বেনজীরের ফ্ল্যাটভর্তি বিলাসপণ্য, শেষ ঠিকানা ত্রাণ তহবি
- আপডেট সময় : ১২:৩৫:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০২ বার পড়া হয়েছে
দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের গুলশানের ফ্ল্যাট থেকে জব্দ করা বিপুল পরিমাণ পোশাক ও বিলাসপণ্যের সমারোহ দেখে তদন্তসংশ্লিষ্টরা বিস্মিত। সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো আধুনিক স্মার্ট শোরুমেও একসঙ্গে এত বৈচিত্র্যময় ও বিপুল পণ্যের মজুদ সচরাচর দেখা যায় না।
দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন রাজধানীর গুলশানের বিলাসবহুল চারটি ফ্ল্যাট থেকে জব্দ করা বিপুল পরিমাণ মালামাল সরকারি ত্রাণ তহবিলে জমা দেওয়া হয়েছে।
আদালতের নির্দেশনার পর এসব মালামাল নিলামের পরিবর্তে সরাসরি জনস্বার্থে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদক সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত (আদেশ নং-১৮) অনুযায়ী বাজেয়াপ্তকৃত মালামাল ত্রাণ তহবিলে দেওয়ার আবেদন করা হয়। আবাসিক এলাকায় প্রকাশ্য নিলাম আয়োজন করলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং বিপুল পরিমাণ কাপড় ও তৈজসপত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকায় এই আবেদন করা হয়েছিল।
আদালত তা মঞ্জুর করলে গত ১৪ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ভান্ডারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে মালামাল হস্তান্তরের জন্য চিঠি পাঠানো হয়।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুসারে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মালামাল ত্রাণ তহবিলে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
দুদকের তদন্তে গুলশানের ‘র্যাংকন আইকন টাওয়ার’-এর ১২/এ, ১২/বি, ১৩/এ ও ১৩/বি নম্বর চারটি ফ্ল্যাটে বিপুল পরিমাণ মূল্যবান সামগ্রী পাওয়া যায়। জব্দ তালিকার বড় অংশজুড়ে রয়েছে পোশাক। চারটি ফ্ল্যাট থেকে মোট ৫৮৩টি শাড়ি, ১১৯টি শার্ট, ১২৮টি পুরুষদের প্যান্ট ও ৩৩৫টি লেডিস প্যান্ট উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া বড় ও ছোট গেঞ্জি ও টি-শার্ট মিলিয়ে পাওয়া গেছে ১ হাজার ৩২৭টি পোশাক। পাঞ্জাবি ছিল ১১৮টি এবং স্যান্ডেল, কেডস ও জুতা পাওয়া গেছে ১৭৯ জোড়া।
শুধু পোশাক নয়, ফ্ল্যাটগুলোর রান্নাঘর ও স্টোর রুম থেকে উদ্ধার করা হয় দামি ইলেকট্রনিক্স ও গৃহস্থালি সামগ্রী। এর মধ্যে রয়েছে ওভেন, এয়ার ফ্রায়ার, ভ্যাকুয়াম ক্লিনার, কর্ডলেস টেলিফোন ও অন্যান্য ব্র্যান্ডেড যন্ত্রপাতি।
পাশাপাশি ধর্মীয় ও শৌখিন সামগ্রীরও সন্ধান মেলে। একটি নামাজের ঘর থেকে জব্দ করা হয় ৩২টি আতর, ১১টি জায়নামাজ ও ৪৮টি তসবিহ। পুলিশের লোগোযুক্ত মগ, শোপিস ও ট্রাভেল ট্রলিও তালিকাভুক্ত করা হয়।
দুদকের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সিরাজুল হকের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের কমিটি এসব মালামাল গ্রহণ ও হস্তান্তরের কাজ সম্পন্ন করে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নিলামযোগ্য কিছু নমুনা সংরক্ষণ করে বাকি সব মালামাল প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ভান্ডারে জমা দেওয়া হয়েছে।
দুদক বলছে, অভিযুক্ত সাবেক এই শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার অবৈধ আয়ের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ রাষ্ট্রীয় তহবিলে যুক্ত হওয়ায় তা সরাসরি জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হলো, যা দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।



















