বিশ্বজুড়ে পানিবণ্টন নিয়ে বাড়ছে উত্তেজনা, বাংলাদেশ-ভারত নিয়ে শঙ্কা
- আপডেট সময় : ০৬:১৪:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ১০৬ বার পড়া হয়েছে
২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে আন্তঃসীমান্ত পানিবণ্টন ইস্যু আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা। বৈশ্বিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পৃথিবীর মোট স্বাদুপানির প্রায় ৬০ শতাংশই এক দেশের সীমান্ত পেরিয়ে অন্য দেশে প্রবাহিত হয়। কিন্তু এসব পানিসম্পদ যৌথভাবে ব্যবস্থাপনার জন্য মাত্র এক–তৃতীয়াংশ দেশের মধ্যে কার্যকর চুক্তি রয়েছে।
বিদ্যমান চুক্তিগুলোর অনেকগুলোই এখন বিরোধ, অবিশ্বাস ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মুখে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২৬ সালে যদি এসব পানিবণ্টন চুক্তির কোনোটি ভেঙে পড়ে বা অকার্যকর হয়ে যায়, তবে তার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মধ্যে উত্তেজনার লক্ষণ স্পষ্ট।
১৯৪৪ সালের একটি পানিবণ্টন চুক্তির আওতায় সরবরাহসংক্রান্ত দায়বদ্ধতা আদায়ে চাপ তৈরি করতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোয় পানির প্রবাহ সীমিত করা হয়। দীর্ঘদিনের খরায় বিপর্যস্ত মেক্সিকোর জন্য এটি বড় সংকট তৈরি করেছে।
এই ঘটনা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে পানিকে কেন্দ্র করে আন্তঃরাষ্ট্রীয় বিরোধ কতটা তীব্র হতে পারে, তার একটি দৃষ্টান্ত।
মধ্যপ্রাচ্যেও পানিবণ্টন পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। গাজায় চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল ও জর্ডানের মধ্যে পানিসরবরাহসংক্রান্ত সমঝোতাগুলো অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। পানিসঙ্কট সেখানে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।

তবে ২০২৬ সালে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসতে পারে দক্ষিণ এশিয়া। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গা নদীর পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ এ বছরই শেষ হচ্ছে। ফলে চুক্তি নবায়ন হবে কি না, এবং কোন শর্তে হবে, সে দিকে আন্তর্জাতিক মহলের নজর থাকবে।
গঙ্গার পানি বাংলাদেশের সেচ, কৃষি ও জীবিকায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন শুষ্ক মৌসুমে। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই এই সময়ে ন্যায্য হিস্যা প্রত্যাশা করে আসছে, তবে ভারত সেই দাবিতে কতটা সহযোগিতা করবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
এরই মধ্যে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক নানা কারণে চাপে রয়েছে। অতীতে পাকিস্তানের সঙ্গে একটি পানিবণ্টন চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার মাধ্যমে ভারত যে পানি ও রাজনীতিকে একসূত্রে গাঁথতে প্রস্তুত, সেই বার্তাও আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হয়েছে।
এমন বাস্তবতায় ভারতের দিক থেকে পানিপ্রবাহ কমে গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে কৃষিখাত ও বস্ত্রশিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। ফলে ২০২৬ সালে বাংলাদেশ–ভারত পানিবণ্টন চুক্তি শুধু কূটনৈতিক নয়, বরং অর্থনৈতিক ও মানবিক দিক থেকেও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে যাচ্ছে।



















