ঢাকা ১১:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশ নিয়ম-ভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সমর্থন করে: তৌহিদ হোসেন প্রত্যেকটি অন্যায়ের বিচার চাইলে গণতান্ত্রিক সরকার অপরিহার্য, তারেক রহমান গোপালগঞ্জ-৩: প্রার্থিতা ফিরে পেলেন হিন্দু মহাজোটের গোবিন্দ প্রামানিক কাঁদছে জলহারা প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র, বুকে তার ধু ধু বালুচর ৫৬ পর্যবেক্ষক মোতায়েন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে  এখনই অতি সতর্কতার প্রয়োজন নেই: ইইউ ইরান ভেনেজুয়েলা নয়: ট্রাম্পের জন্য সহজ নয় জয়ের পথ গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে তারেক রহমান, মানবিক আবেগে ভরা মতবিনিময় সভা খালেদা জিয়াকে ‘স্লো পয়জন’ দেওয়া হয়েছিল: ডা. এফ এম সিদ্দিকীর গুরুতর অভিযোগ কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ: রংপুরে বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় সমাবেশ ২১ দিন লাশের সঙ্গে বসবাস: ঋণ-বিবাদে নৃশংসভাবে খুন মা ও কিশোরী মেয়ে

ভারতে বাড়ছে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি, জুলাই-আগস্টে ৩১ কোটি মার্কিন ডলার

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৩১:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২৭৬ বার পড়া হয়েছে

ভারতে পণ্যের রপ্তানি বাড়ছে জুলাই-আগস্টে ৩১ কোটি মার্কিন ডলার

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারতে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়ছে। নানা ধরণের প্রতিকুলতার পরও থেমে নেই বাংলাদেশের রপ্তানি। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট মাসে ভারতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির হয়েছে ৩১ কোটি ১৩ লাখ মার্কিন ডলার।

আগের অর্থবছরের একই সময়ে দেশটিতে ২৮ কোটি ৫৭ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। গেল বছরের তুলনায় ২ মাসেই রপ্তানি বেড়েছে ২ কোটি ৫৬ লাখ মার্কিন ডলার। ভারত থেকে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ আসে।

আর রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হিসাব বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত ছিল বাংলাদেশের অষ্টম বড় রপ্তানি বাজার। দেশটিতে এ বছর ১৭৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১২ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেশি।

ভারতে পণ্য রপ্তানি বাংলাদেশের সক্ষমতার প্রমাণ। নানা ধরণের বাধা সত্ত্বেও পণ্য রপ্তানিতে বিশেষ করে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে এগিয়ে বাংলাদেশ। চলমান প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাপারেল ভিলেজের পরিচালক মির্জা ফাইয়াজ হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ভারতের দিক থেকে নানা বিধিনিষেধের পরও যে রপ্তানি বাড়ছে। তৈরি পোশাকশিল্পে বিশ্বে চীনের পরই বাংলাদেশের অবস্থান।

বাংলাদেশের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজশিল্প অনেক উন্নতি করেছে, যেটি ভারতের নেই। পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রেতাবান্ধব। এসব কারণে বিধিনিষেধের পরও ক্রেতারা বাংলাদেশে আসছে।

চলতি বছর ভারত স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির ওপর বেশ কয়েকবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। গত ১৭ মে তৈরি পোশাকসহ ছয় ধরনের পণ্য স্থলপথে রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্য অধিদপ্তর ডিজিএফটি।

ভারতে পণ্যের রপ্তানি বাড়ছে জুলাই-আগস্টে ৩১ কোটি মার্কিন ডলার
ভারতে পণ্যের রপ্তানি বাড়ছে জুলাই-আগস্টে ৩১ কোটি মার্কিন ডলার

২৭ জুন পাট ও পাটজাতপণ্য, ওভেন পোশাক, প্লাস্টিকসহ আরও ৯টি পণ্য স্থলপথে রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দেশটির বাণিজ্য দপ্তর। তৃতীয় ধাপে ১১ আগস্ট ভারত আরও কয়েকটি পাটজাত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

ব্যবসায়ীরা জানান, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বাংলাদেশে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপপণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য, মাছ ও আসবাবের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। দেশটিতে মোট রপ্তানি আয়ের এক তৃতীয়াংশ আসে তৈরি পোশাক থেকে। আগে বেশির ভাগ পোশাক রপ্তানি হতো কলকাতা স্থলবন্দর দিয়ে।

এখন সমুদ্রপথে রপ্তানি হচ্ছে। বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা রয়েছে বলে ভারতের ক্রেতারা সমুদ্রপথের ব্যয় দিয়েই পণ্য নিচ্ছেন। নিষেধাজ্ঞার কারণে স্থলপথ নির্ভর পণ্য রপ্তানি কমেছে।

খাদ্যপণ্যের বড় রপ্তানিকারক প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। গ্রুপটি গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় এবার ভারতে ১৪ শতাংশ কম রপ্তানি করেছে (৩১ লাখ ৪৫ হাজার ডলার)। আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, ইফাদ মাল্টি প্রোডাক্টস, টি কে ফুড প্রোডাক্টস, হাশেম ফুডস লিমিটেডের মতো প্রতিষ্ঠানেরও রপ্তানি কমেছে।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল সংবাদমাধ্বযমকে বলেন, ঘুরপথে পণ্য পাঠাতে ৮ থেকে ৯ শতাংশ খরচ বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে এটা সমাধান করা উচিত। গত অর্থবছরে ভারতে মোট রপ্তানির ৮৩ শতাংশই করা হয় স্থলবন্দর দিয়ে। বাকি সাড়ে ১৬ শতাংশ নেয়া হয় সমুদ্রবন্দর দিয়ে। বিধিনিষেধের পর চট্টগ্রাম বন্দরে চাপ বেড়েছে।

ভারতে পণ্যের রপ্তানি বাড়ছে জুলাই-আগস্টে ৩১ কোটি মার্কিন ডলার
ভারতে পণ্যের রপ্তানি বাড়ছে জুলাই-আগস্টে ৩১ কোটি মার্কিন ডলার

স্থলবন্দর দিয়ে রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারতের বিধিনিষেধভুক্ত পণ্য যতটুকু রপ্তানি হয়েছে, জুলাইয়ে তার ৮৯ শতাংশ নেয়া হয়েছে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে। সমুদ্রবন্দর দিয়ে রপ্তানি বাড়তে থাকায় গত মাস থেকে বন্দরে কনটেইনারের চাপ বেড়েছে। বিধিনিষেধের আওতায় থাকা পণ্য স্থলবন্দর দিয়ে রপ্তানি হয়েছে ১১ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্যপণ্য শুধু ভোমরা ও হিলি স্থলবন্দর দিয়ে যাচ্ছে। বেনাপোল ও সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে প্লাস্টিক, আসবাব ও তুলার উপজাত রপ্তানি হচ্ছে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে বাণিজ্যের বাধা দূর করা উচিত। দুই দেশের জন্যই এটা লাভজনক। তিনি বলেন, এক মাসের চিত্র দিয়ে বাণিজ্য পরিস্থিতি ভবিষ্যতে কোথায় দাঁড়াবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাবে না।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই-আগস্টে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৬৬ লাখ ৬২ হাজার মার্কিন ডলারের। আগের বছরের একই সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ৮৫ লাখ মার্কিন ডলারের। পাটপণ্য রপ্তানি কমার পরও তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য পণ্যের চাহিদা বাড়ায় মোট রপ্তানি আয় বেড়েছে।

জুলাই-আগস্টে যেসব পণ্য ভারতে রপ্তানি হয়েছে তার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের নিট ও ওভেন পোশাক, সিমেন্ট, অ্যালুমিনিয়াম স্ক্র্যাপ, স্টেইনলেস স্টিল স্ক্র্যাপ, উডেন ফার্নিচার, দরজা, জানালার ফ্রেম, টেবিল, কিচেন আসবাব, সিংক বেসিন, টেবিল ওয়্যার, কিচেন ওয়্যার, মেশিনারি পার্টস, তাজা ও হিমায়িত মাছ, শুঁটকি মাছ, পটেটো ফ্ল্যাকস, পটোটো স্টার্চ, পরিশোধিত সয়াবিন তেল, পাম অয়েল, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড, সাবান, পলিমার ব্যাগ, স্লিপিং ব্যাগ, ইলেকট্রিক কনডাক্টর, প্লাস্টিক, টয়লেট-ফেসিয়াল টিস্যু, টাওয়েল, নেপকিন স্টক, পেপার অ্যান্ড পেপার বোর্ড, কটন ওয়েস্ট, কটন ইয়ার্ন এবং পাট ও পাটজাত পণ্য।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ভারতে বাড়ছে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি, জুলাই-আগস্টে ৩১ কোটি মার্কিন ডলার

আপডেট সময় : ০১:৩১:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ভারতে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়ছে। নানা ধরণের প্রতিকুলতার পরও থেমে নেই বাংলাদেশের রপ্তানি। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট মাসে ভারতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির হয়েছে ৩১ কোটি ১৩ লাখ মার্কিন ডলার।

আগের অর্থবছরের একই সময়ে দেশটিতে ২৮ কোটি ৫৭ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। গেল বছরের তুলনায় ২ মাসেই রপ্তানি বেড়েছে ২ কোটি ৫৬ লাখ মার্কিন ডলার। ভারত থেকে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ আসে।

আর রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হিসাব বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত ছিল বাংলাদেশের অষ্টম বড় রপ্তানি বাজার। দেশটিতে এ বছর ১৭৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১২ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেশি।

ভারতে পণ্য রপ্তানি বাংলাদেশের সক্ষমতার প্রমাণ। নানা ধরণের বাধা সত্ত্বেও পণ্য রপ্তানিতে বিশেষ করে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে এগিয়ে বাংলাদেশ। চলমান প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাপারেল ভিলেজের পরিচালক মির্জা ফাইয়াজ হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ভারতের দিক থেকে নানা বিধিনিষেধের পরও যে রপ্তানি বাড়ছে। তৈরি পোশাকশিল্পে বিশ্বে চীনের পরই বাংলাদেশের অবস্থান।

বাংলাদেশের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজশিল্প অনেক উন্নতি করেছে, যেটি ভারতের নেই। পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রেতাবান্ধব। এসব কারণে বিধিনিষেধের পরও ক্রেতারা বাংলাদেশে আসছে।

চলতি বছর ভারত স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির ওপর বেশ কয়েকবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। গত ১৭ মে তৈরি পোশাকসহ ছয় ধরনের পণ্য স্থলপথে রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্য অধিদপ্তর ডিজিএফটি।

ভারতে পণ্যের রপ্তানি বাড়ছে জুলাই-আগস্টে ৩১ কোটি মার্কিন ডলার
ভারতে পণ্যের রপ্তানি বাড়ছে জুলাই-আগস্টে ৩১ কোটি মার্কিন ডলার

২৭ জুন পাট ও পাটজাতপণ্য, ওভেন পোশাক, প্লাস্টিকসহ আরও ৯টি পণ্য স্থলপথে রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দেশটির বাণিজ্য দপ্তর। তৃতীয় ধাপে ১১ আগস্ট ভারত আরও কয়েকটি পাটজাত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

ব্যবসায়ীরা জানান, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বাংলাদেশে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপপণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য, মাছ ও আসবাবের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। দেশটিতে মোট রপ্তানি আয়ের এক তৃতীয়াংশ আসে তৈরি পোশাক থেকে। আগে বেশির ভাগ পোশাক রপ্তানি হতো কলকাতা স্থলবন্দর দিয়ে।

এখন সমুদ্রপথে রপ্তানি হচ্ছে। বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা রয়েছে বলে ভারতের ক্রেতারা সমুদ্রপথের ব্যয় দিয়েই পণ্য নিচ্ছেন। নিষেধাজ্ঞার কারণে স্থলপথ নির্ভর পণ্য রপ্তানি কমেছে।

খাদ্যপণ্যের বড় রপ্তানিকারক প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। গ্রুপটি গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় এবার ভারতে ১৪ শতাংশ কম রপ্তানি করেছে (৩১ লাখ ৪৫ হাজার ডলার)। আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, ইফাদ মাল্টি প্রোডাক্টস, টি কে ফুড প্রোডাক্টস, হাশেম ফুডস লিমিটেডের মতো প্রতিষ্ঠানেরও রপ্তানি কমেছে।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল সংবাদমাধ্বযমকে বলেন, ঘুরপথে পণ্য পাঠাতে ৮ থেকে ৯ শতাংশ খরচ বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে এটা সমাধান করা উচিত। গত অর্থবছরে ভারতে মোট রপ্তানির ৮৩ শতাংশই করা হয় স্থলবন্দর দিয়ে। বাকি সাড়ে ১৬ শতাংশ নেয়া হয় সমুদ্রবন্দর দিয়ে। বিধিনিষেধের পর চট্টগ্রাম বন্দরে চাপ বেড়েছে।

ভারতে পণ্যের রপ্তানি বাড়ছে জুলাই-আগস্টে ৩১ কোটি মার্কিন ডলার
ভারতে পণ্যের রপ্তানি বাড়ছে জুলাই-আগস্টে ৩১ কোটি মার্কিন ডলার

স্থলবন্দর দিয়ে রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারতের বিধিনিষেধভুক্ত পণ্য যতটুকু রপ্তানি হয়েছে, জুলাইয়ে তার ৮৯ শতাংশ নেয়া হয়েছে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে। সমুদ্রবন্দর দিয়ে রপ্তানি বাড়তে থাকায় গত মাস থেকে বন্দরে কনটেইনারের চাপ বেড়েছে। বিধিনিষেধের আওতায় থাকা পণ্য স্থলবন্দর দিয়ে রপ্তানি হয়েছে ১১ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্যপণ্য শুধু ভোমরা ও হিলি স্থলবন্দর দিয়ে যাচ্ছে। বেনাপোল ও সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে প্লাস্টিক, আসবাব ও তুলার উপজাত রপ্তানি হচ্ছে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে বাণিজ্যের বাধা দূর করা উচিত। দুই দেশের জন্যই এটা লাভজনক। তিনি বলেন, এক মাসের চিত্র দিয়ে বাণিজ্য পরিস্থিতি ভবিষ্যতে কোথায় দাঁড়াবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাবে না।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই-আগস্টে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৬৬ লাখ ৬২ হাজার মার্কিন ডলারের। আগের বছরের একই সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ৮৫ লাখ মার্কিন ডলারের। পাটপণ্য রপ্তানি কমার পরও তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য পণ্যের চাহিদা বাড়ায় মোট রপ্তানি আয় বেড়েছে।

জুলাই-আগস্টে যেসব পণ্য ভারতে রপ্তানি হয়েছে তার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের নিট ও ওভেন পোশাক, সিমেন্ট, অ্যালুমিনিয়াম স্ক্র্যাপ, স্টেইনলেস স্টিল স্ক্র্যাপ, উডেন ফার্নিচার, দরজা, জানালার ফ্রেম, টেবিল, কিচেন আসবাব, সিংক বেসিন, টেবিল ওয়্যার, কিচেন ওয়্যার, মেশিনারি পার্টস, তাজা ও হিমায়িত মাছ, শুঁটকি মাছ, পটেটো ফ্ল্যাকস, পটোটো স্টার্চ, পরিশোধিত সয়াবিন তেল, পাম অয়েল, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড, সাবান, পলিমার ব্যাগ, স্লিপিং ব্যাগ, ইলেকট্রিক কনডাক্টর, প্লাস্টিক, টয়লেট-ফেসিয়াল টিস্যু, টাওয়েল, নেপকিন স্টক, পেপার অ্যান্ড পেপার বোর্ড, কটন ওয়েস্ট, কটন ইয়ার্ন এবং পাট ও পাটজাত পণ্য।