মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৫৩ সদস্য বাংলাদেশের পুলিশ হেফাজতে
- আপডেট সময় : ০৬:৪১:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে
মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাতের জেরে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৫৩ সদস্য বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং সীমান্ত দিয়ে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
পুলিশ জানায়, সীমান্ত অতিক্রম করে আসা এসব সশস্ত্র সদস্য বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের বিজিবির হেফাজতে হস্তান্তর করা হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
এর আগে রোববার সকাল ৯টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমারের ভেতরে আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে অন্তত এক ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলি চলে।
হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক খোকন চন্দ্র রুদ্র জানান, সংঘর্ষের এক পর্যায়ে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা সীমান্তের শূন্যরেখার দিকে পিছু হটে অবস্থান নেয়। সকাল ৯টার দিকে পুনরায় উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়। এ সময় মিয়ানমার দিক থেকে ছোড়া একটি গুলি বাংলাদেশ সীমান্তের ভেতরে একটি বসতঘরে আঘাত হানে।
এতে আফনান (১০) নামে এক বাংলাদেশি শিশু গুলিবিদ্ধ হয়। সে একই এলাকার জসিম উদ্দিনের মেয়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও পরবর্তীতে তার মৃত্যু হয়।
বিজিবির কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, এখন পর্যন্ত ৫৩ জন রোহিঙ্গা ডাকাতকে আটক করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এ বিষয়ে সন্ধ্যায় বিস্তারিত ব্রিফিং দেওয়া হবে।
এদিকে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল জানান, মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে এক বাংলাদেশি শিশু নিহত হওয়ার খবরে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ করেন। প্রায় তিন ঘণ্টা পর প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।



















