বিএনপি চাইলে আমার নেতাকর্মীদেরও দলে নিতে হবে: রুমিন ফারহানা
- আপডেট সময় : ১১:৫৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনে জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা বলেছেন, বিএনপি যদি ভবিষ্যতে তাকে দলে ফিরিয়ে নিতে চায়, তবে তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদেরও দলে নিতে হবে।
শুক্রবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় নিজের নির্বাচনী প্রতীক ‘হাঁস’ সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত হন তিনি।
এবারের নির্বাচনে ‘হাঁস’ প্রতীক নিয়ে অংশ নিয়ে তিনি ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, বিএনপি–জোট সমর্থিত প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবীব খেজুর গাছ প্রতীক নিয়ে পান ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়ায় ৩৮ হাজারেরও বেশি।
সংবাদ সম্মেলনে রুমিন ফারহানা প্রতীকের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত আবেগের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই হাঁস–মুরগি ও কবুতর পালনের শখ ছিল তার। পারিবারিক কারণে শহুরে জীবনে চলে গেলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফিরে আবার সেই পুরোনো অভ্যাসে ফিরেছেন। অবসর সময় কাটান হাঁস–মুরগির সঙ্গেই। সেখান থেকেই ‘হাঁস’ প্রতীক বেছে নেওয়ার অনুপ্রেরণা পান।
জয়ের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি থেকে বহিষ্কারের পর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা সহজ ছিল না। তার চেয়েও কঠিন সময় পার করেছেন তার নেতাকর্মীরা। গত ১৭ বছর ধরে তারা ত্যাগ ও পরিশ্রম করেছেন; অনেকে ঘরে থাকতে পারেননি, বহিষ্কারের মুখে পড়েছেন।
তিনি বলেন, আমি না জিতলে হয়তো আবার ঢাকায় ফিরে পেশায় যোগ দিতাম। কিন্তু আমার কর্মীরা কোথায় যেত? তাদের এই ভালোবাসার ঋণ কীভাবে শোধ করব?
ভোটগ্রহণের দিন অনিয়মের অভিযোগও তোলেন তিনি। দাবি করেন, দুপুরের পর কয়েকটি কেন্দ্রে ভোট কারচুপির চেষ্টা ও ফলাফল বিলম্বিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। জালিয়াপাড়া কেন্দ্রে গিয়ে তিনি নিজেই পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন বলে জানান।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলীয় প্রার্থী না হওয়ায় নিজের রাজনৈতিক অবস্থান টিকিয়ে রাখতে হলে কাজের বিকল্প নেই। “আবার যদি ভোটে দাঁড়াতে হয়, কাজই হবে একমাত্র ভরসা, যোগ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর তিনি বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন। একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য ও দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক ছিলেন তিনি। সম্প্রতি বিএনপি–জোটের প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করায় সরাইল উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের ১০ নেতাকেও বহিষ্কার করা হয়।

















