। এদিন বিকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের
সম্মেলন কক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রাসঙ্গিক বিষয়ে সভা শেষে
সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, কক্সবাজারে খুন হওয়া রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহর হত্যাকারীদের শিগগির আইনের আওতায় আনা হবে। রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহকে গুলি করে
হত্যার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবিক কারণে আমরা মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্য রয়েছে।
পরিস্থিতিও বেশ ভালো। তবে এ স্থিতিশীল পরিস্থিতিকে অস্থির করতে মিয়ানমার থেকে অস্ত্র আসছে। এর আগেও বিভিন্ন গ্রুপে মারামারিও হয়েছে। যে নেতাকে হত্যা করা হয়েছে, তিনি
রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরাতে সোচ্চার ছিলেন। এ কারণেও এ হত্যাকাণ্ড হতে পারে। যারা এ হত্যাকাণ্ডে সঙ্গে জড়িত বা বিদেশি কোনো সংস্থা এর সঙ্গে জড়িত কিনা তা তদন্তের মাধ্যমে বেড়িয়ে আসবে।
রোহিঙ্গা শিবিরে আইন-শৃঙ্খলা এখন শিথিল বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা শিবিরের আইন-শৃঙ্খলা শিথিল হয়নি। আমরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চতুর্দিকে কাঁটাতারের বেড়া এবং ওয়াচ টাওয়ার
করছি, যার কাজ কিছুদিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে। রাস্তাঘাট তৈরি করছি। দুটি থানা মিলিয়ে ১১ লাখ লোক সেখানে বাসবাস করে। এত বিশাল জনগোষ্ঠীর সবকিছু মেইনটেইন করা খুব সহজ কাজ
নয়। তিনি বলেন, আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সেনাবাহিনী সমন্বিতভাবে ভালো কাজ করছে বলেই আইন-শৃঙ্খলা এখনও সঠিক রয়েছে। কক্সবাজার একটা পর্যটন এলাকা, সেখানে লাখ লাখ
পর্যটন যাচ্ছেন। সবকিছু মিলিয়ে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করছে বলেই সব কিছু ভালো অবস্থানে আছে।





















