ঐতিহ্যে নতুন অধ্যায় : মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম বদলে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’
- আপডেট সময় : ০৭:৩২:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
আসন্ন বাংলা নববর্ষকে সামনে রেখে দীর্ঘদিনের পরিচিত ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র নাম পরিবর্তন করে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ সিদ্ধান্তের ফলে বহু বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি পরিচিত নাম বদলে যাচ্ছে, যা নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা–সমালোচনা শুরু হয়েছে।
রোববার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আমরা একে আর মঙ্গল শোভাযাত্রা বা আনন্দ শোভাযাত্রা বলব না।
এর নাম হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। মন্ত্রীর মতে, শোভাযাত্রার নাম নিয়ে চলমান বিতর্ক ও বিভাজন দূর করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সমাজে মতভিন্নতা থাকলেও তা বিভাজনে রূপ নেওয়া উচিত নয়। বরং বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য খুঁজে পাওয়া প্রয়োজন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার কোনো ধরনের মতভেদ বা সংঘাত চায় না; বরং সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে সবাইকে একত্রিত করতে চায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযয়ের চারুকলা অনুষদ আয়োজিত এই শোভাযাত্রা বাংলা নববর্ষ উদযাপনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।
এটি দীর্ঘদিন ধরে বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, লোকজ ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
গ্রামীণ কৃষক সমাজের ঐতিহ্য থেকে উৎসারিত এই আয়োজন সময়ের সঙ্গে নগর সংস্কৃতিতেও গভীর প্রভাব ফেলেছে।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী জানান, একাধিক আলোচনা ও পর্যালোচনার পরই নতুন নামটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, নতুন নামের এই শোভাযাত্রা আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সর্বজনীনভাবে আয়োজন করা হবে।
এতে অংশগ্রহণকারীরা তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য, গান, বাদ্যযন্ত্র ও পোশাকের মাধ্যমে বৈচিত্র্য তুলে ধরতে পারবেন।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বৈশাখী মেলার মতো নববর্ষ সংশ্লিষ্ট সব আয়োজনে ‘বৈশাখ’ শব্দটিকে প্রাধান্য দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তার ভাষায়, মানুষ তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক প্রকাশ নিয়ে এতে অংশ নেবে, যা একে আরও উৎসবমুখর ও সর্বজনীন করে তুলবে।
তবে নাম পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই ঐতিহ্যে ছেদ হিসেবে দেখছেন। বছরের পর বছর ধরে রাজপথে যে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ মানুষে মানুষে সম্প্রীতির সেতুবন্ধন তৈরি করেছে, তার পরিচিত নাম বদলে যাওয়ায় একধরনের আবেগ ও নস্টালজিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
সব মিলিয়ে, নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে সরকার একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার চেষ্টা করলেও, এটি বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক চর্চায় কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে।



















