মাদ্রাসায় বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত ভবন নারী-শিশুসহ আহত ৪, বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার
- আপডেট সময় : ০১:১৬:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ৫২ বার পড়া হয়েছে
বুড়িগঙ্গার দক্ষিণ তীরে কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় একটি মাদ্রাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণে মাদ্রাসা ভবনের একটি বড় অংশ বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশুসহ চারজন আহত হয়েছেন।
ঘটনার পর মাদ্রাসা ভবনের ভেতর থেকে বিস্ফোরক, ককটেল ও বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ, যা পুরো ঘটনায় রহস্যের জন্ম দিয়েছে।
শুক্রবার হাসনাবাদের উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় এ বিস্ফোরণ ঘটে। আহতরা হলেন, মাদ্রাসার পরিচালক শেখ আল আমিন (৩২), তার স্ত্রী আছিয়া বেগম (২৮) এবং তাদের দুই সন্তান উমায়েত (১০) ও আব্দুল্লাহ (৭)। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের দাবি, তাদের কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে মুফতি হারুন নামের এক ব্যক্তি বাড়ি ভাড়া নিয়ে মাদ্রাসাটি পরিচালনা শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি পরিচালনার দায়িত্ব তার শ্যালক শেখ আল আমিনের হাতে তুলে দেন।
মাদ্রাসা ভবনের পাশের একটি কক্ষে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছিলেন আল আমিন। মাদ্রাসাটিতে নিয়মিত প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করলেও শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির কারণে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ছিল।
ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, একটি মাদ্রাসায় বিস্ফোরণের ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে কিছু বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটসহ একাধিক সংস্থা বিষয়টি তদন্ত করছে।
তিনি আরও বলেন, বিস্ফোরণে মাদ্রাসার দুটি কক্ষের দেয়াল ধসে পড়েছে। ছাদ ও কলামে ফাটল দেখা দিয়েছে। পাশের আরেকটি ভবনেও ফাটল ধরেছে বলে ভবনের মালিক অভিযোগ করেছেন।
বাড়ির মালিক পারভীন বেগম জানান, মাদ্রাসার আড়ালে সেখানে অন্য কোনো কার্যক্রম চলছিল কি না সে বিষয়ে তার ধারণা নেই। শুক্রবার ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখেন ভবনের চারপাশ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ভবনের ভেতর থেকে কেমিক্যাল, ককটেল এবং বোমা তৈরির বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বিস্ফোরণটি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।
ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং মাদ্রাসার আড়ালে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলছিল কি না, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।



















