বেনাপোল স্থল বন্দর সড়কের পাশে পুতিগন্ধময় পানিতে মশার উপদ্রপ
- আপডেট সময় : ০৩:২৫:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৪১৩ বার পড়া হয়েছে
জমে থাকা পানি ডেঙ্গু মশার আভাসস্থল
দেশজুড়ে ডেঙ্গুর থাবা, প্রায় দিনই মৃত্যু সংবাদ
আক্রান্তদের অধিকাংশই ঢাকার বাইরের
উদাসীন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ
আনিছুর রহমান, বেনাপোল
সর্বশেষ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছে ১৩৫ জন, যাদের মধ্যে ৭৩ জন পুরুষ ও ৬২ জন নারী। মোট আক্রান্তর সংখ্যা ৩৪ হাজার ৪১১ জন। যার মধ্যে ২০ হাজার ৫৯২ জন পুরুষ ও ১৩ হাজার ৮১৯ জন নারী।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৫৮০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আর আক্রান্তদের ৪১৫ জনই ঢাকার বাইরের।
বাংলাদেশের বৃহত্তম স্থল বন্দর বেনাপোল। বন্দরমুখো সড়কের ডান পাশের উচু ফুটপাতের নিচে জমে থাকা পানিতে নানা আবর্জনা মিশে গিয়ে পচন ধরেছে। ফুটপাতে বেহিসাবী দোকানীদের ছড়াছড়ি। তারা পানির খালি বোতল, ডাবের খোসা, পলিথিন ইত্যাদি ফেরার কারণে জমাটবাধা পানিতে গন্ধ ছড়াচ্ছে। এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ডেঙ্গুর মশার অভাসস্থল।
যখন দেশজুড়ে ডেঙ্গুর থাবা এবং প্রায় দিনই মৃত্যু সংবাদ আসছে, তখন বেনাপোল বন্দর সড়কের পাশে জমে থাকা পানির বিষয়ে উদাসীন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ!
বেনাপোল বন্দর দিয়ে দেশে আমদানি-রফতানির সিংহভাগ হয়ে থাকে না, এই পথে ভারতে ৯০ ভাগ বাংলাদেশি নাগরিক যাতায়ত করে থাকেন। কিন্ত দেশের প্রধান স্থল বন্দর এবং বেনাপোল প্রথম গ্রেডের পৌর সভা হওয়া সত্বেও অপরিচ্ছন্ন থাকায় দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে ভাবমুর্তি নষ্ট হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তার পাশে পানি জমে। যেখানে মশার অভাসস্থল হয়ে ওঠছে। এছাড়া মশা-মাচির উপদ্রপ বাড়ছে। খাবার দোকানে মাচির ছড়াছড়ি। এসব কারনে নানা ধরণের পেটের পীড়ার প্রার্দুভাব বাড়ছে।

রাস্তার পাশে ময়লা আবর্জনার মধ্যে পানি জমে থাকায় ভারতে যাতায়তকারী যাত্রীই নয়, বন্দরে নানা কাজে আসা মানুষও ভুক্তভোগী। অপর দিকে ভোররাত থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভারতগামী মানুষদের বাস বেনাপোলে আসতে থাকে। ইমিগ্রেশনের কাজ শুরু না হওয়া পর্যন্ত অনেকে বাসে থাকেন, আবার অনেকে বাস থেকে নেমে বিভিন্ন চায়ের দোকানে অপেক্ষা করেন। এসময় তারা মশার উপদ্রবে অতিষ্ট হয়ে ওঠেন। বাসে অপেক্ষামান মানুষজন শান্তি চোখ বুঝতে পারেন না মশার যন্ত্রণায়।
এদিকে প্রথম শ্রেনীর পৌরসভার পক্ষ থেকে বা স্থল বন্দর এর পক্ষ থেকেও মশার কোন স্প্রে করাও হচ্ছে না। অথচ সরকার এই বন্দর থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে থাকে। আবার সু-রক্ষার জন্য স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রী প্রতি সরকার নির্ধারিত ৫৭.২৬ টাকা আদায় করে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে খুচরা না যাত্রীর কাছ ৬০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। যাত্রী ছাড়াও বর্ষা মৌসুমে পৌর এলাকার বিভিন্ন জায়গায় জলাবদ্ধাতার সৃষ্টি হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে মশার উপদ্রপ বাড়ছে।
ঢাকা থেকে আসা ভারতগামী পাসপোর্ট যাত্রী অনিমা বাড়ৈ বলেন রাত ৪ টা নাগাদ তাদের বাসটি বেনাপোল পৌছায়। গাড়ি থেকে নেমে দীর্ঘক্ষণ দাড়িয়ে। কিন্তু মশার কামড়ে অতীষ্ঠ হয়ে ওঠেন তিনি।
বেনাপোলের স্থায়ী বাসিন্দা আল-আমিন বলেন ,স্প্রে, কয়েল এবং অ্যারোসল থেকে নির্গত ধোয়ায় শ্বাসকষ্ট হাপানি ও ব্রঙ্কাইটিসের সমস্যা বাড়াতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে মাথা ব্যথা বা চোখ জ্বালা করার মতো সমস্যাও দেখা দেয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বেনাপোল বাজারের ডাক্তার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, জমে থাকা পানি হচ্ছে মশার আভাসস্থল। মশার কামড়ে মানুষের শরীরে ম্যালেরিয়া রোগ যা ডেঙ্গু জ্বর। এই রোগের সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নিলে মানুষ মারা যায়। এবং মাছি বিভিন্ন খাবার নষ্ট করে দেয়। মাচি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জন্ম নেয় এবং বিভিন্ন ধরনের পচে যাওয়া জিনিসে বসবাস করে। সেই মাছি আবার বিভিন্ন খাবারেও বসে। ফলে নানা রোগবালাইয়ের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়ে থাকে।



















