ঢাকা ১০:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এলপিজি সংকটে স্বস্তির উদ্যোগ: বাকিতে আমদানির সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক মাইন বিস্ফোরণে উড়ে গেল যুবকের পা, সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৫৩ সদস্য বাংলাদেশের  পুলিশ হেফাজতে যুক্তরাষ্ট্র ৬৬ আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে সরে যাওয়ায় বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগ বেনাপোল কাস্টমসে প্রথম ছয় মাসে ১ হাজার ১৩ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি জুলাই গণঅভ্যুত্থান হত্যাপ্রচেষ্টা মামলা, শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ নির্বাচনের মুখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সরকার ব্যর্থ : মির্জা ফখরুল শুল্কের চাপেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১৫.১৪% বৃদ্ধি নির্বাচনে সরকার কোনো রাজনৈতিক দলকে অতিরিক্ত বা বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে না: প্রেস সচিব সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও বান্ধবীর বিরুদ্ধে ২৫ কোটি টাকা চাঁদাবাজির মামলা

মাইন বিস্ফোরণে উড়ে গেল যুবকের পা, সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৯:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬ ৫৫ বার পড়া হয়েছে

মাইন বিস্ফোরণে উড়ে গেল যুবকের পা, সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে মো. হানিফ (২৮) নামের এক যুবকের বাঁ পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তিনি হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লম্বাবিল গ্রামের বাসিন্দা এবং ফজল করিমের ছেলে।  নাফ নদী-সংলগ্ন এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

সোমবার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হানিফ ব্যক্তিমালিকানাধীন একটি চিংড়িঘেরে কাজ করেন। সকালে খামারে রাখা নৌকার অবস্থা দেখতে গিয়ে হঠাৎ পুঁতে রাখা একটি স্থলমাইনের ওপর পা পড়লে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর বাঁ পা উড়ে যায়। বিস্ফোরণের শব্দ ও তাঁর আর্তচিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে।

গুরুতর আহত অবস্থায় হানিফকে উখিয়ার কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে নাফ নদীতে মাছ ধরা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সীমান্তের একাধিক সূত্র জানায়, রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলা ঠেকাতে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) নাফ নদীর মাঝখানে জেগে ওঠা কয়েকটি দ্বীপের চারপাশ এবং সীমান্তের নো ম্যানস ল্যান্ড এলাকায় নিষিদ্ধ স্থলমাইন পুঁতে রেখেছে। এর আগেও এসব এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশি জেলেসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক খোকন কান্তি রুদ্র ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নাফ নদী-সংলগ্ন একটি মৎস্যখামারে কাজ করার সময় স্থলমাইন বিস্ফোরণে ওই যুবকের বাঁ পা বিচ্ছিন্ন হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কয়েক দিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ ও গোলাগুলি চলছে। এ অবস্থায় সীমান্ত ও নদীর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার জন্য স্থানীয়দের সতর্ক করা হচ্ছে।

মাইন বিস্ফোরণে উড়ে গেল যুবকের পা, সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক
মাইন বিস্ফোরণে উড়ে গেল যুবকের পা, সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক

হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল জানান, গত চার দিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপ এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে।

গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত ওপার থেকে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

এ সময় ছোড়া গুলি, ড্রোন ও মর্টার শেলের অংশ হোয়াইক্যং সীমান্তের কিছু বসতঘর, চিংড়িঘের ও খোলা মাঠে এসে পড়েছে। এতে এক শিশুও গুলিবিদ্ধ হয়েছে, যার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

তিনি আরও বলেন, গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকে আজ বেলা দুইটা পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলির শব্দ না শোনা গেলেও পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে। যেকোনো সময় আবারও সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে, এই আশঙ্কায় সীমান্তবাসীরা চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই আতঙ্কে নির্ঘুম রাত পার করছেন।

বিজিবির কক্সবাজার সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়েছে। নাফ নদী ও সীমান্ত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মাইন বিস্ফোরণে উড়ে গেল যুবকের পা, সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক

আপডেট সময় : ০৬:৫৯:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে মো. হানিফ (২৮) নামের এক যুবকের বাঁ পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তিনি হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লম্বাবিল গ্রামের বাসিন্দা এবং ফজল করিমের ছেলে।  নাফ নদী-সংলগ্ন এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

সোমবার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হানিফ ব্যক্তিমালিকানাধীন একটি চিংড়িঘেরে কাজ করেন। সকালে খামারে রাখা নৌকার অবস্থা দেখতে গিয়ে হঠাৎ পুঁতে রাখা একটি স্থলমাইনের ওপর পা পড়লে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর বাঁ পা উড়ে যায়। বিস্ফোরণের শব্দ ও তাঁর আর্তচিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে।

গুরুতর আহত অবস্থায় হানিফকে উখিয়ার কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে নাফ নদীতে মাছ ধরা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সীমান্তের একাধিক সূত্র জানায়, রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলা ঠেকাতে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) নাফ নদীর মাঝখানে জেগে ওঠা কয়েকটি দ্বীপের চারপাশ এবং সীমান্তের নো ম্যানস ল্যান্ড এলাকায় নিষিদ্ধ স্থলমাইন পুঁতে রেখেছে। এর আগেও এসব এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশি জেলেসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক খোকন কান্তি রুদ্র ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নাফ নদী-সংলগ্ন একটি মৎস্যখামারে কাজ করার সময় স্থলমাইন বিস্ফোরণে ওই যুবকের বাঁ পা বিচ্ছিন্ন হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কয়েক দিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ ও গোলাগুলি চলছে। এ অবস্থায় সীমান্ত ও নদীর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার জন্য স্থানীয়দের সতর্ক করা হচ্ছে।

মাইন বিস্ফোরণে উড়ে গেল যুবকের পা, সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক
মাইন বিস্ফোরণে উড়ে গেল যুবকের পা, সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক

হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল জানান, গত চার দিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপ এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে।

গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত ওপার থেকে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

এ সময় ছোড়া গুলি, ড্রোন ও মর্টার শেলের অংশ হোয়াইক্যং সীমান্তের কিছু বসতঘর, চিংড়িঘের ও খোলা মাঠে এসে পড়েছে। এতে এক শিশুও গুলিবিদ্ধ হয়েছে, যার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

তিনি আরও বলেন, গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকে আজ বেলা দুইটা পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলির শব্দ না শোনা গেলেও পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে। যেকোনো সময় আবারও সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে, এই আশঙ্কায় সীমান্তবাসীরা চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই আতঙ্কে নির্ঘুম রাত পার করছেন।

বিজিবির কক্সবাজার সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়েছে। নাফ নদী ও সীমান্ত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।