ঢাকা ০৪:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চাউলের দাম বৃদ্ধির খবরে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রথানমন্ত্রীর নির্দেশ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ নয় জানতে চেয়ে হাই কোর্টের রুল সৌদিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি নির্দেশনা দূতাবাসের ঈদযাত্রা ঘিরে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু, টার্মিনাল ও স্টেশনে ভিড় দুবাই ছাড়তে ধনকুবেরদের হুড়োহুড়ি, প্রাইভেট জেটের ভাড়া কয়েক গুণ বৃদ্ধি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে গতি আনতে একমত ঢাকা-দিল্লি চাঁদাবাজি-ছিনতাই দমনে জিরো টলারেন্স: মাঠ পর্যায়ে কঠোর বার্তা আইজিপির কুয়েতে তিন মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত, কারণ জানাল যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের ‘নাম্বার ওয়ান প্রায়োরিটি’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি জাহানারা আরজু আর নেই

মনোনয়ন না পেয়ে রেলপথে আগুন, থমকে গেল রেল, বিপর্যস্ত জনজীবন

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৪৫:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৬৪ বার পড়া হয়েছে

মনোনয়ন না পেয়ে রেলপথে আগুন, রাজনীতিবিদদের দ্বন্দ্বে বিপর্যস্ত জনজীবন

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মনোনয়ন না পাওয়ার ক্ষোভে রেললাইনে আগুন এ যেন এখন রাজনীতির নতুন স্বাভাবিকতা। ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে রেলপথে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ফের বন্ধ হয়ে গেছে ময়মনসিংহ-ঢাকা রুটের ট্রেন চলাচল। রাজনৈতিক ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও মনোনয়ন কেন্দ্রিক অভ্যন্তরীণ কোন্দলের আগুনে পুড়ছে রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো, আর চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল সোয়া ৯টা থেকে নিরাপত্তাজনিত কারণে এই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। গফরগাঁও রেলওয়ে ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মো. গোলাম কিবরিয়া জানান, ভোরের দিকে বিক্ষুব্ধ লোকজন রেললাইনের ওপর টায়ার জ্বালিয়ে আগুন দেয়। পরে বিষয়টি নজরে এলে ট্রেন চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

এর আগে মাত্র রাত ১টা ২০ মিনিটে রেললাইন সচল হওয়ায় ৯ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক হয়েছিল ট্রেন চলাচল। কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষোভের আগুনে আবারও অচল হয়ে পড়ে গুরুত্বপূর্ণ এই রেলপথ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত পত্রে ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চুর প্রার্থিতা নিশ্চিত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

মনোনয়ন প্রত্যাশী দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান ও তার ভাতিজা দলের সদস্য মুশফিকুর রহমানের অনুসারীরা এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সহিংস কর্মসূচিতে নামেন।

বিকেলে পৌর শহরের বিভিন্ন সড়কে টায়ার জ্বালানো হয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা গফরগাঁও রেলস্টেশনে ঢুকে স্টেশন মাস্টারকে বের করে দিয়ে কক্ষ তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরে রেললাইনের ওপর টায়ার ও গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন ধরিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করা হয়।

এর ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে একের পর এক ট্রেন আটকে পড়ে। তিস্তা এক্সপ্রেস, দেওয়ানগঞ্জ ও জামালপুর কমিউটার, যমুনা, মহুয়া, অগ্নিবীণা ও জামালপুর এক্সপ্রেসসহ একাধিক ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে থমকে যায়। শত শত যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন-কারও কর্মস্থলে পৌঁছানো অনিশ্চিত হয়, কারও চিকিৎসা, কারও পরীক্ষা।

রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ মনোনয়ন দ্বন্দ্বের মাশুল কেন সাধারণ মানুষ দেবে-এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে গফরগাঁও থেকে ঢাকাগামী যাত্রীদের মুখে মুখে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস, জননিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলে রাজনৈতিক ফায়দা লুটের এই সংস্কৃতি বন্ধ না হলে এর দায় রাজনীতিবিদদেরই নিতে হবে, এমনটাই বলছেন সচেতন মহল।

মনোনয়ন নিয়ে ক্ষমতার লড়াইয়ে জনগণ যেন জিম্মি-গফরগাঁওয়ের রেললাইনে আগুন তারই নির্মম প্রমাণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মনোনয়ন না পেয়ে রেলপথে আগুন, থমকে গেল রেল, বিপর্যস্ত জনজীবন

আপডেট সময় : ১১:৪৫:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

মনোনয়ন না পাওয়ার ক্ষোভে রেললাইনে আগুন এ যেন এখন রাজনীতির নতুন স্বাভাবিকতা। ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে রেলপথে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ফের বন্ধ হয়ে গেছে ময়মনসিংহ-ঢাকা রুটের ট্রেন চলাচল। রাজনৈতিক ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও মনোনয়ন কেন্দ্রিক অভ্যন্তরীণ কোন্দলের আগুনে পুড়ছে রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো, আর চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল সোয়া ৯টা থেকে নিরাপত্তাজনিত কারণে এই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। গফরগাঁও রেলওয়ে ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মো. গোলাম কিবরিয়া জানান, ভোরের দিকে বিক্ষুব্ধ লোকজন রেললাইনের ওপর টায়ার জ্বালিয়ে আগুন দেয়। পরে বিষয়টি নজরে এলে ট্রেন চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

এর আগে মাত্র রাত ১টা ২০ মিনিটে রেললাইন সচল হওয়ায় ৯ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক হয়েছিল ট্রেন চলাচল। কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষোভের আগুনে আবারও অচল হয়ে পড়ে গুরুত্বপূর্ণ এই রেলপথ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত পত্রে ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চুর প্রার্থিতা নিশ্চিত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

মনোনয়ন প্রত্যাশী দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান ও তার ভাতিজা দলের সদস্য মুশফিকুর রহমানের অনুসারীরা এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সহিংস কর্মসূচিতে নামেন।

বিকেলে পৌর শহরের বিভিন্ন সড়কে টায়ার জ্বালানো হয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা গফরগাঁও রেলস্টেশনে ঢুকে স্টেশন মাস্টারকে বের করে দিয়ে কক্ষ তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরে রেললাইনের ওপর টায়ার ও গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন ধরিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করা হয়।

এর ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে একের পর এক ট্রেন আটকে পড়ে। তিস্তা এক্সপ্রেস, দেওয়ানগঞ্জ ও জামালপুর কমিউটার, যমুনা, মহুয়া, অগ্নিবীণা ও জামালপুর এক্সপ্রেসসহ একাধিক ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে থমকে যায়। শত শত যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন-কারও কর্মস্থলে পৌঁছানো অনিশ্চিত হয়, কারও চিকিৎসা, কারও পরীক্ষা।

রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ মনোনয়ন দ্বন্দ্বের মাশুল কেন সাধারণ মানুষ দেবে-এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে গফরগাঁও থেকে ঢাকাগামী যাত্রীদের মুখে মুখে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস, জননিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলে রাজনৈতিক ফায়দা লুটের এই সংস্কৃতি বন্ধ না হলে এর দায় রাজনীতিবিদদেরই নিতে হবে, এমনটাই বলছেন সচেতন মহল।

মনোনয়ন নিয়ে ক্ষমতার লড়াইয়ে জনগণ যেন জিম্মি-গফরগাঁওয়ের রেললাইনে আগুন তারই নির্মম প্রমাণ।