মব ভায়োলেন্স বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি সেনাবাহিনীর
- আপডেট সময় : ০৮:৩৪:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫ ১৪৩ বার পড়া হয়েছে
গত তিন সপ্তাহে সেনা অভিযানে ৫৬টি অবৈধ অস্ত্র ও ৯৯০ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার ছাড়াও গত বছরের আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত ৯ হাজার ৬৬৭টি অবৈধ অস্ত্র ও ২ লাখ ৮৬ হাজার ৭৫৪ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার এবং ১৫ হাজার ২৬২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী। এর মধ্যে কিশোর গ্যাং, তালিকাভুক্ত অপরাধী, ডাকাতসহ অন্যান্য অপরাধী রয়েছে
জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে পারে এমন উচ্ছৃঙ্খল জনতার সহিংসতা তথা মব ভায়োলেন্স কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবার হুঁশিয়ারি দিলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অনেক মানুষকে পুশ ইন করছে ভারত।
এনিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে, সেনা সদরের মিলিটারি অপারেশনস ডাইরেক্টরেটের কর্নেল স্টাফ কর্নেল শফিকুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও কোস্টগার্ড সতর্ক রয়েছে। সীমান্তে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এই বিষয়ে এখনো সেনাবাহিনী অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়নি। বিজিবি ও কোস্টগার্ড বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।
বৃহস্পতিবার ব্রিফিংয়ে সেনা সদরের মিলিটারি অপারেশনস ডাইরেক্টরেটের কর্নেল স্টাফ কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মব ভায়োলেন্স, জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী যেকোনো পরিস্থিতির বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং করবে। আগের তুলনায় মব ভায়োলেন্স অনেকাংশে কমে এসেছে।
২৬-এর ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনসংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, আমরা এখনো সরকারের তরফে অফিশিয়ালি কোনো নির্দেশনা পাননি তারা। তবে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা নির্বাচনসংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করবে সেনাবাহিনী।
গত তিন সপ্তাহে সেনা অভিযানে ৫৬টি অবৈধ অস্ত্র ও ৯৯০ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার ছাড়াও গত বছরের আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত ৯ হাজার ৬৬৭টি অবৈধ অস্ত্র ও ২ লাখ ৮৬ হাজার ৭৫৪ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার এবং ১৫ হাজার ২৬২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী। এর মধ্যে কিশোর গ্যাং, তালিকাভুক্ত অপরাধী, ডাকাতসহ অন্যান্য অপরাধী রয়েছে।
শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনসহ একাধিক শীর্ষ সন্ত্রাসীকে সাম্প্রতিক সময়ে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের কোনো তালিকা করা হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নে কর্নেল শফিকুল ইসলাম বলেন, শীর্ষ সন্ত্রাসী বা যেকোনো অপরাধীকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়। শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
মাদকের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অভিযান চলমান আছে জানিয়ে ব্রিফিংয়ে বলা হয়, গত তিন সপ্তাহে ৪৫২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর গত আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৫ হাজার ৪৭৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ঈদুল আজহার আগে ও পরে দুই সপ্তাহে সেনাবাহিনী বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। জাতীয় মহাসড়কগুলোতে নির্বিঘ্নে যান চলাচল নিশ্চিত করতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, লঞ্চ টার্মিনাল ও মহাসড়কে দিন-রাত টহল পরিচালনা করেছে সেনাবাহিনী।
গাড়ির অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপনসহ টিকিট কালোবাজারি এবং বাড়তি মূল্যে টিকিট বিক্রয় রোধে সচেষ্ট ছিল সেনাবাহিনী। ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার অভিযোগ পেয়ে ১ হাজার ২৫৫টি যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয় এবং ৩৫ লাখ ২৬ হাজার ২৩৩ টাকা উদ্ধার করে যাত্রীদের ফেরত দেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের একটি প্রতিবেদনে আরাকান আর্মির উত্থানে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আক্রমণাত্মক ভূমিকা নিতে শুরু করেছে, এ বিষয়ে সেনা সদরের কোনো বক্তব্য আছে কি না—এমন প্রশ্নে কর্নেল শফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাছে এই মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য নেই।



















