বিশ্বনেতাদের পছন্দের খাবার ও পানীয়
- আপডেট সময় : ০৫:৪৬:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৩ ১৬৮ বার পড়া হয়েছে
উপরে বাঁ থেকে জো বাইডেন, ভ্লাদিমির পুতিন, এমানুয়েল মাখোঁ ও জাস্টিন ট্রুডো; নিচে বাঁ থেকে ফুমিও কিশিদা, দালাই লামা ও কিম জং-উন : ছবি সংগ্রহ
অনলাইন ডেস্ক
আলোচিত বিশ্বনেতাদের খাবার, পোষাক, চালচলন, লাইফ স্টাইল ইত্যাদি দৈনন্দিন কর্ম সম্পর্কে মানুষের জানার যথেষ্ট আগ্রহ। চলুন কয়েকজন বিশ্বনেতার পছন্দের খাবার সম্পর্কে জানা যাক।
জো বাইডেন
বাইডেনের হাতের নাগালে যেসব খাবার থাকতেই হয়। ৮০ বছরের জো বাইডেনের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। একধরনের ত্বকের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। মার্চ মাসে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার শরীর থেকে ক্ষতিকর টিস্যু অপসারণ করা হয়েছে। তবে আগে থেকেই স্বল্পাহারী তিনি। স্যুপ ও সালাদ দিয়ে দুপুরের খাবার সেরে নেওয়াটাই পছন্দ। আর রাতের খাবার হলো মারিনারা সস দিয়ে পাস্তা। মারিনারা সস একধরনের টমেটো সস, বানানো হয় টমেটো, রসুন, ভেষজ ও পেঁয়াজ দিয়ে।
ভ্লাদিমির পুতিন ফাইল ছবি
আইসক্রিম পছন্দ করা কোনো বিশ্বনেতার নাম যদি বলতে হয়, তবে সবার আগে আসবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কথা। এমনিতে জীবনচচর্চায় কঠোর নিয়মশৃঙ্খলার জন্য পরিচিত তিনি। পুতিনের সকালটা শুরু হয় একটু দেরিতে। কারণ, তিনি বেশ রাত অবধি কাজ করেন। সকালে উঠে ভারোত্তোলন করতে করতে রাশিয়ার খবরগুলো দেখা, এরপর দুই ঘণ্টা সাঁতার তার প্রাত্যহিক রুটিন। নাশতার পরে তিনি কফি ও জুস পান করেন। তীব্র ঠান্ডার মধ্যেও পুতিন আইসক্রিম খেয়ে থাকেন। তার প্রিয় ফ্লেবার হলো পিসটাশিও। সকাল-দুপুর-রাতে ভারী খাবার হিসেবে পুতিনের খাবারের ব্যাপারে কিছু জানা যায় না। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা প্রাভদা কিছুটা ইঙ্গিত দিয়ে জানায়, বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্রনায়ক পুতিনের খাবারের তালিকায় টমেটো, শসা ও লেটুসের আধিক্য থাকে। কেফির নামে দুধের তৈরি একটি পানীয় তার বিশেষ পছন্দ।
এমানুয়েল মাখোঁ
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর খাবার অবশ্যই ফরাসি হতে হবে। ২০১৭ সালে এলিসি প্রাসাদের প্রধান পাঁচক একবার তথ্য প্রকাশ করেন, প্রেসিডেন্টের খাবার টেবিলে ফরাসি ছাড়া অন্য কোনো খাবার পরিবেশন করা হয় না। ব্যতিক্রম বলতে শুধু কফি। এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার হলো ফলমূল, শাকসবজি ও দুগ্ধজাত খাবার। আর মাখোঁর নিজের পছন্দের খাবারটি হলো কর্ডন ব্লিউ। এটি ব্রেড ও চিজ দিয়ে মোড়ানো একটা মাংসের পদ। সে মাংস হতে হবে কচি বাছুর বা শূকরের। এর বাইরে ফরাসি প্রেসিডেন্টের পছন্দ কেবল ওয়াইন। তার ভাঁড়ারে ওয়াইনের বোতলের সংখ্যা অন্তত ১৪ হাজার। বলার অপেক্ষা রাখে না, সব ওয়াইনই ফরাসি সুবাসিত। এর মধ্যে সবচেয়ে পুরোনো সতের্ন নামে যে ওয়াইনটি, সেটি বানানো হয় ১৯০৬ সালে।
জাস্টিন ট্রুডোর
২০১৫ সালে কানাডার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর জাস্টিন ট্রুডোর ব্যক্তিগত অনেক বিষয় সামনে আসে। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কিছুদিন আগে হাফিংটন পোস্টের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে পছন্দের খাবার নিয়ে কথা বলেন ট্রুডো। তিনি কখনো কফি পান করেন না। পছন্দ করেন এশীয় খাবার। আর ওয়াইনের বদলে তার পছন্দ বিয়ার। মন্ট্রিলের সাকুরা গার্ডেন তার প্রিয় রেস্তোরাঁ। সাকুরা গার্ডেন একটি জাপানি রেস্তোরাঁ, যেটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৭৩ সালে। প্রতিষ্ঠাতা নরিকো ইশি, যিনি ছিলেন একজন পাঁচক। তার প্রিয় খাবার সুশি। চায়নিজ খাবার তার অনেক পছন্দ। কারণ, অনেকেই জানেন সুশি জাপানি খাবার হলেও এর শিকড় চীনের মাটিতেই প্রোথিত।
ফুমিও কিশিদা
জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা খুব একটা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন না। ২০২১ সালে নির্বাচনের রাতে টুইটারে খাবারের একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন তিনি। ছবিটিতে সাড়ে তিন লাখ লাইক পড়ে। ছবিটি দিয়ে কিশিদা লেখেন, ‘যখন আমি বাসায় থাকি, আমার স্ত্রী আমার জন্য ওকোনোমিয়াকি তৈরি করেন। কারণ, খাবারটি আমি পছন্দ করি।’ ওকোনোমিয়াকি একটা সুস্বাদু প্যানকেক। এটি তৈরি করার প্রধান দুটি উপাদান হলো বাঁধাকপি ও আটা। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ডিম ও শূকরের মাংস। ভাজার পর কেকের ওপরে হালকা মিষ্টি সস দেওয়া হয়। তবে ওসাকা, হিরোশিমাসহ স্থানভেদে খাবারটি তৈরির উপকরণের রকমফের ঘটে।
দালাই লামা
বেশির ভাগ মানুষ যখন সকালে ঘুম থেকে ওঠেন, তার আগেই দালাই লামার নাশতা করা সম্পন্ন হয়ে যায়। সকালে তিনি পরিজ, ব্রেড, চা ও সামপা খেয়ে থাকেন। বার্লির সঙ্গে ইয়াকের দুধ মিশিয়ে তৈরি করা হয় সামপা। সাধারণত সন্ধ্যার পরে ভারী কিছু খান না তিব্বতের এই আধ্যাত্মিক নেতা। দুপুরে খেয়ে থাকেন নুডলস স্যুপ। এই খাবারের বড় ভক্ত তিনি। সন্ধ্যায় পান করেন কেবল চা। দালাই লামা ১৯৫৯ সাল থেকেই নিরামিষ খাবার বেছে নেন। কারণ, বৌদ্ধধর্মের বিশ্বাসমতে প্রাণী হত্যা মহাপাপ। কিন্তু পুরোপুরি নিরামিষাশী হিসেবে তিনি টিকতে পারেন মাত্র ২০ মাস। এরপরই তিনি হেপাটাইটিস ও গলব্লাডারের রোগে আক্রান্ত হন। তখন চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে আবার মাংস খাওয়া শুরু করতে হয়। মঙ্গোলিয়া থেকে অ্যালকোহল হটাতে তিনি ভূমিকা রেখেছেন। সেটা গত শতকের নব্বই দশকের কথা। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে গেল। প্রতিবেশী দেশগুলোতে তীব্র অর্থনৈতিক সংকট। মঙ্গোলিয়ায় মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেল ২৫০ শতাংশের ওপরে। মঙ্গোলিয়ানরা তবু রাশিয়ান ভদকা ছাড়ে না। তখন তিনি তাদের ভদকা ছেড়ে ঘোড়ার দুধ পানের পরামর্শ দিলেন। এটা তারা গ্রহণ করল।
কিম জং উন
উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন ব্যক্তিগত অনেক কিছু গোপন রাখলেও পছন্দের খাবারের কথা সব সময় খোলাসা করেছেন। সাধারণত উত্তর কোরীয়রা ভাত, কিমচি (বিভিন্ন শাকসবজি দিয়ে তৈরি একটি পদ), তফু, সবজি খেলেও কিম জং-উন তা পছন্দ করেন না। বিদেশি খাবারই তাঁর পছন্দ। তাঁর পছন্দের একটি খাবারের নাম ইমেনটাল। হলুদ রঙের এ চিজ আসে সুইজারল্যান্ড থেকে। এর বাইরে সুশি এবং টুনা মাছের চর্বিবহুল পেটের অংশ দিয়ে তৈরি একধরনের রোল তার পছন্দ। পানীয়র ক্ষেত্রে ব্রাজিলিয়ান কফি কিম জং-উনের বিশেষ পছন্দ। অ্যালকোহলযুক্ত তার পছন্দের পানীয়র মধ্যে রয়েছে রুশ ভদকা, ক্রিস্টাল শ্যাম্পেন, হেনেশি কগন্যাক ও বর্ডিয়াক্স ওয়াইন।



















